শিরোনাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশবাসীর চাওয়া

প্রিন্ট সংস্করণ॥মীর আবদুল আলীম  |  ০২:১৩, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হলেন আপনি। চারটে খানে কথা নয়। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আপনি সফল হলেন; দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে বিতর্কিতদের ঝেড়ে ফেলে পরিচ্ছন্ন একটি মন্ত্রিপরিষদও গঠন করলেন। তাতে দেশজনতার কাছে বাহবা পাচ্ছেন বেশ। দেশে চলমান মেঘা প্রকল্প, নিজস্ব অর্থায়ণে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, পারমাণবিক চুল্লি, মেট্রোর রেলসহ নানা উন্নয়ন কর্মকা- অব্যহত রাখতে আপনার কোন বিকল্প ছিলো না। গত দশ বছরে আপনি বাংলাদেশের অনেক চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেছেন। বিদ্যুতে ব্যাপক সফলতা, রাস্তা-ঘাট, সেতু-ফ্লাইওভার সবই করে দিয়েছেন। দেশ থেকে জঙ্গি নির্মূল করেছেন, সন্ত্রাস দমনে সচেষ্ট ছিলেন। একাদশ নির্বাচনে আপনি দেশবাসীর কাছে আগামি ৫ বছর সময় চেয়েছেনও। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও সময় পেলেন। আপনার সে আশা পূরণ হয়েছে। এবার আপনার কাছে আমাদের দেশবাসীর কিছু চাওয়ার আছে। দেশবাসীবাসী আপনার কাছে ৩টি জিনিস চায়। আপনাকে তা দিতেও হবে। এটা আমাদেও সকলের দাবি। রাজনৈতিক কোন চাওয়া-পাওয়া নয়। যা চাইবো তা আমাদের অধিকারও। আপনার এ বিষয়ে স্বদিচ্ছাও আছে জানি। কাকুতি মিনতি করে; হাতে-পায়ে ধরে তা আমরা আপনার কাছ থেকে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি দিতে পারেন এমন আবদারই করবো আমরা আপনার কাছে। কি চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছে? ঐ যে বলেছি মাত্র ৩টি চাওয়া। আর যদি আপনি তা দিল-প্রাণ খুলে দিতেন আমি/আমরা ধন্য হতাম। চির ধন্য। ধন্য হতাম একারণে আমাদের এ আবদার রক্ষায় দেশবাসী চরম সুখে শান্তিতে কাটাতে পারবে। তিনটি জিনিস দেশবাসীকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে! ঐ তিন অখাদ্য দেশের গায়ে পঁচন ধরিয়ে দিচ্ছে। ক্ষততে এখন ক্যান্সার সৃষ্টি হচ্ছে। বলা যায়, দেশবাসী খুব খারপ সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাজে সময়টার প্রায় দ্বারপ্রান্তে আমরা। আমাদের তিনটি চাওয়া পূরণ করতে পারলেই আমজনতা বেশী সুখী হতে পারতো। জানে বেঁচে যেতো; শান্তিতে বসবাস করতে পারতো দেশের মানুষ। মানুষের ওই চাওয়াগুলো পূরণে আপনি কাজও করে যাচ্ছেন। স্বচ্ছ মন্ত্রি পরিষদ গঠন করেছেন। আপনি আরেকটু বেশি নজর দিলেই দেশবাসীর সেই চাওয়া পূরণ হবে। আমাদের কি সেই চাওয়া?
১. ভেজালমুক্ত খাদ্য চাই। ২. মাদকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিন। ৩. সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তেই হবে॥ বোধ করি বড় কোন চাওয়া নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এমনটা চাইতেই পারি। জানি ওনি চাইলে তা দিতেও পারেন। দেওয়ার সদইচ্ছাটাই যথেষ্ট। দিবেন কিনা জানি না। সেটা ওনার বিষয়। তবে জীবদ্দশায় তিনটি কাজ করে গেলে, তাতে সফল হলে চিরকাল দেশবাসীর কাছে চির স্মরণীয়; চির বরণীয় হয়ে থাকবেন আপনি। এ কথা সত্য যে এ ব্যাপারে আপনি গত দশবছর যথেষ্ট কাজ করেছেন। মাদক নিয়ে জেহাদ ঘোষণা করেছেন তবে তাতে প্রশাসন এবং জনগণের সচেতনতা এবং আন্তরিকতার অভাব ছিলো। অপারেশন হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। এবার দুর্বার গতি নিয়ে, প্রবল শক্তিতে, আল্লাহর রহমত নিয়ে এ তিনটি কাজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে করতেই হবে। আমরা দেশবাসী আপনার সাথে আছি। আমরা আশা করছি এ ব্যাপারে আপনি জিরো টলারেন্স দেখাবেন।
ভেজালমুক্ত খাদ্য চাই : ভেজাল খাদ্য এখন সব চেয়ে বড় সমস্যা। ভেজাল খেয়ে খেয়ে আমরা রোগাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছি। ঘরে ঘরে রোগী। ক্যান্সারসহ জটিল রোগবালাই আমাদের দেহে ভর করেছে। মানুষ মরছে কঠিনসব রোগে। মানুষ মরে গেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাদের জন্য, কাদের নিয়ে আপনি রাজনীতি করবেন? তাই ভেজাল খাদ্য রোধে আপনার হুঙ্কার চাই। আপনি গর্জে উঠুন। আমরা আপনার পাশে আছি। ভেজালমুক্ত দেশ গড়তে আমরা কাজ করতে চাই। আপনি আপনার শক্তি দিয়ে; কৈশলে প্রশাসনকে জাগিয়ে দিন। বলে দিন “বাংলাদেশে কেউ খাদ্যে ভেজাল দিতে পারবে না; ভেজাল খাদ্য সরবরাহ করলেই মহাবিপদ”। সারা বাংলাদেশে রটে যাক এই কথা। আমরা কলাম লেখক সাংবাদিক সমাজ এটা প্রচারের দ্বায়িত্ব নিলাম। আমরা দেশকে ভেজাল মুক্ত করতে চাই। আমরা সেই স্বপ্ন দেখি দেশের প্রতিটি মানুষ ভেজাল মুক্ত খাবার খাবে, রোগমুক্ত থাকবে। মানুষ সুস্থ থাকলে, সুস্থ রাজনীতি হবে, দেশে সঠিক উন্নয়ন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এমন একটা দেশই উপহার দিবেন এই আশাবাদ আপনার কাছে। সভ্য সমাজে খাদ্য ভেজালের বিষয়টি একেবারেই অকল্পনীয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটি নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কোথায় ভেজাল নেই সেটি নিয়েই এখন গবেষণা করা দরকার। অনেকে ভেজাল খাদ্যের ভয়ে মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত। জীবনরক্ষাকারী ওষুধেও চলছে ভেজাল। কোনো সভ্য সমাজে খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি কল্পনাও করা যায় না। আমাদের দেশে ভেজালের যে সর্বগ্রাসী আগ্রাসন তাতে মনে করা যেতেই পারে এ একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা সভ্যতার মাপকাঠিতে এদিক থেকে জংলি যুগের চেয়েও পিছিয়ে আছি। কারণ আর যাই হোক জংলি যুগের অধিবাসীরাও ভেজালের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হওয়ার কথা ভাবতেও পারত না। একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সব কিছু করা সম্ভব নয়। সবাইকে ভেজালের বিরুদ্ধে জাগতে হবে। প্রশ্ন ওঠে প্রশাসন, আইন আদালত থাকা সত্ত্বেও ভেজালের দৌরাত্ম্য কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না। কেন এই ভেজালকারীদের দাপট? খাদ্যে ভেজালের অপরাধে দেশে কঠিন শাস্তিযোগ্য আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। এ অবস্থাই ভেজালকারীদের উৎসাহিত করছে। আর এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভেজালের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আমজনতা, প্রশাসন, সংশি¬ষ্ট বিভাগের সবাই মিলে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা প্রদর্শনের কোনই সুযোগ নেই। এ অবস্থায় সর্বতোভাবে তৎপর হতে হবে বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সর্বোপরি গণমাধ্যমসহ সকল মহলের ব্যাপক জনসচেতনতাও প্রত্যাশিত। প্রায়শই ভাবি এসব কি হচ্ছে। সব শেষ হয়ে যাচ্ছে নাতো? কলেজ পড়ুয়া ছেলেটার মাথার চুলে চোখ পরতেই চোখ যেন ছানা বড়া। সাদা চুলে আটকে গেল চোখ। অসংখ্য চুলে পাক ধরেছে। ভাগ্নেটার চোখে মোটা পাওয়ারওয়ালা চশমা। বিছানায় কাতরাচ্ছে ক্যান্সারে আক্রান্ত চাচা। খাবারে ভেজালের জন্যই এমনটা হচ্ছে। এমন হচ্ছে কেন? আমরা খাবার খাচ্ছি; না খাচ্ছি বিষ! চারদিকে ফরমালিনের জয়জয়কার। মাছে, আমে, জামে, কাঠাল, তরকারিতে কোথায় নেই এই জীবন হন্তারক ফরমালিন। তেলে ভেজাল, চালে এমনকি নুনেও ভেজাল। কেউ কেউ তো বলেনই বিষেও নাকি ভেজাল। তাই যা হবার নয় তাই হচ্ছে। কিডনি নষ্ট হচ্ছে; হচ্ছে হাই প্রেসার; ক্যান্সার আর হার্ডস্টোকে অহরহ মরছে মানুষ। আমাদের অতি আদরে সন্তানরা অকালে ঝরে যাচ্ছে এসব অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে। প্রতিটি খাবারে মেশানো হচ্ছে বিষ। আর সেই বিষ খেয়ে আমরা আর বেঁচে নেই। জীবিত থেকেও লাশ হয়ে গেছি। এ যেন জিন্দা লাশ। রোগে শোকে কয়েকটা দিন বেঁচে থাকা এই আরকি। প্রতিনিয়তইতো বিষ খাচ্ছি। ক’দিন আগে এক বিখ্যাত কলামিস্ট তার লেখায় লিখেছিলেন- “আমরা প্রতি জনে; প্রতি ক্ষণে; জেনে শুনে করেছি বিষ পান”। আরেক জন লিখেছেন- ‘কত কিছু খাই ভস্ম আর ছাই’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আর ভেজাল খেতে চাই না। সর্বদাই নির্ভেজাল খাবার চাই। আপনি দেশবাসীর জন্য ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করুন।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিন : মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এখন সময়ের দাবি। মাদকের নেশায় শিশু ঐশীরা খুনি হয়ে উঠছে। সজ্ঞানে নয়, মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে অসুস্থ মস্তিষ্কে বাবা-মাকে হত্যা করছে তাদেরই ঐরশজাত সন্তান। অনেক তরুণ-তরুণীই এখন মাদকাসক্ত হয়ে ঘটাচ্ছে ভয়াবহ অপরাধ। এসব ঘটনায় তারা গ্রেপ্তারও হচ্ছে। কিন্তু সমস্যার মূলে হাত পড়ছে না। রোধ করা যাচ্ছে না দেশব্যাপী মাদকের অবাধ বেচাকেনা। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দেশের প্রশাসন মাদকের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলো। সরশের মধ্যে ভুত থাকলে দেশ থেকে মাদক নির্মূল হবে না। যাদের এ অবৈধ ব্যবসা রোধ করার কথা সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাদের মদদেই চলছে মাদক ব্যবসা। মাদকের প্রসারতা ইউনিট পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন ঘরে ঘরে মাদকাসক্ত। মাদকাসক্ত ছেল বাবা-মাকে খুন করছে, ভাই ভাইকে নেশার ঘোরে খুন করছে। সন্তান যখন পরিবারের সদস্যদের জন্য সহিংস হয়ে উঠে তখন এর চেয়ে ভয়ানক আর কি হতে পারে? আমরা ধর্মকর্ম থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ভিনদেশি কালচার রপ্তকরছি। মাদকের সয়লাব আর সামাজিক বন্ধন লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিধায় এমন ঘটনা ঘটছে। পুত্র সন্তানরা বাবা-মাকে নেশাগ্রস্ত হয়ে খুন করছে। নেশায় আসক্ত কন্যা সন্তানরাও বসে নেই। বাবা-মাকে খুন করবে। এখন সাধারণ পরিবারে খুনের ঘটনা ঘটছে, একসময় উচ্চপর্যায়ে ঘটবে। মন্ত্রী, মেয়র, চেয়ারম্যান সাহেবগণ খুন হবেন নিজ সন্তানের হাতে, মেম্বার, কমিশনারগণ খুন হবেন মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে। এমন দিনের মুখমুখিই হচ্ছি আমরা। দেশে মাদকাসক্তরা এটার পর একটা নজির ঘটাচ্ছে। কি করছে প্রশাসন? প্রশাসনের কি দায় দায়িত্ব বলে কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কারের পরেও মাদক প্রতিকারে ওনাদেরর তৎপরতা নিষ্প্রভ কেন? মাদক নির্মূলে পুলিশের দায়িত্বটা একটু বেশী। আজকাল পত্রপত্রিকাতে যা দেখছি তাতে মাদক নির্মূলের চেয়ে পুলিশ মাদকের লালন করছে বেশী। তাহলে মাদক নির্মূল হবে কি করে? পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়ত করা, কোথাও কোথাও পুলিশ নিজেরাই মাদক বিক্রি করার মতো ঘৃণ্য অপরাধ করছে। মাদক থেকে সংগৃহীত অর্থ পুলিশের উর্ধ্বতনদের হাত পর্যন্ত পৌছে বলেও আমরা খবরের কাগজে দেখেছি। নেশা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। এত ব্যর্থতা তবুও এ ক্ষেত্রে আমাদের নজর নেই। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। আমাদের ভাই বন্ধু, সন্তানদের আর মাদকাসক্ত হতে দেয়া যাবে না। ওদের আর খুনী বানানো যাবে না। এদের এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। এদেশকে থেকে মাদক নির্মূল করতেই হবে। আমরা চাইলে সবই সম্ভব। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে, প্রশাসনকে সচেষ্ট হতে হবে তবেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ওয়ার্ড পর্যায়ে মেমম্বারগণ, ইউনয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য/মন্ত্রী, সবাইকে মাদক নির্মূলে সদিচ্ছা থাকতে হবে। সকলের সম্মিলিত ইচ্ছে শক্তি মাদক বাংলাদেশ ছেড়ে পালাবেই পালাবে। সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তেই হবে :- থানা পুলিশে, প্রশাসনে, বিদ্যালয়ে, মাঠে ঘাটে ঘুষ লাগে। ঘুষ-দুর্নীতি, প্রায়সই মারামারি হানাহানির দুর্বিপাকে আবদ্ধ হই আমরা। বেসরকারি, সরকারি প্রতিটি দফতরে ঘুষ-উপরির দৌরাত্ম্য। এমন কোনো দফতর নেই, যেখানে ঘুষ-দুর্নীতি নেই। দুর্নীতি রোধে আপনি স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেছেন। প্লিজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বলে দিন- “ঘুষ ছাড়া সকল সেক্টরে সেবা পাবে দেশের মানুষ“। আপনার আইটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের মেধাকে কাজে লাগিয়ে আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছেন। তাতে দুর্নীতি রোধ হচ্ছে। মানুষের সেবা দ্বোরগোড়ে পৌছে যাচ্ছে। এর পরও ঘুষখোররা থেমে নেই। গোপনে-গাপনে অনেককিছু হয় নানা দফতরে। তা বন্ধ করে দিতে পারলে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোরদের অবস্থা ত্রাহীমধুসুধন হবে। ওরা পালাবে; নয়তো ঘুষ ছাড়া কাজ-কাম করে দেশের মানুষকে শান্তি দেবে। ঘুষ ছাড়া সরকারি দফতরের সেবা মেলে না এটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যুগ যুগ ধরে। এমনকি বেসরকারি ব্যাংক-বীমার চাকরি ও সেবার জন্যও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে ঘুষের লেনদেন। আপনি আপনার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের ঘোষণা দিয়ে ঘুষ, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নির্দেশ দিন। আপনার আরও ভাবমূর্তি উজ্জলের জন্য এটা খুব বেশি জরুরি। সন্ত্রাসীদের একটা ভালো গুণ আছে! ওরা চামচামীটা খুব ভালো জানে। তোয়াজ করতে ওস্তাদ। ওদের মুখোস ভদ্র মানুষের। ওরা শক্তের দারুণ ভক্ত, আর নরমের জম। ওদের চেনা বড় দায়। খোলসে ওরা নোংরামি ঢেকে রাখে তাই আমরা চিনতে পারি না। বিপদ দেখলে ওরা সটকে পড়ে। উল্টো পাল্টা করে। দেশবাসীরসুখ শান্তির জন্য ওদের সন্ত্রাসী কর্মকা- আপনাকে থামিয়ে দিতেই হবে। ব্যক্তি হিসাবে, সৎ মানুষ হিসাবে, নিরহঙ্কারী, দূর্দান্ত সাহসী বলে দেশের মানুষ আপনাকে এখন পছন্দ করে। এমন প্রচার আছে দেশে। কখনো কখনো দলীয় কতক অসৎ নেতাকর্মীর কারণে আপনার সুনামে ভাঁটা পরে। ওরা পরিচয় প্রকাশে বেশ পটু। দাপুটেও। তাই তাদের ভয় পায় সবাই। এই ভয়কে পুঁজি করে ওরা ব্যাবসায়ী, শিল্পপতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ অর্থ কামাইয়ে মত্ত হয়। ওদের আপনাকে চিনতে হবে। ওদের থামিয়ে দিতে হবে, দাবিয়ে রাখতে হবে। তাতেই দেশবাসী বেশ ভালো থাকবে। আপনার সুনামও আরও চাঙ্গা হবে।
লেখক : সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত