শিরোনাম

ঢাকা উত্তরে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই : রিজভী

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৪:৩৫, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশের কোনো আলামত নেই বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সেইসাথে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে ভয় ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি-ডিএনসিসি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে দ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির উদ্যোগ নিন। রাজনৈতিক সহাবস্থান তৈরী করার পদক্ষেপ নিন। ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকরা যাতে নির্ভয়ে নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে সে ব্যবস্থা নিন। কারণ নির্বাচনী মাঠে এখনো সুষ্ঠু পরিবেশের কোনো আলামত নেই। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ডিএনসিসি নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে গতরাতে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে তরুণ, সমাজসেবক, দেশ-বিদেশে উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্ত ও বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তাবিথ আউয়ালকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিগত নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেসময় তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন। ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার প্রচারণায় মুগ্ধ হয়েছিলেন ঢাকাবাসী।

কিন্তু যদি বিগত নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতো, যদি ভোট ডাকাতি না হতো তাহলে তাবিথ আউয়াল বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। কেননা ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা ভোটের বাকি সময়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহৌৎসব চালিয়ে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় মাত্র অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে এবার যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হয় তাহলে তাবিথ আউয়াল জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি ডিএনসিসি নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল এর পক্ষে ২০ দলীয় জোটসহ সাধারণ জনগণকে তার পাশে দাঁড়াতে ও ভোট দিতে আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বর্তমান দুঃসময়ে জনগণ যেভাবে যখন তখন আতঙ্কের শিহরণ অনুভব করছে, দেশে চারিদিকে যে অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান, যেভাবে লোভ-লালসা, ব্যাংক ডাকাতি, রাহাজানি, আর্থিক খাতে লুটপাট অনন্ত চলমান রাখা হয়েছে, নারীরা যেভাবে লাঞ্ছিত ও পৈশাচিকতার শিকার হচ্ছেন, যেভাবে শিশুরাও পাশবিকতার শিকার হচ্ছে, যেভাবে গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের হিড়িক চলছে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে যেভাবে জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে, বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে যেভাবে গ্রেফতার ও অত্যাচার-নির্যাতনের হিড়িক চলছে, যেভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে হচ্ছে ও প্রতিদিন তাকে জামিন নিতে হচ্ছে, এসমস্ত অনাচারমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকার আদৌ সুষ্ঠু করবে কী না তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। বর্তমান সিইসি আবারো আরেকটি নীল নকশা ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন সম্পন্ন করে কী না সে প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। বর্তমান ইসির অধীনে সাম্প্রতিক কালের নির্বাচন গুলো হয়েছে সেরা প্রহসন।

‘নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি.......’, গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তার কানে সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু জাতি বারবার বিএনপিসহ বিরোধী দলের সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনেছে যে, বর্তমান সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীকে বহাল রেখে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সঙ্কীর্ণ দলীয় চিন্তার বাইরে এক ধাপও ফেলেন না। বিরোধী দলকে তিনি শত্রুজ্ঞান করেন এবং বিরোধী মত ও সমালোচনায় তিনি অস্থির হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সুতরাং এধরনের মনোবৃত্তির প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কখনোই কোন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।

বিএনপির র্শীষ এই নেতা বলেন, বিদেশীদের দয়ার দান আজকের প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে কখনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। একদেশদর্শী প্রধানমন্ত্রীর কোনো গণতান্ত্রিক চেতনা নেই। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি উনার আস্থা নেই। জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। আর গণতান্ত্রিক চেতনা ছাড়া মানবিকতা, সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছে, তবে সব ঠিক হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের সকল প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০ দলীয় জোটে নিশ্চিত থাকেন তাবিথ আউয়ালই জোটের একক প্রার্থী থাকবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত