শিরোনাম

চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, মেধাবীদের স্থান দেয়ার দাবি

প্রিন্ট সংস্করণ॥জুবায়ের সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম  |  ০৩:৩৯, মে ২৭, ২০১৯

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ থেকে কেউ স্থান পায়নি। এ নিয়ে চট্টগ্রামের সাধারণ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের প্রশ্ন— সারাদেশ থেকে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। সেখানে স্থান পাওয়ার মতো চট্টগ্রামে কি কেউ নেই? তারা একে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়ার মত কি চট্টগ্রামে একজনও নেই? একজনও কি যোগ্য না? ফেসবুকে বন্ধুদের মাঝে এই প্রশ্নটি করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা হাবিবুর রহমান তারেক।

জানতে চাইলে এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে যারা রাজপথে থেকেছেন সেসব পরীক্ষিত ও মেধাবী ছাত্রনেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিতে হবে।

আশা করি সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও মেধাবী ছাত্রনেতাদের স্থান দেয়া হবে’। তার মতো এ রকম প্রশ্ন চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। একাধিক ছাত্রলীগ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কাউকে না রাখা নিন্দাজনক ও দুঃখজনক। প্রতিবারই চট্টগ্রামকে বাদ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে এলে জামাই আদর পান।

আন্দোলন-সংগ্রামের সময় চট্টগ্রামকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। কিন্তু পদ-পদবীর বেলায় বুড়ো আঙুল দেখানো হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা চরম হতাশ। নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন শাহরিয়ার বলেন, শিবিরবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা সংকটময় সময়ে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।

নেতৃত্বগুণ আছে বলেই তারা অতীতের সব আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রামের কেউ স্থান না পাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার মতো একাধিক যোগ্য নেতা চট্টগ্রামে রয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৪ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীকে গণভবনে ডেকে এ নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করে বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে একান্তে আলাপ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় থাকা ১২/১৫ জন বিতর্কিত নেতার নাম কালি দিয়ে চিহ্নিত করে তাদের বাদ দেয়ার নির্দেশ দেন। তালিকায় যদি আরও কোনো বিতর্কিত নেতা থাকেন খোঁজখবর নিয়ে তাদেরও বাদ দিতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, বিতর্কিতদের ব্যাপারে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা আছে, যারা বিবাহিত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিংবা যাদের পরিবার বিএনপি-জামায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তাদেরও কমিটি থেকে অব্যাহতি দিতে বলেছেন তিনি।

এ ছাড়া যারা কমিটি ঘোষণার পর থেকে ক্ষোভ প্রকাশের নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাদের ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এ কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে তা ভেঙে নতুন কমিটি দেয়ার দাবি জানিয়েও ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন পদবঞ্চিতরা। ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সাকিব বলেন, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ।

অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার চট্টগ্রাম নগরী, উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় অনেক মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও নেতৃত্ব দেয়ার মতো মেধাবী ছাত্রনেতা রয়েছেন। এসব সাংগঠনিক জেলা ও ইউনিট থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কাউকে না রাখাটা দুঃখজনক।

আমি আশা করব চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে যোগ্য নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়ে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ দূর কবরেন। এতে করে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত