শিরোনাম

আ.লীগের ঘাঁটি দখলের চেষ্টা বিএনপির

মো. বেলাল হোসেন মিলন॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:২৮, জুলাই ২৯, ২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রধান দুইটি দলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তারা। ১০৯ বরগুনা-১ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এটি দখলে নেওয়ার চেষ্টায় মরিয়া বিএনপি। নেতৃত্ব পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের তরুণ নেতারা। তাদের অভিযোগ, সারাদেশে উন্নয়ন হলেও স্থানীয় এমপির অবহেলার কারণে উন্নয়ন হয়নি বরগুনার। তাদের আশা সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীকেই এবার মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ তথা সরকারের দমন নিপীড়ন গুম-খুন, মিছিল, সভা-সমাবেশে বাঁধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র নেতাকর্মীরা আটঘাট বেধে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে আওয়ামী লীগবিরোধী ভোট তাদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ১০৯ বরগুনা-১ আসনটি দখলে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সবার একইসুর দল যাকে মনোনায়ন দেবে তার পক্ষেই দলের হয়ে কাজ করবেন তারা।

বরগুনার তিনটি আসনকে একত্রিত করে ২০০৮ সালে দুটি আসন করা হয়। বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে ১০৯ বরগুনা-১। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর কবির, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমান শিহাব, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি গোলাম সরোয়ার ফোরকান, বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা মো. খলিলুর রহমান।

বরগুনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও এমপি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ¦ মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক।

বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বরগুনা-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬-২০০১ আমলে খাদ্য উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছেন। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ’বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। বরগুনার জনগণকে একত্রিত করে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত করেছি। আমার উপরে প্রধানমন্ত্রী আস্থা রেখে যতবার নৌকা প্রতীক দিয়েছেন আমি তার প্রতিদান দিয়েছি। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে কখনও বিভেদ সৃষ্টি হতে দেইনি। আশা করি, আগামী নির্বাচনেও দল আমার উপর আস্থা রাখবে।’

সাবেক সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার বলেন, দুবার সংসদ সদস্য ও একবার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমতলী তালতলী ও গাজীপুরে এ অঞ্চলের মানুষ ছিল অবহেলিত। আমি সংসদ সদস্য থাকাকালীন এলাকার উন্নয়নে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি এবং দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। তাই আমার বিশ্বাস দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বরগুনা-১ আসনে বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে আওয়ামীবিরোধী ভোট অনেক বেশি তার পরও যোগ্য প্রার্থী না থাকার কারণে বিএনপি ভালো কোন ফল ঘরে আনতে পারেনি। আমি কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি নেতাকর্মীদের সামনে থেকে পালন করে আসছি। যতদিন জীবিত থাকবো শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করে যাব। নেত্রী মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হয়ে বিএনপিকে আসনটি উপহার দিতে পারবো বলে আশা করি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি দলীয় কোন্দলের কারণে বিগত ১২ বছর অবহেলিত ছিলাম তাই বরগুনার রাজনীতিতে পরিবর্তন দরকার। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দল আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। লে. কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক বলেন, বরগুনা-১ সদর আসনে বিএনপি এখনো কোন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। একটি বড় দলে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে, তবে আমি বিশ^াস করি- ম্যাডাম যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে, বরগুনা-১ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত করবেন। আশা করি মাঠপর্যায়ের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে দল আমার উপর আস্থা রেখে মনোনায়ন দিলে জনগণের আস্থা জয়ী হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। এর আগেও মনোনয়ন চেয়েছি, এবারও চাইবো। আশা করি দল বিবেচনায় নেবে। জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। দলের ও নৌকা প্রতীকের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে পৌর নির্বাচনে গুলি খেয়েছি। নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। বরগুনার উন্নয়ন এবং মানুষের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিবর্তন দরকার। দল মনোনয়ন দিলে বিজয়ের দ্বারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের রাজনীতিকে এগিয়ে নেবেন এবং বরগুনা-১ আসনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে।’ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সদস্য ও শিল্পপতি মশিউর রহমান শিহাব বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করি তাই আশাকরি দেশরত্ন জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ হিসাবে আমাকে মনোনীত করবেন।’

আওয়ামী লীগ, বিএনপির নেতাদের একই সুর দলের নির্দেশের অপেক্ষায়। দলের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত মেনে নেয়ার কথা বলেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত