শিরোনাম

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারণায় এলাকায় নির্বাচনি আমেজ

মাহতাব উদ্দিন॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:৪৬, আগস্ট ০৬, ২০১৭

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে, চলছে গণসংযোগ ও মতবিনিময়। আ.লীগ-বিএনপির মর্যাদার লড়াই এই আসন ঘিরে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তরুণরাই বেশি। আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন দুবার এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। সেই সাথে জলমহাল, বালিমহাল ও দখলের অভিযোগও তুলছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এদিকে আ.লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অ্যাড. আক্তারুজ্জামান আহমদ সেলিম, জেলা আ.লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাচনাবাজার ইউনিয়নের দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম, সিলেট জেলা আ.লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাড. রনজিত সরকার, সাবেক যুগ্ম সচিব বিনয় ভুষণ তালুকদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী কৃষকলীগের মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামীমা শাহরিয়ার, শেখ হাসিনার প্রিয়জন হিসেবে পরিচিত ও উন্নয়নকর্মী ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ মনোনয়ন চাইবেন বলে মাঠেঘাটে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে এ আসন থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দুবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন দলীয় নেত্রীর গ্রিন সিগ্যালে চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামগঞ্জ ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করছেন। তিনি সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে দীর্ঘ ৮ বছর দলের বাইরে ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ আসনে নজির হোসেন বিএনপির মনোনয়ন পেলে আ.লীগ-বিএনপির মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে এ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চাইতে মাঠে আছেন যারা তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক, সাবেক ছাত্রদল নেতা, বর্তমান তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোতালিব খান, ড্যাবের সাবেক সেক্রেটারি ডা. রফিক চৌধুরী, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দির ছোট ভাই লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন দলীয় টিকেট চাইবেন।

এ ব্যাপারে আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান, আ.লীগ সভানেত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আমি হাওরপাড়ের মানুষের বিপুল ভোটে দুবার নির্বাচিত হয়েছি এবং অবহেলিত উন্নয়নবঞ্চিত জনপদের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর কোনো সংসদ সদস্য এত উন্নয়ন করতে পেরেছেন কিনা ভোটাররাই বলতে পারবেন। আগামী নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আরও উন্নয়ন করতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত আছি। তবে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষেই কাজ করব।
এ ব্যাপারে সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অ্যাড. আক্তারুজ্জামান আহমদ সেলিম জানান, আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে এসেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবহেলিত ভাটি বাংলার জনপদের মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।

আমি ২০০৮ ও ২০১৪-তে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। ২০০১ সাল থেকে মাঠে কাজ করছি। জননেত্রী আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে সুনিশ্চিত নৌকার বিজয় হবে। এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন জানান, দলীয় সভানেত্রী সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে এলাকায় কাজ করছি। তিনবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তাহিরপুরের তিনটি শুল্কস্টেশন আমার প্রচেষ্টায় চালু হয়েছিল বর্তমানে এগুলো বন্ধ রয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ী বেকার হয়ে গেছে। আমি যদি দলীয় মনোনয়ন পাই এবং জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে তাহলে বন্ধ শুল্কস্টেশনগুলো চালুর বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখব। আশা করি জনগণ অতীতের ন্যায় আবারও ভোট দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত