শিরোনাম

বইপ্রীতি-বইস্মৃতি

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০০:৪৯, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

বইয়ের সাথে দিনে রাতে/ থাকার জন্য হাসিতে/ জীবন সাজাই জ্ঞানের জন্য/ নিত্য ভালোবাসিতে/ ভালোবাসার আলো আশার বইকে নিয়ে চলা/ সঙ্গে আছে, শ্রদ্ধাস্যারের রঙ্গিন কথা বলা...॥ এমন করেই কেটেছে শৈশব আর কৈশোর। সেখানে নিমগ্ন ভোর ছিলো, মা হীন নিদারুণ দোর ছিলো, সেই দোরে আলোর ইশারা ছিলো, এই ইশারার হাত ধরে এগিয়ে যেতে যেতে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শ্রদ্ধাস্যারের বইপ্রেরণা ছিলো নিরন্তর। বইয়ের হাত ধরে, বইয়ের আলোয় পৃথিবী দেখতে দেখতে শিখতে শিখতে তৈরি হয়েছি স্বপ্নপথে। দীর্ঘ দেড় যুগে গড় উঠেছে বইসম্পর্ক। এই সম্পর্কের রাস্তায় আমার মত অবিরত তৈরি হয়েছে অনেক বন্ধু। তৈরি হয়েছে শান্তা ফারজানার মত অসংখ্য বন্ধু। যে বন্ধুদের অর্জন সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। এই অর্জনের রাস্তায় আমাদের রাজনীতি পাবে ভালোবাসার রাজনীতিক, পাবে শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মবীর। সেই আলোঘরের সাথে এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর। সেই আলোঘর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অর্জন গৎবাঁধা কোনো নিয়মে বোঝানো যাবে না। কিন্তু এর অভিঘাত প্রবলভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত তরুণ প্রজন্মের চিত্তের আলোকায়ন ও মননের উৎকর্ষ সাধনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রভাব কতটা সুদূর প্রসারী হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি প্রচলিত সেবা-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে বোঝানো যাবে না। এর পরও শতসহস্র ছাত্রছাত্রী ও ব্যক্তি বিশেষের জীবনে ও সমাজে উচ্চমূল্যবোধে ও পূর্ণতর মনুষ্যতে জেগে ওঠার মধ্যে দিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার অর্জনের মাত্রা অনুভব করতে পারে। গত ৩৫ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র স্কুল ও কলেজের প্রায় ৪,০০০,০০০ (চল্লিশ লক্ষ) ছাত্রছাত্রীকে তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করেছে। বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ছাত্রছাত্রী সম্পৃক্ত আছে যা ২০১৮ সালে ৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ইতিমধ্যেই একটি প্রজন্ম তৈরি হয়েছে যাঁরা গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিভিন্ন উৎকর্ষ কার্যক্রমের আলোকে উন্নততর মনুষ্যত্বে উত্তীর্ণ হয়েছে যার প্রকাশ ঘটছে তাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও তার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিভিন্ন কর্ম ও অবদানের জন্যে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আমার হৃদয়জুড়ে আলোর কথা কানে বাজে এভাবে- আলোকিত মানুষ চাই, আলোকিত সমাজ চাই এধরনের সেøাগান যেমন আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই শুনতে পাই তেমনি সাহিত্যপ্রেমী কবি সাহিত্যিক, সমাজ হিতৈষী, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের লেখনির মাধ্যমে এবং রাজনীতিকরা বক্তৃতা বিবৃতিতেও প্রায়ই বলে থাকেন। অনেকেই আলোকিত মানুষ, আলোকিত সমাজ গড়ার কাজে নিরলসভাবে নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ফলও আমরা তথা পুরো মানব সমাজ ভোগ করছে। তবে, এখানে উল্লেখ্য যে, আলোকিত সমাজ গড়তে হলে সমাজে বসবাসকারী মানুষগুলোকে প্রথমে আলোকিত করা জরুরি। তবেই আলোকিত সমাজ সৃষ্টি সম্ভব। আর আলোকিত মানুষ গড়ার একমাত্র বাহন বই। জ্ঞানী গুণীদের রচিত বই পড়ার মধ্যদিয়ে মানুষ নিজেদের মনের ভেতরের কলুষতা এবং অন্ধকারচ্ছন্নতা দূর করতে পারে। বই পড়া এবং বইয়ের রসাস্বাদন করে ভেতরের মানুষটাকে জাগিয়ে তুলতে পারে। আবেগের বশবর্তী না হয়ে ক্রমে মানুষ যুক্তিনির্ভর হয়ে উঠে। যুক্তি নির্ভরতা ছাড়া সমাজ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে, বাড়ে স্বার্থের দ্বন্দ্ব, স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি ইত্যাদির প্রাদুর্ভাব ঘটে। মানুষের মনের কলুষতা, মানুষের মাঝে যত অন্ধকার তা দূর করে আলোর দিকে ধাবিত করা এবং সমাজের ভারসাম্যহীনতা নিরসনে বই পড়ার বিকল্প নেই। কিন্তু বই কেনা আর বই পড়া নিয়ে বাঙালিদের একটা বদনাম দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এই বদনাম ঘুচাতে এবং নিজেদের ভেতর অনন্য এক ভুবন তৈরি করতে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, দর্শন, ভূগোল, ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত হরেক রকম বইয়ের সমাহার ঘটিয়ে মনের ক্ষুধা মিটাতে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে, অনেকেই আবার সমষ্টিগত উদ্যোগে নিজেদের ঘরে অথবা পাড়া মহল্লায় গড়ে তুলেছে লাইব্রেরি ও পাঠাগার। এমনকি পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠা ক্লাব, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বই পড়ার সুবিধার্থে ছোট্ট পরিসরে হলেও একটা পাঠাগার গড়ে তুলেছে। পাড়া মহল্লায় পাঠাগার, লাইব্রেরি গড়ে তোলে বই পড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা তথা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে এলাকার শিশু কিশোরদের মাঝে লুকিয়ে থাকা মেধার চর্চা, প্রতিভার বিকাশ ও উৎকর্ষতার প্রণোদনা দেয়ার ব্যাপারে সরকারও মাঝে মধ্যে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও দেশের মানুষের মাঝে পড়ার অভ্যাস সৃষ্টি করার লক্ষে সারা বছরব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থানে বইমেলা, পুস্তক প্রদর্শনী এ ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। প্রতিটি মানুষ মনে করে মনের ভেতরের অন্ধকারাচ্ছন্নতা দূর করে সকল কুসংস্কারকে ভেদ করে নিজেকে এবং সমাজকে আলোকিত করার মাধ্যমে একটা সুন্দর পরিশীলিত সমৃদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব। আলোকিত মানুষ গড়া, আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ, সত্য ও সুন্দরের দিকে পথচলার পথিকৃত হিসেবে এদেশে যদি কারো সম্মান মর্যাদা দিতে হয় তা হলে সেই একমাত্র ব্যক্তি তিনি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, বই পড়া, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের মনের কথা উপলব্ধি করে তিনি আলোকিত মানুষ গড়া, আলোর পথে মানুষকে ধাবিত করার মানসে প্রথমে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং পরবর্তীতে বইকে মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়ার উপায় হিসেবে বই পড়া নিয়ে এদেশে ব্যতিক্রমী এক দর্শন এবং উপায় উদ্ভাবন করেছেন যার নাম ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’। দেশের বড় বড় শহরগুলোতে নিয়মিত চোখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি যার কাজ হচ্ছে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করা। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বাস করেন “বাস্তবের আগুন থেকে জন্ম নেওয়া আলোর দাহ যাকে স্পর্শ করবে সেই আলোকিত পৃথিবীর জন্য জীবনকে উদ্বুদ্ধ করবে। সৌন্দর্য আর দায়িত্ববোধের উপলব্ধি কোন অবাস্তব পৃথিবীর স্বপ্ন নয়। মানুষের শক্তি আর স্বপ্ন এক সঙ্গে জ্বলে উঠলেই কেবল এদেশ থেকে নৈরাজ্য দূর হবে। আর মানুষের আলোকিত চৈতন্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে একমাত্র বই”। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার লক্ষে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র শুধু শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করে তার কাজ শেষ করেনা। বই পড়া, পঠিত বই নিয়ে আলোচনা, প্রতিযোগিতা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে উৎসাহ আর অনুপ্রেরণার জন্য পাঠকদের সময়ে সময়ে পুরস্কৃত করার আয়োজন করে থাকে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিশীলিত করার এবং আলোকিত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে নতুন এবং ব্যতিক্রমী অবদানের কৃতিত্ব একমাত্র আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের অবদানে আজ দেশের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বই প্রিয় মানুষগুলো যেখানে বই দেখে, বই পড়ার সুযোগ পায় সেখানেই মনের আনন্দে নিজেদের পছন্দমত বই পড়তে বসে যায় এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে পছন্দমত বই সংগ্রহ করেন। শৈশবের সেই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বর্তমান ভবনে গেলেই প্রতিটি মানুষের মন ভাল হয়ে উঠার কথা, যেহেতু সেখানে হাল নাগাদ দেশ বিদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, নৃতত্ত্ব, জীবনচরিত, ধর্ম দর্শন, স্থাপত্য, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে নতুন নতুন বই পাওয়া যায়। আরো মেলে বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়ে ম্যাগাজিন, জার্নাল, পিরিওডিক্যালস ইত্যাদি। সেহেতু, ছাত্র শিক্ষক এবং বই প্রেমীদের এক নতুন মিলনস্থল বা মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই বই বিপণি কেন্দ্র। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা, নতুন মনোজগত তৈরির যেন এক বিচিত্র কারখানা। বই বিপণি কেন্দ্রটিতে ভেতরে গেলে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবেনা যেহেতু, প্রতিটি বিষয়ের বই যেমনিভাবে আলাদা আলাদা তাক এ সাজিয়ে রাখা হয়েছে তেমনি রয়েছে নির্বাচিত লেখক, প্রকাশক, লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্য সাময়িকী, শিশু কিশোর এবং ক্যাফে নামক প্রভৃতি আকর্ষণীয় কর্ণার। ২০০৫ সালে এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শুরু করে দিব্যি বইয়ের প্রতি ভালবাসা ও পাঠক সৃষ্টির কার্যক্রম ক্রমবর্ধমানগতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানেও বিস্তার লাভে সহায়তা করছে। এই সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো- অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মদানের ভিতর দিয়ে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ তার নির্মাণের পর্ব। এই নির্মাণকে অর্থময় করার জন্যে আজ দেশে চাই অনেক সম্পন্ন মানুষ; সেইসব মানুষ যারা উচ্চ-মূল্যবোধসম্পন্ন, আলোকিত, উদার, শক্তিমান ও কার্যকর- যারা জাতীয়-জীবনের বিভিন্ন অঙ্গনে শক্তিমান নেতৃত্ব দিয়ে এই জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারবে। তাদের আজ পেতে হবে আমাদের বিপুল সংখ্যায়- সারা দেশে, সবখানে। এককে-দশকে নয়; সহগ্রে, লক্ষে। আর কেবল সংখ্যায় পেলেই চলবে না- তাদের পেতে হবে একত্রিত ও সমবেত আয়োজনে। তাদের গ্রথিত করতে হবে শক্তিশালী সংঘবদ্ধতায়, উত্থান ঘটাতে হবে জাতীয় শক্তি হিসেবে। জাতীয় জীবনে উচ্চায়ত চৈতন্য ও আলোকের পদপাত আজ ঘটাতেই হবে আমাদের যদি একটি বড় দেশ আর বড় জাতি গড়ার কথা আমরা ভাবি। ক্ষুদ্র মানুষ আর বড় জাতি একসঙ্গে হতে পারে না। কিন্তু একটি জাতির বৈষয়িক প্রবৃদ্ধির মতো তার চিত্তের সমৃদ্ধি রাতারাতি ঘটানোর কোনো পথ নেই। আত্মিক বিকাশের গতি চিরকাল মন্থর দীর্ঘমেয়াদি ও রহস্যময়। মানবজীবনের চেতন-অবচেতনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও অসংখ্য ছায়াঢাকা অনুষঙ্গের অন্ধকার পথে তার যাত্রা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আজকের স্বপ্ন, চেষ্টা ও আয়োজনের পথ ধরে আগামীতে যদি দেশের সবখানে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রদীপের মতো উজ্জ্বল, বুদ্ধিদীপ্ত, আলোকিত সন্তানেরা জন্ম নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারে, তবে, অনেক পরে, একদিন, ওইসব মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন, উদার ও প্রগতিশীল মানুষের উৎকর্ষমন্ডিত বেদনাবান হৃদয়, নিজ-নিজ কর্মজীবনের বিচিত্র উদ্যোগ ও নির্মাণের ভেতর দিয়ে যে-দেশ ও জাতিকে রচনা করবে তা সমৃদ্ধতর হবে বলেই আমাদের আশা। সারা দেশের সবখানে পর্যাপ্ত সংখ্যায় এইসব আলোকিত, কার্যকর ও উচ্চমূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা, জাতীয় শক্তি হিসেবে তাদের সংঘবদ্ধ ও সমুন্নত করা এবং এরই পাশাপাশি দেশের মানুষের চিত্তের সামগ্রিক আলোকায়ন ঘটানো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি ছাত্রজীবন থেকে বর্তমানের প্রতিটি ক্ষণে। নিরন্তর সেই এগিয়ে চলায় আমি মনে করি স্মৃতির পাতা তৈরি হয়েছে ভালোবাসা-শ্রদ্ধায়। অগ্রণি জীবনে নিবেদিত থাকতে হবে বইয়ের জন্য। এই ভাবনা থেকে বই লিখেছি শতাধিক। প্রকাশিত ৫৩ টি। বই আর বই-ই হোক কালোহীন আলোকিত জীবনের ধারাপাত। নামতার মত করে বুঝতে চাই জীবনের অংক। যেখানে দেশের জন্য বিজয় থাকবে বইয়ের মত করে; অবিরত তাই এগিয়ে যেতে চাই বই ভালোবেসে-আলোহেসে... আর সেই কারণে নিজের প্রতিটি পর্বে বয়ে বেড়াই বইস্মৃতি, বইপ্রীতি। আশা করি পেশাগত জীবনে একজন প্রকাশক হিসেবে, লেখক হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে বরাবরের মত অবিরত বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা বাড়ানোর জন্য নিবেদিত থাকবো। যেভাবে বরেণ্য শ্রদ্ধা স্যার সারা জীবন নিবেদন করেছেন। আমি মনে করি দেশকে ভালোবাসতে হলে অবশ্যই সামান্য জ্ঞান অন্তত অর্জন করতে হবে। বই-ই সই জ্ঞানের অন্যতম বাতিঘর বিধায় বইয়ের রাজ্যে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি একুশের বইমেলায়...।

লেখক : মোমিন মেহেদী সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত