শিরোনাম

সারাদিন হতে পারে বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:১৭, মে ০৪, ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ফণী আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাধারণ ঝড়ে পরিণত হয়ে ফণী এখন বাংলাদেশের মেহেরপুর, চুড়াডাঙ্গা ও এর পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোয় অবস্থান করছে। এটি আজ বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ অতিক্রম করবে। এরপর ভারতের হিমালয় বা তৎসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দুর্বল হয়ে পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।

ফণী'র প্রভাবে আজ শনিবার (৪ মে) সারাদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানিয়েছেন। ফণীর প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকেই সারাদেশে থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। একইসঙ্গে ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৪ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের চেয়ে প্রায় অর্ধেক গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সকাল সাড়ে ৬টায় আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড় আকারে আজ শনিবার (৪ মে) সকাল ৬ টার দিকে সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চল এবং এদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং সারাদেশে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটারে পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ (ছয়) বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমূদ্রবন্দরকে ৪ (চার) নম্বর ̄স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৪ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে শুক্রবার রাত পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮৬ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র শনিবার সকালে এই তথ্য জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত