তৃণমূল চাঙা করতে তৎপর আ. লীগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥নূরে আলম জীবন | ১২:২২, জানুয়ারি ০৮, ২০১৭

দীর্ঘ আট বছর শেষ করে নয় বছরের পথচলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। গণতন্ত্রের সুবাধে উন্নয়নের অব্যাহত ধারায় চলমান ক্ষমতাসীন দলের গতিপথ। তবে ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পরও নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পরে আওয়ামী লীগ সরকার। দেশ-বিদেশের নানা চাপ ও বিতর্ক সামলানোসহ বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায় সরকার।

টানা ৯২দিন হরতাল, অবরোধ দিয়ে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে বিএনপি। যার ফলে দেশের অর্থনীতিতে মন্দা সৃষ্টি হয়। আর ক্ষমতাসীন সরকার ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে দেশে উন্নয়নের চাকা স্বাভাবিক রাখে। যার ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে অনেকটাই এগিয়ে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারের ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের চাকা সচল থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পরও কমিটি না থাকায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ক্ষোভ ও কোন্দল বাড়ছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্নস্থানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে দুই সদস্যের কমিটি থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি দলের ত্যাগী নেতারা। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জেলা, উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের যেসকল কমিটি এখনো করা হয়নি সেগুলো যেন দ্রুত করা হয় এবং পকেট কমিটি না করার নিদের্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ত্যাগীদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের হাইকমা- দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে নিদের্শ দিয়েছেন। যার ফলে দলের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন জেলা সফর শুরু করেছেন।

বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগ একাদশ নির্বাচনকে টার্গেট করে তৃণমূলকে চাঙা করতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে মাঠে নেমেছেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও সিনিয়র নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ সফরগুলোতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ও আওয়ামী লীগের ওপর সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারা বজায় রাখার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে সরকার চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতে কী ধরনের নেতাদের এগিয়ে নিতে হবে আর কাদের দূরে রাখতে হবে সেই শিক্ষাও দিয়েছে এই নির্বাচন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক বড় দল। আর প্রতিটি রাজনৈতিক দলের শক্তি হচ্ছে তৃণমূল। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে। তারণ্যনির্ভর কমিটির মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করা হয়েছে। তাই তৃণমূল থেকে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে আমাদের কমিটিগুলো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারবে তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। বড় দলে কিছু সমস্যা থাকবেই। তবে দলের স্বার্থে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। যার প্রমাণ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের মাধ্যমে। এদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নতুন বছরে দলকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত করতে ১০০ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon