শিরোনাম

শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ‘ফণী’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৩:১৭, মে ০২, ২০১৯

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আগামীকাল শুক্রবার (৩ মে) বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশ অতিক্রমের সময় এটির গতি হবে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড় ফণী এখন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে মংলা থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। যেকোনো ভাবেই হোক ফণী বাংলাদেশে আসবেই। মূলত খুলনা অঞ্চল দিয়েই এই ঝড় আসবে।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে এমনটাই জানানো হয়েছে। বুলেটিনে বলা হয়েছে সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তী সময় উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

সকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমদ জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী এখন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে মংলা থেকে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। চারিদিকে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে ভারতীয় উপকূল অতিক্রম করার পরও বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা আছে ফণীর। এছাড়া উপকূল অতিক্রম না করলেও বাংলাদেশে আসবে। যেকোনো ভাবেই হোক ফণী বাংলাদেশে আসবেই। মূলত খুলনা অঞ্চল দিয়েই এই ঝড় আসবে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমূদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

৭ নম্বর বিপদ সংকেত : উপকূলে উদ্বেগ বাড়িয়ে মারাত্মক প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ক্রমে ভারতের ওড়িশা উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৬.০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমূদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ : অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী এগিয়ে আসায় প্রতিকূল আবহাওয়ার শঙ্কায় সারাদেশে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। সেই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিআইডাব্লিউটিএ-এর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত