শিরোনাম

নতুন মেয়রের অঙ্গীকার এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ়তার সাথে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:২৮, মার্চ ০৪, ২০১৯

সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। গত শনিবার উত্তরাস্থ নিজ বাসভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্য, নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো। এটি আপনার বা আমার না, আমাদের সবার জন্য, আমাদের প্রাণের ঢাকার জন্য কাজ করবো সবাই মিলে। তিনি ঢাকাকে সুন্দর ও আলোকিত নগরে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও বলেছেন। মেয়র বেদখল হয়ে যাওয়া নগরীর রাস্তা-ফুটপাত নাগরিকদের ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি তার পূর্বসূরি সাবেক মেয়র মরহুম আনিসুল হকের শুরু করা নগর উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন। মেয়র আতিকুল ইসলামের এ অঙ্গীকারকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হয়। তিনি সর্বস্তরের নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর উন্নয়নে কাজ করার যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, তাতে তার উদার মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে আমরা মনে করি। একথা সত্যি যে, তিনি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, যেটি বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, সে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি ও এর অধিবাসীদের সবার মেয়র। দল-মত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখন সবার প্রতিনিধি। তাদের সবার ভালো-মন্দের প্রতি দৃষ্টি রাখা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা তার প্রধান দায়িত্ব। নগরবাসী আশা করে, তিনি সব ধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দুই অংশে বিভক্ত ঢাকা মহানগরীর সমস্যা অনেক। আতিকুল ইসলাম এর একটি অংশের দায়িত্ব পেয়েছেন। সে অংশটি অভিজাত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। তাও অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য। এক বছরের কিছু বেশি সময় রয়েছে তার হাতে। এ সময়ের মধ্যে নগরবাসীর সব প্রত্যাশা পূরণ বা সব সমস্যার সমাধান তিনি করে ফেলতে পারবেন এমনটি নয়। কেননা তার হাতে আলাদিনের চেরাগ নেই। তাকে কাজ করতে হবে নানা সমস্যা-সংকট, বাধা-বিঘœ, প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে। পূর্ববর্তী মেয়র যেভাবে নগরীর সমস্যা সমাধান ও নগরবাসীর সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন, তার উদাহরণ নতুন মেয়রের সামনে রয়েছে। নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে সেগুলো নিশ্চয়ই তাকে শক্তি জোগাবে। তাছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন মানুষ। ভালো কাজের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থন পাবেন তাতে সন্দেহ নেই।যেসব সমস্যা ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারী মানুষদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয় তন্মধ্যে পরিবহণ সেক্টর অন্যতম। বর্তমানে নগর পরিবহণ সেক্টরে কোনো শৃঙ্খলা নেই। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা আইন-কানুনের প্রতি তেমন তোয়াক্কা করতে চায় না। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা যাতায়াতের ভোগান্তির অবসান। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। ঢাকা মহানগরীর পরিবহণ ব্যবস্থাকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওয়তায় আনার কথা বহুদিন থেকেই শোনা যাচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদগণও একই অভিমত ব্যক্ত করে আসছেন। কিন্তু পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং একগুয়েমির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। মরহুম আনিসুল হক এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যু সবকিছু স্থবির করে দিয়েছে। আনিসুল হকের যে কাজটি সর্বজন প্রশংসিত হয়েছিল, সেটি হলো তেজগাঁও সাত রাস্তার মোড়ের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ। নানা ধরনের বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তিনি সে কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। তাছাড়া নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখারও উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। নতুন মেয়রকে সেসব কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, তিনি নগর পিতা নন, নগরবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তার কাজ করার মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নগরবাসী তাদের মাথার ওপর কোনো আত্মগরিমাসম্পন্ন মেয়র চায় না। তারা চায় একজন অভিভাবক, যিনি বন্ধুর মতো তাদের পাশে থাকবেন। আর একজন বন্ধুসুলভ অভিভাবকই পারেন নগরবাসীর সমস্যা সমাধান করে তাদের জীবনযাত্রাকে নির্বিঘœ করতে। মেয়র তার বক্তব্যে একটি সুস্থ ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তা করতে হলে যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে সে কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এটা ঠিক, নগরীর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মেয়রের। কিন্তু তার একার পক্ষে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়; যদি নগরবাসীর সহযোগিতা তিনি না পান। সুতরাং নিজেদের স্বার্থেই নগরবাসী প্রত্যেককে মেয়রের উদ্যোগের সহযাত্রী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি আধুনিক ঝলমলে ঢাকা গড়ে তোলা কঠিন কোনো কাজ নয়। আমরা নতুন মেয়র আতিকুল ইসলামের কাজ করার অঙ্গীকারকে স্বাগত জানাই। সে সাথে প্রত্যাশা করি, তিনি তার কর্মের মাধ্যমে নগরবাসীর হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে সক্ষম হবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত