শিরোনাম

জাপা-বিএনপির মধ্যেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের সম্ভাবনা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১২:০৮, আগস্ট ০৯, ২০১৭

সুনামগঞ্জ-৪ (বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সদর) আসনে নির্বাচনি জরিপ খুবই কঠিন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির টিকেটে অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ এমপি নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে এ আসনে মহাজোট থেকে সাবেক মন্ত্রী মেজর ইকবাল হোসেনের স্ত্রী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের অ্যাড. ফজলুল হক আসপিয়াকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমপি হওয়ার ৪ মাসের মাথায় হঠাৎ মারা যাওয়ায় উপ-নির্বাচনে জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে এ আসে বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক হুইপ অ্যাড. ফজলুল হক আসপিয়া এমপি নির্বাচিত হয়ে হুইপ হয়েছিলেন। সেই সুবাদে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আত্মীয় হিসেবে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ^ম্ভরপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

গত ইউপি নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেশিরভাগই বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান ও দুটি উপজেলাতেই বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসন বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছে বারবার। বলা যায়, আ.লীগ বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় এ আসনে। আগামী নির্বাচনে মহাজোট ও ২০ দলীয় জোটগত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাপা ও ধানের শীষের মধ্যে লড়াই হবে। আর জাপা একক নির্বাচনে অংশ নিলে আ.লীগ, বিএনপি, জাপা প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনীতিকরা। এ অবস্থায় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। এ আসনে ইতোমধ্যে বিএনপির ৩ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন তালিকায় নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক হুইপ অ্যাড. ফজলুল হক আসপিয়া, সদর উপজেলা পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও জেলা বিএনপিনেতা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ধনাঢ্য আব্দুল লতিফ জেপিও মনোনয়ন চাইবেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির টিকেট চাইতে পারেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও সাবেক ছাত্রসমাজের নেতা কামরুজ্জামানও। জোটবদ্ধ অথবা একক, যেভাবেই নির্বাচন হোক দীর্ঘদিনের ঘাঁটি সদর আসনটি কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেবে না জাপা। বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড. মিছবাহ ইতোমধ্যে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। তার ক্লিন ইমেজেই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ জাপা ও বিএনপির মধ্যেই লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক আ.লীগ কর্মী ও সমর্থকদের দাবি সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আ.লীগের একজন জনপ্রিয় ও সৎ লোককে মনোনয়ন দেয়া প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল উপযুক্ত প্রার্থী। তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে সহজেই বিজয়ী হওয়া সম্ভব। কারণ তিনি দুবার বিপুল ভোটে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বরাবর বিএনপি প্রার্থীই বিজয়ী হয়েছে। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হবে। তবে দলীয় সভানেত্রী যাকেই দলের মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ বিএনপি কাজ করবে। এ ব্যাপারে জেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মতিউর রহমান বলেন, বিগত সময়ে এ আসনের প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি এবং আগামী নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নৌকার বিজয় ছিনিয়ে এনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।
এ ব্যাপারে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির আহবায়ক অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসন জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলেই পরিচিত। এ আসন থেকে প্রয়াত মন্ত্রী মেজর ইকবাল হোসেন চৌধুরী একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মমতাজ ইকবালও এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীতে আমি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়েছি এবং প্রত্যেকটি গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। জোটবদ্ধ কিংবা একক নির্বাচন যাই হোক এ আসনে জাতীয় পার্টিই বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত