শিরোনাম

এরশাদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৭:১৮, জুন ২৬, ২০১৯

 

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি জানান, বুধবার (২৬জুন) সকালে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ‘ক্রিটিক্যাল ইউনিটে’ ভর্তি করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানান এরশাদের চিকিৎসকরা।

গুরুতর অসুস্থ হয়ে নির্বাচনে দলীয় প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারেননি তিনি।

নিজের আসন রংপুর-৩ এর পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও পরে নিজেকে ঢাকার আসন থেকে সরিয়ে নেন এরশাদ।

সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এসে নানা নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদে আসীন করেন ভাই জি এম কাদেরকে।

পরে নিজের সমুদয় সম্পত্তি দান করেন ট্রাস্টে।

সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি এরশাদ ছিলেন একসময় বেশ ক্ষমতাধর ও প্রতাপশালী ব্যাক্তি। বাংলাদেশের মানুষের মনে বেশ কিছু কারণে তিনি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০- ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৬৬ সালে তিনি কোয়েটার স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিয়ালকোটে ৫৪ ব্রিগেডের মেজর ছিলেন।

১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯- ১৯৭০ সালে ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক ও ১৯৭১ - ১৯৭২ সালে ৭ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে দেশ শাসন করেন।

দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্দেশ্য ঘোষণা করে তিনি ১৯৮৬ সালে সংসদীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেন।

এই নির্বাচনে তিনি স্বপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির ভোটপ্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে ৫ (পাঁচ) বৎসরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে গণবিক্ষোভের চাপে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এছাড়া ১৯৯৬ সালে সরকারের গঠনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়েছিল।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা মহাজোট করেছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও শেষপর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে সাথে রাখতে সক্ষম হয়েছিল আওয়ামী লীগ।

ঐ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে ছিলেন জেনারেল এরশাদ।

তার স্ত্রী রওশন এরশাদ সংসদে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। একইসাথে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের জাতীয় পার্টি থেকে তিনজন মন্ত্রী ছিলেন।

বর্তমানে এরশাদ জাতীয় পার্টি (এরশাদ) উপদলের নেতা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বর্তমানে ১১তম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এমএআই
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত