শিরোনাম

চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

আলী হোসেন॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:৪৮, আগস্ট ০৩, ২০১৭

মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) সংসদীয় আসন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী দেড়বছর বাকী থাকলেও এই আসনের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। মেঘনার ভাঙনে বিগত কয়েক বছরে এ আসনের অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মেঘনার ভাঙনে ভিটা-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙন আর প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই এখানকার মানুষ প্রতিদিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনটি দুইটি উপজেলায় বিভক্ত। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের অধিকাংশ মানুষ মৎস শিকার এবং কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রাজনীতি নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের তেমন একটা মাথা ব্যথা নেই।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা ব্যথা না থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনদের মধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ। এখানেই জন্ম নিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আসম আব্দুর রব। এরশাদ সরকারের সময় তিনি একবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। ওই সময় অবিভক্ত রামগতির জন্য অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন আসম আব্দুর রব। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার ঐক্যমতের সরকারের মন্ত্রী হন তিনি। আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন আসম আব্দুর রব। এখানে আসম আব্দুর রবের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক আছে।

আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাবেক এমপি ফরিদুন্নাহার লাইলী। নোয়াখালী সদরের বাসিন্দা হলেও রামগতি-কমলনগর আসনে ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় তিনি ইতিমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ঘরোয়া পরিবেশে অনেক বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করেছেন সুমিষ্টভাষী এই নারী প্রার্থী। বিগত ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠন করলে ফরিদুন্নাহার লাইলী সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে রামগতি-কমলনগর আসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন, বর্তমান এমপি আব্দুল্যাহ আল মামুন। তিনি বিগত ৫ই জানুয়ারীর (২০১৪) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর প্রচেষ্টায় রামগতি-কমলনগরে প্রায় ২’শ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী ভাঙন রোধ প্রকল্প অনুমোদন করে মন্ত্রীসভা। ওই প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুর সফরে নদী ভাঙন রোধের দ্বিতীয় দফায় অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে সক্ষম হন তিনি।

এ আসনে বিএনপি থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, সাবেক এমপি আশ্রাফ উদ্দিন নিজান ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবু। ২০০১ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে আশ্রাফ উদ্দিন নিজান ধানের শীষ প্রতীকে দুইবার এমপি নির্বাচিত হন। এখানে আওয়ামী লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সমর্থিত ভোটের বাইরেও বিএনপি-জামায়াতের ভোট একেবারে কম নয়। তবে আগামী নির্বাচনে আশ্রাফ উদ্দিন নিজানের চেয়ে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সফিউল বারী বাবু এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।

আগামী নির্বাচনে এই আসনে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী এক সময়ের বিএনপি সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মেজর (অবঃ) আব্দুল মন্নান। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পার্টি বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় মহাসচিব। এলাকার উন্নয়নে তার অনেক অবদান রয়েছে বলে স্থানীয় ভোটাররা জানান। এ আসনে মেজর (অবঃ) আব্দুল মন্নানের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা জানান। এছাড়া এই আসনে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে কমলনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারাকাত দুলাল প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি তিনিও এলাকায় ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরিদুন্নাহার লাইলী আমার সংবাদকে বলেন, সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি হয়ে আমি রামগতি-কমলনগরের অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। সাধারণ ভোটাররা আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ইনশা আল্লাহ নেত্রী মনোনয়ন দিলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক আসম আব্দুর রব বলেন, গণতন্ত্র এখন অনেকটা শৃঙ্খলিত। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন দরকার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে পারলে তিনি আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।

সাধারণ ভোটাররা জানান, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জেএসডি, বিকল্পধারা প্রায় সব দলেরই নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। আগামী নির্বাচনে এসব দলের প্রার্থীরা আলাদা আলাদা ভোট করলে নির্বাচনে চতুর্মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত