শিরোনাম

ভয়ংকর রূপে ফণী

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৩০, মে ০৩, ২০১৯

*আঘাত হানতে পারে আজ সন্ধ্যায়
*অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ
*প্রস্তুত সেনাবাহিনী ও ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক
*১৯ জেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল
*ফণী নিয়ে সংসদে বিশেষ সতর্কতা

বাংলাদেশের মানুষের জীবনের সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। আইলা, সিডর, নার্গিসসহ বড় বড় দুর্যোগের ভয়াবহতা দেখেছে এদেশের মানুষ। তার রেশ রয়ে গেছে আজও। এই অবস্থায় আবারো বড় দুর্যোগের কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশ। বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। ইতোমধ্যে ফণী আঘাত হানার আশঙ্কায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই দুই বন্দরে আগে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেয়া হয়েছিল। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে আগের ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আজ সকালে ফণী খুলনা ও তৎসংলগ্ন জেলার পূর্বাঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে আঘাত হানতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ফণী। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

গতকাল দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল, সেখান থেকে এখন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে মোংলা থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। চারদিকে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে ভারতীয় উপকূল অতিক্রম করার পরও বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা আছে ফণীর। এছাড়া উপকূল অতিক্রম না করলেও বাংলাদেশে আসবে। যেকোনোভাবেই হোক ফণী বাংলাদেশে আসবেই। মূলত খুলনা অঞ্চল দিয়েই এই ঝড় আসবে, তাই খুলনা ও পায়রা বন্দরকে ৪ হুঁশিয়ারি সংকেত থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর পাশাপাশি ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর এলাকায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত থাকবে। এছাড়া চট্টগ্রামকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর এলাকা ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজারকে এখনো ৪ নম্বর সংকেতই দেখানোর কথা বলা হয়েছে।

শামছুদ্দিন আহমদ বলেন, এছাড়া উপরোক্ত জায়গায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ ফিট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা ও ঝড় হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারতীয় উপকূলে আঘাত করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। গতিপথ পরিবর্তন করে সরাসরি এদেশে আঘাতের সম্ভাবনা আপাতত নেই। আজ সন্ধ্যা কিংবা কাছাকাছি সময়ে ঝড়টি আঘাত হানতে পারে ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে। বাংলাদেশে এ আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উপকূলের জেলা খুলনা ও বরগুনা। এছাড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাভাবিক চেয়ে জোয়ারের উচ্চতা বাড়তে পারে ৪ থেকে ৫ ফুট।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন জেলাসমূহে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে- বিভিন্ন বাহিনী ও দপ্তরের জরুরি সেবা কার্যক্রম। দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখন আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আমাদের সার্বক্ষণিক আপডেট দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিপিপির (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) হেডকোয়ার্টার এবং উপকূলীয় ১৯টি জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এসব জেলার উপজেলা পর্যায়েও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। রেডক্রিসেন্টের নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে। উপকূলীয় আর্মি স্টেশনগুলোতেও ঢাকা থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারা প্রস্তুতি রেখেছে। মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব জেলার প্রশাসকদের কাছে ২০০ মেট্রিকটন চাল পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে পাঁচ লাখ করে টাকাও দেয়া হয়েছে। ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্যালাইনের জন্য সুপেয় পানির ট্রাক পাঠানো হয়েছে।কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তুতি আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, উখিয়ায় যে সাইক্লোন শেল্টারগুলো আছে সেখানে তাদের পাঠানো হবে। যেহেতু বেশিরভাগ বসতি পাহাড়ের উপরে এবং উপকূল থেকে বেশ দূরে, তাই তাদের ঝুঁকিটা অনেক কম।

অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের ওড়িশ্যা হয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় দেশের অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএ।বিআইডব্লিউটিএ-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী ধেয়ে আসায় নিরাপত্তার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সব নৌযানকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

ফণী মোকাবিলায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী
দেশের যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। আর দেশের চলমান এই সংকটেও দেশের মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দুল আজিজ আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সাভার সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর বার্ষিক ফায়ারিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।জেনারেল আব্দুল আজিজ আহমেদ বলেন, ভারতের ওড়িশ্যা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সব ডিভিশন ও এরিয়া হেডকোয়ার্টারকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। দুর্যোগের পূর্বে, চলাকালে বা পরবর্তীতে যেকোনো দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। এ সময় সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লে. জেনারেল শফিকুর রহমান, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট লগ এরিয়ার জিওসি মেজর জেনারেল এসএম সফিউদ্দিন আহমেদ, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেন, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৯ জেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল
এদিকে তীব্র ও প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে দেশের উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অফিস এক আদেশে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সব শাখা ১ মে থেকে প্রতিদিন খোলা থাকবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় এবং জরুরি কাজের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১ মে থেকে সব ছুটি বাতিলের কথাও জানানো হয় ওই অফিস আদেশে।৩ ও ৪ মে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর খোলা থাকবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত দুটি অফিস আদেশ জারি করেছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আশঙ্কা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব নৌযান বন্দরে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি তথ্য ও নির্দেশনা আদান-প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সংস্থায় কন্ট্রোল রুম খোলা নিশ্চিত করতে হবে।

১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, প্রস্তুত ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক
এদিকে ফণী মোকাবিলায় উপকূলীয় ১৯ জেলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম), ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) উৎপল কুমার দাস এসব তথ্য জানান।তিনি বলেন, ভলান্টিয়ারদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত, তারা কাজও শুরু করেছেন। এছাড়া সিপিপির (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) হেড কোয়ার্টার উপকূলীয় জেলাগুলোতে কাজ শুরু করেছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, রেডক্রিসেন্টের কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। উপকূলীয় আর্মি স্টেশনগুলোতেও ঢাকা থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।উপকূলীয় জেলার প্রশাসকদের কাছে ২০০ টন চাল পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে ৫ লাখ করে টাকাও দেয়া আছে। একই সঙ্গে ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্যালাইনের জন্য সুপেয় পানির জন্য পানির ট্রাক পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

নৌমন্ত্রণালয়ের সব দপ্তর খোলা রাখার নির্দেশ
ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধিনস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ আগামী ৩ ও ৪ মে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধিনস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ খোলা থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় হতে এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আশঙ্কা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব নৌযান বন্দরে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে; বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি তথ্য ও নির্দেশনা আদান-প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থায় কন্ট্রোল রুম খোলা নিশ্চিত করতে হবে।

ফণী নিয়ে সংসদে বিশেষ সতর্কতা
বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় সংসদ। সংসদ ভবনের মতো বিশাল স্থাপনার কোনো রুম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, কোথাও যেন আগুন না লাগে সে জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।কয়েকদিন আগেই অধিবেশন শেষ হওয়ায় আজও সংসদ সচিবালয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এছাড়া শনিবার সারাদিনই বন্ধ। তাই ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে সংসদের কোনো রুমের কাচের জানালা যেন খোলা না থাকে সেই নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক রুমের বৈদ্যুতিক বাতি, এসির সুইচ যাতে বন্ধ থাকে সে নির্দেশনাও দেয়া হয়। সংসদ ভবনের প্রতিটি শাখা/অধিশাখায় রাখা সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে এ ঘোষণা আসে।

পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে মাঠের ৮০ ভাগ পাকা বোরো ধান কাটতে এবং ভুট্টা, চীনা বাদামসহ পরিপক্ক সব ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।আদেশে বলা হয়, প্রিয় কৃষক-কৃষাণী ভাই ও বোনেরা, ঘূর্ণিঝড় যে কোনো সময় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বোরো ধানের শতকরা ৮০ ভাগ পেকে গেলে কেটে ফেলুন। পাশাপাশি পরিপক্ক চিনাবাদাম, ভুট্টা ও সবজির সংগ্রহ করুন। এদিকে ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত বিশেষ কৃষি বার্তায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মেহেরপুর ও নোয়াখালী জেলার জন্য বলা হয়, তুলনামূলকভাবে অতি ভালো বৃষ্টি (৬.০-১০.০ সি.মি) ও তীব্র বেগে বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় দণ্ডায়মান ফসল রক্ষার জন্য নিম্নলিখিত কৃষি পরামর্শ জরুরিভাবে প্রেরণ করা হলো-
১. বোরো ধান ৮০ শতাংশ পরিপক্ব হলে দ্রুত তা কেটে ফেলা, অন্যথায় তীব্র বেগের বাতাস ও বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
২. পরিপক্ব চিনাবাদাম, রবি ভুট্টা ও সবজি দ্রুত সংগ্রহ করে নিতে হবে।
৩. সেচ নালা পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে ধানের জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে।
৪. ক্ষেতের চারপাশে উঁচু বাঁধ দিতে হবে যাতে পানির স্রোত দণ্ডায়মান ফসলের ক্ষতি করতে না পারে।
৫. যেহেতু ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে তাই এই মুহূর্তে বীজ বপন ও চারা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৬. সেচ, সার ও কীটনাশক প্রদান আপাতত বন্ধ রাখতে হবে।
এছাড়া রংপুর, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, নরসিংদী, লালমনিরহাট, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার জন্যও অনুরূপ বিশেষ কৃষি বার্তা দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত