শিরোনাম

আ.লীগের শতাধিক সহ-সম্পাদকের নামের তালিকা চূড়ান্ত

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নূরে আলম জীবন  |  ০০:৪৮, অক্টোবর ২২, ২০১৭

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির প্রায় শতাধিক সহ-সম্পাদক নামের তালিকা আগামী নভেম্বর মাসে ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ পদটি বিগত সময় নানা বিতর্কের সৃষ্টি করলেও এবার দলের হাই-কমান্ড থেকে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এ কমিটির বিষয়ে। অভিযোগ রয়েছে, গত কমিটিতে খেয়াল খুশিমতো, ঢালাওভাবে সহ-সম্পাদক নিয়োগে জটিলতা সৃষ্টি হয়। যেকোন প্রোগ্রামেই সহ-সম্পাদকদের জয়-জয়কার দেখা যেত। তাই আর নতুন করে ভুল করতে চায় না এ কমিটি গঠনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ব্যাপক যাচাই-বাছাই করেই সহ-সম্পাদক তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। দলের জাতীয় কাউন্সিল শেষে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী নেতারা। বিভিন্ন লবিয়িং ও তদবিরে নিজেদের অবস্থানের প্রমাণ দিতে মরিয়া অনেক নেতা। অবশেষে তাদের অপেক্ষার প্রহরের পালা শেষ হচ্ছে।
দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এবার কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিকে সুশৃঙ্খল করে সাজানো হচ্ছে। বিগত সময়ে দায়িত্বে থাকা নেতাদের যাদের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগও পাওয়া গেছে, তাদের কমিটিতে রাখা হবে না। এবার সহ-সম্পাদক পদে বিষয়ভিত্তিক স্থান দেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্রত্যেকটি উপ-কমিটি আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল। তাই এবারের সম্পাদকীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দিয়েছে দল। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘বিগত কমিটির সহ-সম্পাদক পদটি দেওয়া হয়েছিল নির্বাচনের আগে। নেতা-কর্মীদের দলের কার্যালয়মুখী করতেই সে সময় সহ-সম্পাদক পদটি দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার অনেক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ পদের জন্য অনেক বায়োডাটা জমা পড়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হয়েছে। তবে এবারে সহ-সম্পাদক পদ কোনোভাবেই একশর ওপর করব না।
দলীয় সূত্র মতে, গত কমিটিতে খেয়াল খুশিমতো, ঢালাওভাবে সহ-সম্পাদক নিয়োগের বিষয়ে দলীয় নেতাদের সামনে ও বিভিন্ন ফোরামে একাধিকবার ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দায়িত্বপ্রাপ্তরা তখন বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনকে কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাখ্যা সভানেত্রীর মনমতো না হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সহ-সম্পাদক নিয়োগের বিষয়টি এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নিজেই দেখভাল করছেন।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫ অনুচ্ছেদের ‘চ’ ধারায় (বিভাগীয় উপ-কমিটি গঠন) বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগে একটি করে উপ-কমিটি গঠন করবে। উক্ত উপ-কমিটি ১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন সম্পাদক, অনূর্ধ্ব ৫ জন সহ-সম্পাদক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্টসংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গঠনতন্ত্রের আলোকে এবার সর্বোচ্চ ৯৯ জন সহ-সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো দলের গঠনতন্ত্রে সহ-সম্পাদক পদ সংযোজন করা হয়। পরবর্তীতে ৯৫ জন সহ-সম্পাদক নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এর পর ২০০৯ সালের ২৪ জুলাইয়ের কাউন্সিলে কোনো সহ-সম্পাদক নিয়োগ করা হয়নি।
সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর কাউন্সিলের পর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সঙ্গে ৬৬ জন সহ-সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এসব সহ-সম্পাদক নিয়োগ দিয়েছিলেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, পরে তা বেড়ে প্রায় ৬০০ ছাড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, সহসম্পাদকদের নামের খসড়া তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।
আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত দিনে এ পদ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণে এবার কঠোর হয়েছে আওয়ামী লীগ।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত