শিরোনাম

চা উৎপাদনে রেকর্ড রপ্তানি খাতেও আসুক সফলতা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৮:৫৬, জানুয়ারি ২৮, ২০১৯

আবহাওয়া যেমনই থাকুক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে না। বরং বাড়ছে। উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। চায়ের আওতা ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নানামুখী পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। সে কারণেই এবার কিছুটা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উৎপাদনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড স্থাপন করা গেছে। বাংলাদেশের জন্য শুধু নয়, চামোদীদের জন্যও সুসংবাদ বৈকি, চা উৎপাদনে বিশ্বে এখন নবম স্থানে বাংলাদেশ। উৎপাদন ক্ষেত্রে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে চা চাষ। একটানা কয়েক বছর ধরেই দশম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। বিশ শতকের শেষে চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল একাদশ স্থানে। আর ১৯৮৯ সালে ছিল দ্বাদশ স্থানে। সদ্য বিদায়ী বছরে সারাদেশের ১৬৬টি বাগানের উৎপাদনের হিসাবে দেখা যায় উৎপাদন হয়েছে আট কোটি ২১ লাখ কেজি চা। এ হিসাবে চার হাজার ১০৫ কোটি কাপ চা (প্রতি কাপ ২ গ্রাম) হয়েছে দেশে। ২০১৭ সালে উৎপাদন হয়েছিল সাত কোটি ৮৯ লাখ কেজি। চা উৎপাদনে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয় ২০১৬ সালে সাড়ে আট কোটি কেজি। এই সময় চা চাষে পুরোপুরি অনুকূল আবহাওয়া ছিল। এবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে ভাল হয়েছে। চা বোর্ড উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল এবার সাত কোটি ২৩ লাখ কেজি। বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন ৯৭ লাখ কেজি বা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের গড় উৎপাদন হিসাব করে চায়ের উৎপাদনের ধারাবাহিকতা হিসাব করা হয়। গত তিন বছরে (২০১৩-১৫) গড় উৎপাদন ছিল ছয় কোটি ৫৮ লাখ কেজি। ২০০৯ সালে চা শিল্পের উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনার সরকার কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চা চাষের আওতা বাড়ায়। চা চাষের নতুন এলাকা হিসেবে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, লালমনিরহাটে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৭ সালে উত্তরাঞ্চলে চা উৎপাদন হয়েছিল ৫৪ লাখ কেজি। গত বছর উৎপাদন ৫৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৫ লাখ কেজি। একই সঙ্গে বান্দরবানের রুমায় চা চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাগান মালিকরা এখন পুরনো চারা উঠিয়ে নতুন চারা লাগাচ্ছেন। এমনকি পরিত্যক্ত জমিতেও চা চাষে তাক লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত থাকা ভূমি চট্টগ্রামের হালদা ভ্যালিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চা উৎপাদনে আশাতীত সাফল্য পাওয়া গেছে। হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনের জন্য জাতীয় পদক পাওয়া হালদা ভ্যালিতে গত বছরও চা উৎপাদন বেড়ে হয়েছে নয় লাখ কেজি। চীনে গ্রিন টি রফতানির পাশাপাশি দেশে ড্রাগন ওয়েল গ্রিন টি নামে ব্র্যাডিংও করেছে উৎপাদক কোম্পানি। পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আট বছর আগেও এ অবস্থা ছিল না চা শিল্পে। উল্টো ২০১০ সাল থেকে চা আমদানি শুরু হয়। শঙ্কা ছিল চা আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ এক কোটি ১৪ লাখ কেজি চা আমদানি করা হয়। তবে এখন চাহিদার কাছাকাছি উৎপাদন হওয়ায় আমদানিও কমেছে। গত বছর চা বোর্ড ৬৫ লাখ কেজি চা আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুমতি দিয়েছে। অবশ্য দেশে ভোগ বাড়ায় চা রানি কমেছে। গত বছর সাড়ে ছয় লাখ কেজি চা রফতানি হয়। উৎপাদন বাড়ায় বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এ মৌসুমের ৩৭টি নিলামে চায়ের গড় দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ২৭০ টাকা, যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। এখন দেশে চায়ের বাজারের আকার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্রিটিশদের হাত ধরে এদেশে চা বাগান গড়ে ওঠে। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানের মাধ্যমে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। আর এখন বাগান বেড়ে হয়েছে ১৬৬টি। শেখ হাসিনার সরকার চা শিল্পের উন্নয়নে নতুন নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। তাতে অদূর ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়বে। রপ্তানি খাতও বেড়ে উঠুক- সেটাই প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত