শিরোনাম
ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর

পিরোজপুর প্রতিনিধি॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৬:৫৮, আগস্ট ০৬, ২০১৭

শোকের মাস আগস্টের শুরুতেই পিরোজপুর ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলে আক্রান্ত জেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের ব্যবহৃত অফিসটিতে ভাঙচুর করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ আহম্মেদ রাসেলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রামদা-হাতুড়ি ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে অফিসের তালা ভেঙ্গে চেয়ার-টেবিলসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাঙচুর করে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী রাসেল গং প্রধানমন্ত্রী-জাতির জনকের ছবি ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাসুদ (ভারপ্রাপ্ত) আমার সংবাদকে বলেন, ঘটনাটি আমি তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শুনেছি। তবে দুই বন্ধুর ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কিছু ঘটতে পারে। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের ছাত্রলীগকে নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতারা। আওয়ামী লীগনেতারা আমাদের সহযোগিতা না করে, বরং আমাদের নানাভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। এ বিষয়গুলো ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম মিঠু আমার সংবাদকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। সেই বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি যদি কেউ মাটিতে ফেলে তাদের অবমাননা করে তাহলে অবশ্যই সেসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে কি না এ বিষয়েও তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত টিমও গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনিরুজ্জামান অনিক আমার সংবাদকে বলেন, জুনায়েদ আহম্মেদ রাসেলের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে এ হামলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। যারা এ হামলা করেছে তারা বেশিরভাগই অনুপ্রবেশকারী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাইমিনুল ইসলাম সাজিদ আমার সংবাদকে বলেন, এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। জুনায়েদ আহম্মেদ রাসেলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হবে বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত জুনায়েদ আহম্মেদ রাসেল আমার সংবাদকে বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। যে অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে বলছেন, এটা আমার অফিস। গ্রুপিংয়ের কারণে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপ্রপ্রচার করা হচ্ছে। আপনার অফিসে কারা হামলা করেছে জানতে চাইলে তিনি থমকে গিয়ে বলেন, অফিসের চাবি কয়েকজনের কাছে আছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে আমি জানি না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত