শিরোনাম

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে খুলনা আ.লীগের কার্যক্রম

প্রিন্ট সংস্করণ॥একরামুল কবীর ও আল মাহমুদ প্রিন্স, খুলনা  |  ০৭:৪১, এপ্রিল ২১, ২০১৯

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে খুলনা জেলা ও উপজেলা আ.লীগের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছে পদপ্রত্যাশীরা। এতে তৈরি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। তবে দলীয় সূত্র বলছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে জেলা আ.লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা ও আটটি উপজেলা আ.লীগের কমিটি গঠন করা হয়। তবে এরপর সাড়ে তিন বছর অতিবাহিত হলেও জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা আজো সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জেলা আ.লীগের কমিটি অনুমোদনের সময় অনিয়মের অভিযোগে জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ওই কমিটিতে স্বাক্ষর করেননি। আ.লীগে আশ্রয় নেয়া হাইব্রিড কর্মীদের কারণে ক্ষুণ্ন হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি এমনও মন্তব্য করেছেন দলের অনেকে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই হিসাব অনুযায়ী, জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়ার পর কেটে গেল সাড়ে তিনটি বছর। এ ছাড়া ৯ উপজেলার মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে পাইকগাছা উপজেলা আ.লীগের কার্যক্রম। ডুমুরিয়া উপজেলা আ.লীগের কমিটি চলছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অধিবেশনের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরের দিকে এ কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কেন্দ্র কয়েকটি কমিটিও গঠন করেছে। গঠিত কমিটি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে জেলা আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হারুনুর রশীদ সভাপতি ও এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। সম্মেলনের প্রায় ১০ মাস পর কেন্দ্র থেকে জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। নব-নির্বাচিত ওই কমিটি এক মাসের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলা আ.লীগের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরেও অনেক উপজেলায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় নির্দেশে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে খুলনার ৯ উপজেলা আ.লীগের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে সম্মেলন হতে থাকে। সম্মেলনে পাইকগাছা উপজেলা ছাড়া বাকি আটটি উপজেলা আ,লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে বিগত দিনে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ছাড়া বাকি আটটি উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, গঠনতন্ত্র মোতাবেক তার অনুমোদন নেই। এমনকি ওইসব কমিটি অনুমোদনের সময় জেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের স্বাক্ষর নেই বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে ডুমুরিয়া উপজেলায় নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সভাপতি ও অধ্যক্ষ নূর উদ্দিন আল মাসুদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু আজো পর্যন্ত ডুমুরিয়া উপজেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে বটিয়াঘাটা উপজেলায় আশরাফুল আলম খাঁনকে সভাপতি ও দিলীপ কুমার হালদারকে সাধারণ সম্পাদক, ১ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে দীঘলিয়া উপজেলায় খান নজরুল ইসলামকে সভাপতি ও মোল্যা আকরাম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক, ২ ফেব্রুয়ারি ফুলতলায় শেখ আকরাম হোসেনকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জিপ্পিকে সাধারণ সম্পাদক, ৩ ফেব্রুয়ারি কয়রা উপজেলায় জিএম মহসীন রেজাকে সভাপতি ও বিজয় কুমার সরদারকে সাধারণ সম্পাদক, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর রূপসা উপজেলায় মো. কামাল উদ্দিন বাদশাকে সভাপতি ও সরদার আবুল কাশেম ডাবলুকে সাধারণ সম্পাদক, ২৭ ডিসেম্বর সম্মেলনে তেরখাদা উপজেলায় এফ এম ওয়াহিদুজ্জামানকে সভাপতি ও কে এম আলমগীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক, ২৯ ডিসেম্বর দাকোপ উপজেলায় শেখ আবুল হোসেনকে সভাপতি ও বিনয় কৃষ্ণ রায়কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এ ছাড়া ২০০৪ সালে সর্বশেষ পাইকগাছা উপজেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট গাজী মোহাম্মদ আলীকে আহ্বায়ক ও রাশিদুজ্জামান মোড়লকে সদস্য সচিব করে ছয় মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হলেও আজও সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। জেলা আ.লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডুমুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাদী ও নির্বাহী সদস্য মো. ফায়েক উজ্জামান ইন্তেকাল করেছেন। সূত্রে জানা গেছে, অতি অল্প সময়ের মধ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আ.লীগের কমিটি গঠনের নির্দেশ আসছে। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে করবেন মতবিনিময়ও। বিভিন্ন দল থেকে আ.লীগে আশ্রয় নেয়া দলের হাইব্রিড কর্মীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। আ.লীগ নেতাদের সাথে হাইব্রিড কর্মীদের সম্পর্কে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খুলনা জেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, কাউন্সিল অধিবেশনের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ডিসেম্বরের দিকে কাউন্সিল অধিবেশন হতে পারে। তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিগত কাউন্সিলর অধিবেশনের পর তারা মতামত ছাড়াই বিভিন্ন উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিতি গঠন করা হয়। এতে তার সম্মতি না থাকায় স্বাক্ষর করেননি। খুলনা জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুজিত অধিকারী বলেন, পাইকগাছা উপজেলা ছাড়া বাকি আটটি উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে গঠনতন্ত্র মোতাবেক তার অনুমোদন নেই। এমনকি ওইসব কমিটি অনুমোদনের সময় জেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের কোনো স্বাক্ষর নেই বলেও জানান তিনি। কেন্দ্রের চাহিদা মোতাবেক প্রত্যেকটি উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে দলের জেলা সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে খুলনা জেলা আ.লীগের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত