শিরোনাম

চট্টগ্রাম নগর আ.লীগ দুই ধারায় বিভক্ত!

প্রিন্ট সংস্করণ॥জুবায়ের সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম  |  ০২:৩০, মার্চ ২০, ২০১৯

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে হাল ধরেন দলের প্রবীণ নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমন্বিতভাবে নগরীতে তৃণমূলে দলকে সুসংগঠিত করতে প্রচেষ্টা চালান। একাধিক বর্ধিত সভা ও দলের বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয় দুজনের নেতৃত্বে। বিগত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীর ৪টি নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা ও সমাবেশ করে দলের ঐক্যের জানান দেন তারা। দলের নেতাদের মধ্যে বিরোধ ও দুরত্ব গুছিয়ে দলের প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন দুই নেতা। ফলশ্রুতিতে নগরীর বন্দর-পতেঙ্গা আসনে এম এ লতিফ, ডবলমুরিং-পাহাড়তলী আসনে ডা. আফসারুল আমীন ও চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে মহাজোটের প্রার্থী মাঈনুদ্দিন খান বাদল টানা জয়লাভ করতে সক্ষম হন। সবচেয়ে আলোচিত বিজয়টি ছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ আসন কোতোয়ালি। এ আসনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ব্যারিমস্ট্রার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে জয়লাভ করতে নগর আওয়ামী লীগ একযোগে কাজ করেন। যে কারণে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে মহিউদ্দিন পুত্র নওফেলকে সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। নির্বাচন উত্তর বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে চলছে ফের বিভাজনের রাজনীতি। শুরুতে বিষয়টি কেউ আমলে না নিলেও সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনের মুখে। আগামী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে বোম ফাঁটিয়েছেন তিনি। সে লক্ষ্যে তিনি নিজের সংগঠনকে গোছানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান। গত ১ মার্চ অনুসারী নেতাকর্মীদের একটি বহর নিয়ে তিনি টুঙ্গিপাড়া যান। এ সময় টুঙ্গিপাড়া যাওয়া প্রসঙ্গে হাসিনা মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার মাসের প্রথম বিদসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরের ধূলিকণা ছুঁয়ে এই মাতৃভূমিকে সেবা দেয়ার অঙ্গীকার করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহ আছে বলে জানান। তিনি বলেন,’ যে কোনো রাজনীতিকের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা থকে। একজন রাজনীতিক হিসেবে তারও ইচ্ছা আছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। যদি তিনি মনোনয়ন দেন, তবে নির্বাচন করার জন্য সব ধরনের সাংগঠনিক এবং মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে। তার মতে, জনগণের সাথে আপনার ভাইয়ের (মহিউদ্দিন চৌধুরী) সেই হূদ্যতা, সম্পৃক্ততা, জনসেবা ধরে রাখতে চাই। আজীবন জনগণের পাশে থাকতে চাই। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বাকি বছর খানেক থাকলেও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই ধারা। এ প্রসঙ্গে দলের দায়িত্বশীল একজন প্রবীণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। এখানে নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।কিন্তু দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেন সবাই তার পক্ষে মাঠে নামতে বাধ্য হয়’। উন্নয়ন তার নিজস্ব গতিতে চলছে, চলবে। কারণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করা হচ্ছে কেন্দ্র থেকে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই উন্নয়ন ও অগ্রগতির খবর রাখেন’।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত