শিরোনাম

নির্বাচন আর রোহিঙ্গাকে এক সঙ্গে মেলানোর যুক্তি নেই

বললেন যুবলীগ চেয়ারম্যান
প্রিন্ট সংস্করণ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:৪৭, নভেম্বর ০৭, ২০১৭

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের অক্টোবর মাসেও রোড শো করেছিল আবার ২০১৭ সালেও রোড মার্চ রোড ক্যু করলো বিএনপি। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সুস্থতা কামনা করে গতকাল সোমবার বাদ আসর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, নির্বাচন আর রোহিঙ্গাকে একসঙ্গে মেলানোর কোনো যুক্তি নেই। রোহিঙ্গা শিবির পর্যন্ত গেলেন গাড়িবহর নিয়ে পথে পথে লোক
জড়ো হলো। কিন্তু তাদের ব্যানারে দেখা গেল তারা সকলে মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পথে পথে কর্মী সমাবেশ করলেন। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ১টি ব্যানার বা ফেস্টুন দেখা গেল না। এমনকি পথে পথে নেত্রীর সঙ্গে রিলিফ নিয়েও এগিয়ে এলেন না কেউ। ধন্যবাদ জনাব উখিয়ার নেতাদের স্মাটনেসকে। উখিয়ার নেতারা বিএনপিকে চিনতে পেরেছেন। বেগম জিয়া কোলে নেবেন তাই নতুন জামা কাপড় পরিয়ে একটি শিশুকে আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলেন। বেগম জিয়া কোলে নিলেন। বিএনপি জিয়া সুন্দর হাসি মুখ করে আদর করলেন। বেগম জিয়ার হাসিমুখ দেখে নেতাকর্মীরা সকলে হাসিতে উচ্ছল হয়ে ওঠেন। সে কি হাসি। যেন তাদের ঘরে একটি নবজাতক এসেছে। সকলে ভুলে গেলেন এরা ক্যাম্পের শিশু। নির্যাতিত শুধু নয়। দেশহারা মানুষ। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আজও বেঁচে আছে। একটি পথহারা, দেশহারা, মা-হারা শিশুকে নিয়ে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ রেহানার পুত্রবধূ গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা ওই বেদনার্ত মুখ দেখে গার্ডিয়ান তাকে মাদার অব হিউমিনিটি (মানবতার জননী) বলে আখ্যায়িত করেছে। আর বেগম জিয়া কিছুক্ষণের জন্য হলেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার নেতাদের হাসির বন্যা এনেছিল, এ জন্য তাকে আনন্দময়ী নেত্রী হিসেব আখ্যায়িত করার দাবি জানান তিনি।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ৪৭ বছর পর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য বা গ্লোবাল হেরিটেজ ৭ মার্চের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রেরণা। ৭ মার্চের ভাষণ সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বজ্রতুল্য ঘোষণা। ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্বসম্পদ। দুনিয়াব্যাপী গবেষণা হবে। তরুণ সমাজের জ্ঞানান্বেষণের মনে স্থান পাবে। পৃথিবীর মানুষের তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্যের মর্যাদার লাভ করে। ৭ মার্চের ভাষণ আন্দোলিত করার ভাষণ। অনেক নেতাই দিতে পারেন কিন্তু ভাষণের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের নজির বিরল। ৭ মার্চের ভাষণ অলিখিত সম্পূর্ণ এক্সটেম্পোর একটি ভাষণ। পৃথিবীর প্রত্যাশিত ভাষণ। ৭ মার্চের ভাষণ নিরস্ত্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। মাত্র ১৯ মিনিটের ১০৯৫ শব্দের একটি ভাষণ রচনা করলো নতুন ইতিহাস। একটিমাত্র ভাষণ নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করলো। অমর কবিতা হয়ে ছড়িয়ে পড়লো সারাবিশ্বে। পৃথিবীর গুরুত্বপর্ণ দালিলিক ঐতিহ্য হলো। আসলে বুকে জমা কথাগুলোই বলেছিলেন মুজিব। এ ক্ষেত্রে তাঁকে নিজের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রিতম পতœী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। আজ ৪৭ বছর পর তা হয়ে ওঠে সমগ্র দেশ ও জাতির গৌরবের সম্পদ।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো বিশ্ব ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করলো। জাতির এই আনন্দক্ষণে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই ভাষণের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
ঢাকা মহানর দক্ষিণ শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাঈনউদ্দিন রানার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন যুবলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, সম্পাদকম-লীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, শ্যামল কুমার রায়, মিজানুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য রওশন জামির রানা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি বায়জিত আহম্মেদ খান, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সহ-সভাপতি সৌরহাব হোসেন স্বপন, সারোয়ার হোসেন মনা, আনোয়ার ইকবাল সেন্টু, হারুনুর রশিদ, নাজমুল হোসেন টুটুল, জাফর আহম্মেদ রানা, ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বকুল, মাকসুদুর রহমান, কাজী ইব্রাহিম খলিল মারুফ, সম্পাদকম-লীর সদস্য আরমান হক বাবু, এমদাদুল হক এমদাদ, আরিফউজ্জামান প্রমুখ। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত