শিরোনাম
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি

বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৪৯, মে ১৫, ২০১৯

ছাত্রলীগের ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৫মে) দুপুরে গণভবনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকে সংগঠনটির অভিভাবক হিসেবে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, ঘোষিত নতুন কমিটির ৩০১ জন সদস্যের সবার গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার হাতে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদের মধ্যে যাদের নামে গুরুতর অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।একইসেঙ্গ ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ তিনি।

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিতরা এবং যোগ্য পদ না পাওয়া অনেকেই বিদ্রোহ করেছেন। কমিটি প্রকাশের পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের দুইটি পক্ষ। পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিলের নারী নেত্রীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলা করে পদপ্রাপ্তদের একটি পক্ষ। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৫ জনের মতো আহত।

এ ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি খুবই সামান্য একটি ঘটনা। নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

হানিফের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রলীগ নেত্রী নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, আর কতটুকু লাঞ্ছিত হলে তাদের মনে হতো যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে? প্রশ্ন ওঠে- আমরা মারা গেলে কি সত্যতা প্রমাণ হতো যে এখানে একটি বিশাল ঘটনা ঘটেছে?

মানববন্ধনে নিপু তন্বী আরো বলেন, সত্যিকার অর্থে বলতে আজকে দুঃখ লাগছে ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনের মতো জায়গায় ছাত্রলীগের কিছু ছোট ও বড় ভাই দ্বারা নির্যাতিত হই, এরপরে কোন মা, বাবা, ভাই, বোন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করার জন্য তাদের সন্তানকে পাঠাবে না।

নিপু বলেন, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা বারবার নির্যাতিত হচ্ছে। আর কত নির্যাতন হলে তাদের টনক নড়বে? আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় লোকদের কাছ থেকে আমরা কবে বিবৃতি পাবো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর সত্যিকার অর্থে বিশাল রকমের হামলা হয়েছে। সেটি একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বিবাহিত, অছাত্র ও চাকরিজীবীদের’ দিয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে। দাবি মানা না হলে অনশন ও গণপদত্যাগ করা হবে।

রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার বলেন, ‘যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তাদের ২২জন আগে কোনো পদ ছিল না। অথচ তাদের পদ দেয়া হয়েছে। আমাদের ছোট পদ দেওয়া হয়েছে বা আমরা পদ না পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না, বরং কমিটিতে মাদক মামলার আসামি, বিবাহিত, অছাত্র, ছাত্রদল, রাজাকারের সন্তানদের পদ দেয়া হয়েছে তার জন্য আমরা আন্দোলন করছি।’

ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটা গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি দেয়া হয়নি। যারা পদ পেয়েছেন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাননি। তারা বিবাহিত, ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কোনোদিন রাজনীতিতে জড়িত ছিল না, এমন অনেকেই পদ পেয়েছে। যারা কোনো মিছিল-মিটিংয়ে ছিল না তারাও আজ ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে পদ পেয়েছেন। ছাত্রলীগে আজ ফাটল ধরেছে। আমিসহ অন্য হলগুলোর ১৩ জন সভাপতি-সাধারন সম্পাদক পদই পাইনি। আমরা আশাহত হয়েছি।

বিদায়ী সোহাগ-জাকির কমিটির প্রচার সম্পাদক পদবঞ্চিত সাইফ বাবু বলেন, ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যেসব অপরাধী, বিতর্কিত ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই তালিকা প্রকাশ করা হবে। দ্রুতই তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেয়া হবে।

এদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। এইসময়ের মধ্যে দাবি না মানলে অনশন ও গণপদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত