শিরোনাম

বাড়ছে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর হতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০২:০৪, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

বছরের শুরু থেকেই সামাজিক অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। শিশু হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, সামাজিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে গেছে। রাজধানীর ডেমরায় শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা ও নুসরাত জাহান এবং গেন্ডারিয়া এলাকায় দুই বছরের শিশু আয়েশাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে পরে তিনতলার জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এসব কথা জানা গেছে। সাতক্ষীরার তালায় নববধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মেহেরপুরের গাংনীতে স্বামী ও সতিনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রংপুরের বদরগঞ্জে রিকশা ভ্যানচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বরগুনায় যুবলীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুরান ঢাকায় তুচ্ছ ঘটনায় খুন হয়েছে এক কিশোর। ফেনীতে চার তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একদিনে গণমাধ্যমে এতগুলো অপরাধমূলক ঘটনার খবর কোনো সামাজিক সুস্থতার পরিচয় বহন করে না। সমাজে নানা কারণে অস্থিরতা বাড়ছে। অন্যদিকে সামাজিক বন্ধনও দিনে দিনে ক্ষয়ে যাচ্ছে। সমাজ থেকে অপরাধপ্রবণতা দূর করা যাচ্ছে না। অপরাধমুক্ত করা যাচ্ছে না সমাজকে। সামাজিক অপরাধের পাশা-পাশি পারিবারিক অপরাধও যে দিনে দিনে বাড়ছে, তারও প্রমাণ প্রকাশিত খবরগুলোতে রয়েছে। সামাজিক বন্ধন ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সর্বত্র। এর ফলে অপরাধ বাড়ছে। একটি অসুস্থ ধারা যেন সমাজে বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা। সামাজিক পরিবর্তনের যে অসুস্থ ধারা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সবখানে। সামান্য কারণেই খুনাখুনির ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। দুই বছরের শিশুকেও ধর্ষণ করা হচ্ছে। পারিবারিক নিষ্ঠুরতার ঘটনাও ঘটছে। এসব নৃশংস কর্মকা- অসুস্থ ও অস্থির সমাজেরই পরিচায়ক। আর সে কারণেই সুস্থ, সুন্দর সমাজ নির্মাণে আমাদের এখনই সচেষ্ট হতে হবে। এজন্য আইনি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা না গেলে অস্থিরতা কমানো যাবে না। এর জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরও প্রয়োজন রয়েছে। দেশে নতুন সরকার এসেছে। নতুন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এই সরকার। পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন করা না গেলে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা যাবে না। আমরা আশা করব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরো সক্রিয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত