শিরোনাম

আওয়ামী লীগের দুর্গ হলেও দখলের চেষ্টায় বিএনপি

মো. মশিউর রহমান বাবলু॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৫:১৭, জুলাই ২৪, ২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন কর্মকা- আর নেতা-কর্মীকে চাঙা করে পক্ষে নিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে কোনো দল বা প্রার্থীই স্বাধীনতার পর কখনই সুবিধা করতে পারেনি। অবশ্য এ আসনটি দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে খ্যাত। মহাজোট সরকার থেকে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এ আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হয়ে গেছে।

বিএনপি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা ঢাকায় অবস্থান করা আর আন্দোলন-সংগ্রামে তেমন অংশ না নেয়ায় নেতা-কর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অথবা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে আন্দোলন থেকে দূরে সরে গেছে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চাইবে এ আসনটিতে তাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে বাগিয়ে নিতে। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছাতে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপিনেতারা। আর আওয়ামী লীগ চায় তাদের উন্নয়নের কারণেই আসনটি বহাল থাকবে। তবে আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থী যেই হোক, নৌকাকে জয়ী করতে হবে এমন প্রত্যাশায় কাজ করছেন তারা। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পক্ষে সাটানো রয়েছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ব্যানার, প্লাকার্ড, ফেস্টুন ও তোড়ন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে ঘুর ঘুর করছে নেতা-কর্মীরাও।

এবারের ঈদের ছুটিই মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি তৎপরতা চাঙা করে দিল। তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তার মোড়ে, নগর-বন্দর, হাট-বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নির্বাচনি আলোচনা-সমালোচনা। মনোনয়ন পেতে নেতৃবৃন্দ দলের হাইকমান্ডেও চালাচ্ছেন জোর লবিয়িং। সংসদীয় আসন-১১৩ পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের তালিকায় আছেন স্থানীয় নেতা থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা। মনোনয়ন চাইবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। রয়েছেন কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রনেতা ও ব্যবসায়ী।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন আখম জাহাঙ্গির হোসাইন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগনেতা ও দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম সাখাওয়াত হোসেন শওকত, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোহাম্মদ ফোরকান মিঞা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক কামরান সাহিদ প্রিন্স মহব্বত ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও দশমিনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. ইকবাল মাহামুদ লিটন।

২০ দলীয় জোটের এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি দলীয় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. গোলাম মোস্তফা। নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় চালাচ্ছেন দলীয় কর্মসূচি। শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক অনুদান দিচ্ছেন এতিমখানা ও বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে। মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান খান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকসুর সাবেক ছাত্রনেতা মো. হাসান মামুন ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মো. রফিকুল ইসলাম। এ আসনে জাতীয় পার্টিসহ অন্য কোনো দলের প্রার্থীদের প্রভাব বা প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা বা জনগণের আলোচনায় নাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত