শিরোনাম

আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য নতুন মুখ সুযোগ নিতে পারে বিএনপি

মো. মশিউর রহমান বাবলু॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৩:৪১, জুলাই ২৫, ২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন কর্মকা- আর নেতা-কর্মীকে চাঙা রাখতে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলা শহর থেকে তৃণমূল। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে নেতা-কর্মীদের ইতোমধ্যেই সক্রিয় করে ফেলেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় বাড়তি যোগ হয়েছে এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর। এজন্য কেন্দ্র থেকে ছুটে আসা মনোনয়নপ্রত্যাশী আর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রচার-প্রচারণার মাঠপর্যায়ে চলছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যার যার সাধ্যমত ইফতার পার্টি, ফেতরা, যাকাত, আর্থিক অনুদানসহ নানা উপহার সামগ্রী নেতা-কর্মী, গরিব মিসকিন ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করে মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে মাঠে রয়েছেন। তবে প্রচারণায় বা দল গোছাতে বিএনপি প্রার্থীদের তেমন একটা মাঠে নেই বলে আলোচনা চলছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীর মাঝে। তবে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা থাকায় এলাকায় সুবিধা করতে পারছেন না তারা। কিন্তু উভয় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পক্ষে ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় রাস্তায় সাটানো হয়েছে ব্যানার, প্লাকার্ড, ফেস্টুন ও তোড়ন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে ঘুর ঘুর করছে নেতা-কর্মীরাও। এবারের ঈদের ছুটিই মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি তৎপরতা চাঙা করলো।

ফলে রাস্তার মোড়ে, নগর-বন্দর, হাট-বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন মহলে চলছে নির্বাচনি আলোচনা-সমালোচনা। মনোনয়ন পেতে জেলার নেতৃবৃন্দ থেকে দলের হাইকমান্ডেও চালাচ্ছে জোর লবিয়িং। পটুয়াখালী-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় স্থানীয়পর্যায়ের নেতা থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় নেতা থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও একাধিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নাম। রয়েছেন কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী-মহিপুর) দুটি উপজেলা ও মহিপুর থানা নিয়ে এ আসনটি সব সময়ই আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এবং নৌকা এগিয়ে। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাশীনদের দলীয় কোন্দল চরমে থাকায় বিএনপি সুযোগ নিতে পারে। কিন্তু বিএনপি প্রার্থীদের তেমন একটা মাঠে দেখা যায় না। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহাবুবুর রহমান এমপি। অগাধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া মাহাবুবের নামে দুদকের মামলা থাকায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয়া আর মনোনয়ন পাওয়া-না পাওয়ার ব্যাপারে মাহবুবকে ঘিরে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের বিভিন্ন মহলে রয়েছে নানান গুঞ্জন।

তাই এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতায় আসতে পারে চমক। তার পরে মনোনয়ন দৌড়ে যারা এগিয়ে আছেন তারা হলেন সাবেক এমপি মরহুম আনোয়ার হোসেনের পুত্র যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, কুয়াকাটা পৌর সভার মেয়র ও মহিপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারেক মোল্লা, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, কলাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগনেতা আব্দুল মোতালেব তালুকদার। তাই পটুয়াখালীর চার আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে লড়াই হবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম মোশারেফ হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে এলাকায় থেকে নেতা-কর্মীর পাশে থেকে কাজ করছেন মোস্তাফিজ। মোশারেফ ও মনির ঢাকায় অবস্থান করায় দলীয় কর্মসূচিতে তেমন একটা অংশ নিতে এলাকায় আসেন না বলেও অভিযোগ নেতা-কর্মীদের। জাতীয় পার্টির স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতা না থাকায় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপিও এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত