শিরোনাম

ফণী আতঙ্কে উপকূলবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের ঢল

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০০:২৪, মে ০৪, ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আতঙ্কে উপকূলের প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ। গত দুদিন ধরেই তাদের অস্থিরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কয়েকদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। আলোচনায় ছিল উপকূলজুড়ে আছড়ে পড়বে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। এতে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে অপূরণীয়।

জানা গেছে, গত ৪৩ বছরে এত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি এ এলাকায়। ফণী আঘাত হানতে পারে এমন শঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছেন উপকূলের মানুষ। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে গতকালই। গতকাল দুপুর থেকেই লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে।

মেঘনার পানি বাড়ছে বলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কমলনগর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় নদী তীর এলাকা প্লাবিত হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দুই ফুট পানির উচ্চতা বেড়েছে। নদীর ঢেউ এসে কূলে থাকা গাছগাছালির সঙ্গে আছড়ে পড়ছে। এদিকে ফণীর প্রভাবে দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে দুপুরের পর থেকেই।

সেই সঙ্গে হাল্কা বৃষ্টিপাতও হয় ঠিক একই সময়ে। পায়রা বন্দরসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়। এর আগে সকালে সামছুদ্দিন আহমদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের চেয়ে প্রায় অর্ধেক গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ থেমে থেমে বৃষ্টি হবে
বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ওড়িশ্যা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানার পর ফণী দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে আসবে ৮০-৯০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে। মোংলা, পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতই বহাল রাখা হচ্ছে। আপাতত এর বেশি বাড়ছে না। চট্টগ্রামে ৬ আর কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর ফলে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে ফিরতে শুরু করেছে গত বৃহস্পতিবার থেকেই।

ইতোমধ্যেই সব ধরনের মাছধরা ট্রলার ঘাটে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাইকিং করে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গতকালই। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হানার আগেই দুর্গত এলাকা থেকে মানুষজনদের সরিয়ে নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে নেয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুদ করা হয়েছে শুকনো খাবার ও চাল। খাদ্য বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিসকে দুর্যোগ পরবর্তী যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভলান্টিয়ারদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও সেনা, নৌ, কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন সাধারণ মানুষকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে কিভাবে বাঁচানো যায়। উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে গতকাল সকাল থেকেই শুরু হয়েছে মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া। এ তথ্য জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল বলেছেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র সর্বশেষ অবস্থা ও প্রস্তুতি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শাহ কামাল বলেন, সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্বেচ্ছাসেবক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা একযোগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা চার হাজার ৭১টি। ইতোমধ্যে ফণীর অগ্রভাগ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

মূল কেন্দ্র আসতে কিছুটা দেরি হবে। ঢাকায় ফণীর প্রভাবেই বৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের ধারণা ছিল, সন্ধ্যা নাগাদ এটি বাংলাদেশে আসবে। এটি একটি বিশাল বডি। এটি সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সারারাত অতিক্রম করতে থাকবে। পুরো ব্যাস বাংলাদেশের সমগ্র আকাশ ছেয়ে ফেলবে মধ্য রাত থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি (শুক্রবার) সকাল ১০টায় ভারতের ওড়িশ্যা উপকূল অতিক্রম করে।

অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। এটি এখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করছে। বিপদ সংকেত থাকা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণকে আমরা অতি দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করছি। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ করতে বলা হবে, এর আগে কেউ যেন আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ না করেন। তিনি বলেন, ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের জন্য যে বাতাসের গতি ৮০ থেকে প্রায় ১৪০ হয়ে থাকে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অতীতে আমরা সবাইকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করিয়েছি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আজকাল গ্রামাঞ্চলে শক্ত বাড়িঘর এমনকি বিল্ডিংও হয়েছে। বহু প্রাইমারি স্কুলে দালান উঠে গেছে। সে কারণে সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না। সবাই যে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসবে তা নয়। সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো আমরা জীবনের কোনো ক্ষতি হতে দেবো না।

এ জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে আসা হবে। আমরা বলেছি, কোনো মানুষকে যেন রেখে আসা না হয়। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যতটা সম্ভব গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ প্রাণীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। আশ্রয়কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রতিবন্ধী ও গর্ভবর্তী নারীদেরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুপেয় পানির কোনো সমস্যা হবে না। আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক প্যাকেট শুকনো খাবার একটি পরিবার সাতদিন খেতে পারবে। সেরকম ৪১ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট আমরা পাঠিয়েছি। ডিসিদের নগদ ১০ লাখ টাকা করে দেয়া আছে। যে কোনো প্রয়োজনে তারা খরচ করতে পারবেন।

এনামুর রহমান বলেন, স্কুল ও কলেজগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র করতে বলা হয়েছে। ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। আমরা জেনেছি, মানুষ এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে। তাই আমরা মনে করি, আমরা একটি জীবনও হারাবো না। এ ছাড়াও রেড ক্রিসেন্টের ১০ হাজার ও স্কাউটের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প হওয়ার কোনো আশঙ্কার কথা আমরা শুনিনি। তবে বৃষ্টির কারণে ভূমিধস হতে পারে। ফণীর প্রভাবে খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে ১১ হাজার হেক্টর ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেও যদি ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার থাকে আর চার থেকে পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয় তা হলে খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর ধানের ক্ষতি ঠেকাতে পারব না।

মুখ্য সচিব বলেন, আমাদের ওপর যে ঝুঁকি সেটাকে খাটো করে দেখা সমীচীন হবে না। উপকূলের লোকজনকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা সার্বিক প্রস্তুত আছি। স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ যেসব বিভাগের ওপর ঝুঁকি আসতে পারে, তারা সবাই কাজ করছে। জনগণকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে সাইক্লোনকে নিতে হবে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রভাগ বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে। সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েই বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ফণী। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে গতিবেগ কমে গিয়ে এটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোর ও খুলনার উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ফণীর অগ্রভাগ বাংলাদেশে আঘাত হানতে শুরু করেছে। ওইসব এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক আমার সংবাদকে বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছে।

এরই প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখনো এর গতিবেগ ১৪০-১৬০ কিলোমিটার। তবে মূল ঝড় বাংলাদেশে আসতে আসতে এর গতি আরও কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাতাসের তীব্রতা এবং ধ্বংসক্ষমতা অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়কে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার হয়, তাহলে তাকে ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

গতিবেগ ৮৯-১১৭ কিলোমিটার হলে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮-২১৯ কিলোমিটার হলে সেটিকে হ্যারিকেন গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়। এ হিসাবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর বর্তমান গতিবেগ আছে ১৪০-১৬০ কিলোমিটার। ফলে ঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে আঘাত হানার সময় ঝড়ের গতিবেগ ৮০-১০০ কিলোমিটার হতে পারে। তাহলে ঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানার পর এটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সর্বশেষ ৯ এপ্রিল আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার। ঝড়ের অগ্রভাগ দেশের যশোর ও খুলনা অঞ্চল দিয়ে ঢুকতে শুরু করলেও চার বন্দরের সতর্ক সংকেত বদলানো হয়নি।

বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে গতকাল জুমার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আল মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে বেফাকের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফী দোয়া করেছেন।

এসময় আল্লামা শফী বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় শুনেছি, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ভারতে আঘাত হানার কথা ছিল। সেটি নাকি এখন বাংলাদেশের দিকে আসছে। আপনারা সবাই আল্লাহ পাকের দরবারে দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন। আল্লাহ যাতে আমাদের মোনাজাত কবুল করেন। ঘূর্ণিঝড় ফণীকে কেন্দ্র করে সরকারি সব সংস্থা এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে শুক্র ও শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খোলা রাখা হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত