শিরোনাম

বাজারে প্লাস্টিকের চাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:১৩, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৯

হঠাৎ করেই নতুন বছরের শুরুতে ধান ও চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। মান ভেদে ধানের দাম মণে বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর চালের দাম ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে নতুন বছরে কেজিতে ধানের দাম বেড়েছে আড়াই থেকে ৩ টাকা। আর চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। এমনিতেই বাজারে চালের দাম চড়া, এই সুযোগ নিচ্ছে প্রতারকরা। অবাক হলেও সত্য, তারা প্লাস্টিকের চাল সরবরাহ করছে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, গাইবান্ধা শহরের নতুনবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের কৃত্রিম চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত এসব চালের মধ্যে ১৫ কেজি পরীক্ষার জন্য ঢাকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা শহরের নতুনবাজারের রুবান দেওয়ানের দোকান থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রনি মিয়া গত রোববার বিকেলে শহরের নতুনবাজারের রুবান দেওয়ানের দোকান থেকে ছয় কেজি চাল কেনেন। এসব চাল বাড়িতে নিয়ে ভাত রান্নার পর খেতে অন্যরকম লাগে। এতে ভাতের চাল নিয়ে তার সন্দেহ হয়। গত সোমবার সকালে এই চাল ভাজতে গেলে দেখা যায়, কড়াইতে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাল পুড়ে গলে যায়। একপযোর্য় দেখা যায়, আগুনের তাপে সব চাল গলে জমাট বেঁধে বল আকৃতির হয়ে যায়। পরে রনি মিয়া এসব চাল নিয়ে সদর থানায় উপস্থিত হন। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনি মিনি খেলার কোনো মানে হয় না। কারণ এটা গর্হিত অপরাধ। এমনিতেই মিনিকেট চালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। আসলে মিনিকেট চাল বলতে কোনো চালের অস্তিত্ব নেই। এটা অতিলোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তারা বিডি- ২৮ কে মেশিনে চিকন করে বাজারে ছাড়ে। কারণ বর্তমান বাজারে ২৮ আর মিনিকেট চালের প্রতি কেজির মূল্য পার্থক্য ১০ থেকে ১২ টাকা। এবার যদি প্লাস্টিকের চাল বাজারে পাওয়া যায় এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চের শেষ দিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের ছয় জেলার দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়। ওই সময় থেকেই বাড়ছে চালের দাম। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, এ দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। ভাতনির্ভর বাঙালি যদি চাহিদা মতো চাল কিনতে না পারে কিংবা কিনতে হয় উচ্চমূল্যে বা প্লাস্টিকের চাল তবে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কি? একদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে ধান-চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাসাধারণের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। আর নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্লাস্টিকের চাল। নতুন সরকারের কার্যকর উদ্যোগই কেবল পারে এর সমাধান দিতে। আমাদের প্রত্যাশা, যারা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত