শিরোনাম

বিতর্কিতদের দ্রুত বহিষ্কার চায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

৯৯ নেতার তালিকা প্রকাশ, ১৭ চিহ্নিত
নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:০১, মে ১৬, ২০১৯

 

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে সাংগঠনিক নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনায় দ্রুত বাস্তবায়ন চায় আন্দোলনরত পদবঞ্চিতরা। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া বিতর্কিত ৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে তারা।

তবে কমিটিতে স্থান পাওয়াদের মধ্যে বিতর্কিত ১৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণার দীর্ঘ এক বছরের মাথায় গত সোমবার ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক। নব ঘোষিত ওই কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদলের কর্মী, বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী, হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিসহ বিতর্কিতদের স্থান দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কাঙ্ক্ষিত পদবঞ্চিত নেতারা।

এরপর পদবঞ্চিত ও নবগঠিত নেতাদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদপ্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়ে নিয়েছে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। গত বুধবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটির ১৭ জনের বিরুদ্ধে গঠণতন্ত্রবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা কবে। যদি তারা অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তাহলে তাদের পদ থাকবে।

অন্যথায় তাদের পদগুলো শূন্য ঘোষণা করে যোগ্যদের সেখানে স্থান দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কমিটি গঠনে বিলম্ব হয়েছে, কারণ সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি আমাদের সহযোগিতা করেনি। যেটা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতারাও জানে। ছাত্রলীগের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ যারা করেছে তাদের বহিষ্কার করা

হবে জানিয়ে সভাপতি শোভন বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার পর একটি মহল বিভিন্ন মাধ্যমে যে আক্রমণাত্মক ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তা সংগঠনের শৃঙ্খলাপরিপন্থি। ক্ষোভ প্রকাশের জন্য দলীয় ফোরাম রয়েছে। যারা শৃঙ্খলাপরিপন্থি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদেরও খুঁজে বের করে বহিষ্কার করা হবে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জনের নাম সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তারা হলেন- সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, সুরঞ্জন ঘোষ, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান, বরকত হাওলাদার, শাহরিয়ার বিদ্যুৎ, মাহমুদুল হাসান তুষার, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তৌফিকুল হাসান সাগর, সাদিক খান, সোহানী হাসান তিথি, মুনমুন নাহার বৈশাখী, দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব, উপসম্পাদক রুশি চৌধুরী ও আফরিন লাবণী।

এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, সারা দেশে সবার প্রত্যাশা পূরণ নাও হতে পারে। প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে গণতান্ত্রিক। যারা সংগঠনে বিশৃঙ্খলা করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদেরও বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, সংখ্যায় ৯৯ জনকেই ‘বিতর্কিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ওই কমিটির পদবঞ্চিতরা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ৯৯ জনের তালিকাও প্রকাশ করেছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গতকাল (বুধবার) রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ধানমন্ডি কার্যালয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করে বিতর্কিত ১৭ জনের কথা উল্লেখ করেছেন। তাতেই প্রমাণ হয়, আমাদের দাবি যৌক্তিক। তবে তারা ১৭ জন বললেও এই কমিটিতে ৯৯ জনই বিতর্কিত। এসময় তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ দেওয়ার আগে নেতাদের ডোপ টেস্ট করানোর দাবিও জানান তারা।

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, আমাদের অবস্থান ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের অবস্থান বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও ছাত্র সংগঠনটির অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বুধবার ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে এ নির্দেশ দেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত