শিরোনাম

গাজীপুরে নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:১৩, মে ২২, ২০১৮

খুলনার মতো গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য গাজীপুরের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কে প্রার্থী, সেটি বিবেচনা না করে দলের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে একসঙ্গে গিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনার সময় গাজীপুরের সংসদ সদস্য ও সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, জাহিদ আহসান রাসেল (গাজীপুরের অন্য সংসদ সদস্য) বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি যেন এই নির্দেশ মতো কাজ করেন, তা তাকে বলার জন্য উপস্থিত দুই মন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে খুলনা সিটি করপোরেশনের মতো গাজীপুরেও নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হবেন। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের উদ্দেশে বলেন, কে প্রার্থী হবেন, তা বিবেচনায় আনার প্রয়োজন নাই। নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করুন। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের নির্বাচনে যেন নৌকা মার্কার প্রার্থী বিজয়ী হন, সেজন্য আপনার নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদেরও এই নির্বাচনের কাজে যুক্ত করুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খলেকের ব্যক্তিগত ইমেজ, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ কর্মকা-ই বিজয় এনেছে। একইভাবে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।পাশাপাশি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সন পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে জাতীয় পার্টি যেভাবে বিএনপির মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীদের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সে বিষয়টি কেন জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে না, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের কাছে তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিভিন্ন সভাসমাবেশে বলছেন।

৭৫ হাজার টাকার মোবাইল সেট পাবেন মন্ত্রী-সচিবরা: মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবরা পাবেন ৭৫ হাজার টাকা মোবাইল সেট। ভালো মানের এনড্রয়েড সেট ক্রয় করতে কমপক্ষে ৭৫ হাজার টাকার নিচে সম্ভব নয় তাই তাদের জন্য এ টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত ‘সরকারি টেলিফোন, সেলুলার, ফ্যাক্স ও ইন্টারনেট নীতিমালা ২০১৮’ এর খসড়া অমুনোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিং এ মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা ২০০৪ সাল থেকে ছিল। নীতিমালাটি সংশোধন করে আইন আকারে করা হচ্ছে। নীতিমালায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মোবাইল বরাদ্দের সুযোগ ছিল না। এ আইনে তা যুক্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই ঠিক করা হয়নি তাদের কত টাকা মূল্যের মোবাইল সেট দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এ আইনের সাথে তা যুক্ত করা হবে। শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবদের জন্য মোবাইল বিল নির্ধারিত নয়। পোষ্ট-পেইড পদ্ধতিতে সরকারি কোষাগার থেকে তাদের মোবাইলের মাসিক বিল পরিশোধ করা হবে। তবে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিবদের জন্য মোবাইল বিল বাড়ানো হয়েছে এ আইনে। আগে তাদের প্রতি মাসে বিল বাবদ প্রদান করা হতো ৬০০ টাকা। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০০ টাকা। তবে এ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মোবাইল সেট প্রদান করবে না সরকার। এর আগে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিবদের জন্য মোবাইল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার টাকা। তা বাড়িয়ে করা হলো ৭৫ হাজার টাকা। যোগ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়াও গতকাল মন্ত্রিসভায় ‘হাউজিং এ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট আইন ২০১৭’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুামোদন দেওয়া হয়েছে। আইনটি ১৯৭৫ সালের একটি আইন। এটিকে বাংলায় রুপান্তর করা হয়েছে। তবে পরিবর্তিত ৬ ধারায় বলা হয়েছে এ আইনে ইন্সটিটিউট পরিচালনার জন্য একটি পরিষদ থাকবে। পরিষদের প্রধান থাকবেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকবে ঐ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রি। তবে সদস্য সচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত