শিরোনাম
তৃতীয় দিনেও রাজপথে

হানিফের বক্তব্যের সমালোচনায় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:১৮, মে ১৫, ২০১৯

নব ঘোষিত পুর্ণাঙ্গ কমিটি পূর্নগঠনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলণ অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধন থেকে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বক্তব্যে নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়। মানববন্ধনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে ‘জামাত-শিবির ছাত্রদল অনুপ্রবেশকারীদের কমিটি মানি না’, ‘আমাদের বোনদের ওপর হামলা কেন বিচার চাই বিচার চাই’, ‘অবৈধ কমিটি মানি না’, ‘অছাত্রদের আদু ভাইদের কমিটি মানি না’, ‘ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কৃতদের কমিটি মানি না’, ‘বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগে অছাত্রদের স্থান নেই’, ‘চাকুরীজীবী ব্যবসায়ীদের কুটিল কমিটি মানি না’ লিখিত ফেস্টুন প্রদর্শন ও শ্লোগান দেয়া হয়।

রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার বলেন, ‘যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তাদের ২২জন আগে কোনো পদ ছিল না। অথচ তাদের পদ দেয়া হয়েছে। আমাদের ছোট পদ দেওয়া হয়েছে বা আমরা পদ না পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না, বরং কমিটিতে মাদক মামলার আসামি, বিবাহিত, অছাত্র, ছাত্রদল, রাজাকারের সন্তানদের পদ দেয়া হয়েছে তার জন্য আমরা আন্দোলন করছি।’

ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশা বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটা গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি দেয়া হয়নি। যারা পদ পেয়েছেন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাননি। তারা বিবাহিত, ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কোনোদিন রাজনীতিতে জড়িত ছিল না, এমন অনেকেই পদ পেয়েছে। যারা কোনো মিছিল-মিটিংয়ে ছিল না তারাও আজ ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে পদ পেয়েছেন। ছাত্রলীগে আজ ফাটল ধরেছে। আমিসহ অন্য হলগুলোর ১৩ জন সভাপতি-সাধারন সম্পাদক পদই পাইনি। আমরা আশাহত হয়েছি।

বিদায়ী সোহাগ-জাকির কমিটির প্রচার সম্পাদক পদবঞ্চিত সাইফ বাবু বলেন, ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যেসব অপরাধী, বিতর্কিত ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই তালিকা প্রকাশ করা হবে। দ্রুতই তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের দুইটি পক্ষ। পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিলের নারী নেত্রীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলা করে পদপ্রাপ্তদের একটি পক্ষ। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৫ জনের মতো আহত। এ ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি খুবই সামান্য একটি ঘটনা। নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

হানিফের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রলীগ নেত্রী নিপু ইসলাম তন্বী বলেন, আর কতটুকু লাঞ্ছিত হলে তাদের মনে হতো যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে? প্রশ্ন ওঠে- আমরা মারা গেলে কি সত্যতা প্রমাণ হতো যে এখানে একটি বিশাল ঘটনা ঘটেছে?

মানববন্ধনে নিপু তন্বী আর বলেন, সত্যিকার অর্থে বলতে আজকে দুঃখ লাগছে ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনের মতো জায়গায় ছাত্রলীগের কিছু ছোট ও বড় ভাই দ্বারা নির্যাতিত হই, এরপরে কোন মা, বাবা, ভাই, বোন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করার জন্য তাদের সন্তানকে পাঠাবে না।

নিপু বলেন, ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা বারবার নির্যাতিত হচ্ছে। আর কত নির্যাতন হলে তাদের টনক নড়বে? আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় লোকদের কাছ থেকে আমরা কবে বিবৃতি পাবো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর সত্যিকার অর্থে বিশাল রকমের হামলা হয়েছে। সেটি একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত