শিরোনাম

কাঙ্ক্ষিত ডাকসু নির্বাচন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ কাম্য

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৬:১০, মার্চ ০৫, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে গত রোববার। ডাকসুর ওয়েব সাইট এবং হলের নোটিস বোর্ডে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ জন, সহ-সাধারণ (এজিএস) পদে ১৩ জনসহ ২৩১ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া হল সংসদের প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত শিক্ষার্থী পরিষদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্রজোট, বাম ছাত্রজোট, কোটা আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ বেশ কয়েকটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর গতকাল থেকেই বহুকাঙ্ক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।এবারের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহের অন্ত নেই। কারণ আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত ডাকসু নির্বাচন প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ ছিল। ১৯৯০ সনে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্বৈরাচারকবলিত বাংলাদেশে। এরপর একের পর এক নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও তারা ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বড় দলগুলোর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এ ঔদাসীন্য অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কারণ, ডাকসু আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছিল। বিশেষত স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ডাকসু স্বাধীনতাপূর্বকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ডাকসুকে বলা হয় নেতৃত্ব তৈরির সূতিকাগার। ইতোপূর্বে যারা ডাকসুর ভিপি-জিএসসহ বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে দেশের ছাত্র রাজনীতির দৈন্যর কথা না বললেও চলে। বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব রয়েছে বয়স্ক ও অছাত্রদের হাতে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, কোনো কোনো ছাত্র সংগঠন তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের এ নির্বাচনে মনোনয়ন দিতে পারেনি। তাদের কারো ছাত্রত্ব নেই, কারো বয়স পেরিয়ে গেছে। আজ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে অছাত্রদের যে প্রাধান্য তার মূল কারণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া। অনেকের মতে, ছাত্র সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় পদ দখল করে রাখা অছাত্র নেতাদের কারসাজিতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। এবার যে ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যথায় এ সময় ডাকসু নির্বাচন হতো কি না সন্দেহ। দেশের বিশিষ্টজনরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ছাত্ররাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি করতে দেশের প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন অতীব জরুরি। হিসাব মতে, মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে ডাকসু নির্বাচনের। এখনো পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত আছে। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে। তবে, এখনো বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন শেষ পর্যন্ত পরিবেশ সুস্থ থাকবে কি না। জাতীয় নির্বাচনের ছায়া ডাকসু নির্বাচনেও পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে, আমরা মনে করি, তেমন ঘটনা হয়তো ঘটবে না। কেননা, ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা বজায় রাখতে সব ছাত্র সংগঠনই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তারা যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়, তাহলে নির্বাচনি পরিবেশ সুস্থ থাকবে নিঃসন্দেহে। ডাকসু নির্বাচনের প্রতি শিক্ষার্থীরা কতটা উন্মুখ হয়েছিল তা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা থেকেই অনুমান করা যায়। ক্যাম্পাসে অবস্থানকারী সবগুলো ছাত্র সংগঠনই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এমন কি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। নির্বাচনের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ততা আমাদের আশান্বিত না করে পারে না। তারা ছাত্রজীবন থেকেই গণতন্ত্র চর্চার অনুশীলন করতে পারলে পরবর্তীতে জাতীয় ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে সন্দেহ নেই। এখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীলতার বিষয়টি সঙ্গত কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি পরিবেশকে শান্ত ও অহিংস রাখার দায়িত্ব প্রতিটি ছাত্র সংগঠন ও সেগুলোর নেতৃত্বের। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে তা হাসিমুখে মেনে নিতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনে রাখতে হবে, বিজয় অবশ্যই মহান, তবে বিজয়ের সংগ্রাম মহত্ত্বর। ফলাফলকে মেনে নিয়ে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের নজির তারা স্থাপন করতে পারলেই ডাকসু নির্বাচন অধিকতর অর্থবহ হয়ে উঠবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত