শিরোনাম

‘তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, নাগরিকত্ব ছাড়েন নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:৫২, এপ্রিল ২৪, ২০১৮

দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবন নিরাপদ নয়। তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরে সাময়িকভাবে পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। দেশের নাগরিকত্ব ছাড়েন নি। অপরাজনীতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৪এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সবাদ সম্মেলনে একথা জানান দলটির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, পাসপোর্ট আর নাগরিকত্ব এক নয়। তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। পাসপোর্ট জমা রাখলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয় না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনি। তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় শাহরিয়ার আলমকে দেওয়া আইনি নোটিশের জবাব জানার জন্য দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, কী কী কারণে একজন নাগরিক জন্মসূত্রেপ্রাপ্ত নাগরিকত্ব হারাতে পারে এটাও যিনি জানেন না তেমন একজন ব্যক্তির শুধু এ ধরনের অনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী পদে থাকা সম্ভব এবং তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।

শাহরিয়ার আলমের প্রদর্শিত কাগজে ১৩টি ভুল দেখিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ওই চিঠিতে লেখা আছে ‘বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি’ মূলত কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে হাই কমিশন বলা হয়। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে জানাতে চাই তারেক রহমান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের গর্বিত একজন নাগরিক। তিনি তার প্রিয় এই দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

কাগজটি তৈরি করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সেটা এখনই বলছি না, তবে আমরা জানার চেষ্টা করছি, ব্রিটিশ হোম অফিস এমন কোনো চিঠি দিয়েছে কি না।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারিরীক অবস্থা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনো কিছু জানতে পারিনি।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের শুরুতে গ্রেপ্তার তারেক রহমান ২০০৮ সালের শেষের দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান চিকিৎসার জন্য। জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশে ফেরেননি।

এর মধ্যে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। আর ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, স্ত্রী জোবাইদা ও মেয়ে জাইমার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জমা দেন। তার সেই পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

গত পাঁচ বছরেও তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট নবায়নে বা হাতে লেখা পাসপোর্টের বদলে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেননি।গত ২১ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া এক সংবর্ধনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট বর্জন করেছেন।

রোবাবর এই বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে তারেকের জমা দেয়া পাসপোর্ট প্রদর্শনের চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়। একই দিন তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং তার বক্তব্য ছাপা হওয়া দুই পত্রিকা কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদককে পাঠানো হয় আইনি নোটিশ। আর দেশে ফিরে একই দিন তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা দেয়ার নথি দেখান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

পাসপোর্ট হস্তান্তর করার অর্থই কি নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি এটাই মনে করব। বিদেশে আপনার পরিচয়- আপনার পাসপোর্ট। সেই পাসপোর্টটিই যখন আপনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তার অর্থ আপনি নাগরিকত্ব ক্লেইম করছেন না... আপনার কাছে একটাই পরিচয়পত্র ছিল, আপনি তা হস্তান্তর করে দিয়েছেন, এটা কী বোঝায়?’

তবে বিএনপি মহাসচিব আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারেক রহমান তার এই প্রিয় দেশের নাগরিক ছিলেন, আছেন থাকবেন।’ ‘তার (তারেক) নাগরিকত্ব বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অদ্ভুত,যুক্তিহীন ও বেআইনি।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত