শিরোনাম
বাড়ছে সেবা রপ্তানি

সেবা খাতগুলোকে উন্নত করা প্রয়োজন

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৩:৪০, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

পণ্যের তুলনায় সেবা রপ্তানি বাড়ছে বেশি হারে। রপ্তানি খাতে প্রায়ই যুক্ত হচ্ছে নতুন সেবা। বাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্য খাতে নতুন দিগন্তেরই উন্মোচন করেছে। এক দশক আগেও যা ছিল অভাবনীয়, অকল্পনীয়, শেখ হাসিনা সরকারের দক্ষতা ও দূরদর্শিতার কল্যাণে এ খাত নতুনত্বের সন্ধান দিয়েছে। চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-১৯) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তথা প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন ধরনের সেবা রপ্তানি বেড়েছে রেকর্ড ৫৬ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে রপ্তানি বেশি হয়েছে ১৩ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থ বছরের (২০১৭-১৮) একই সময়ের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। গত অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে আয় হয়েছিল ৯০ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন ধরনের সেবা খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৫ কোটি ডলার। যার বিপরীতে আয় হয়েছিল ১৪০ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। সেবা রপ্তানির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পরিবহণ সেবা, পর্যটন, ব্যাংক-বিমা, টেলিযোগাযোগ সেবা। এ তালিকায় নির্মাণ, কম্পিউটার ও তথ্য সেবা, মেধাস্বত্ব ইত্যাদিও রয়েছে। বছরের কম বেশি চার শ’ কোটি ডলারের বেশি আয় আসছে এখন সেবা রপ্তানি থেকে। মোট রপ্তানি আয়ে সেবার অংশ দশ শতাংশের মতো। পণ্যের মতো সেবা রপ্তানিও অনেক সম্ভাবনাময়। তবে সেবা রপ্তানিতে মানের উন্নয়ন খুব বেশি জরুরি। এটা আসলে জ্ঞাননির্ভর বিষয়। সেবা রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও খুব সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পেরেছে তা বলা যাচ্ছে না। দেশের চিকিৎসা সেবা উন্নত হলে এ দেশে সেবা নিতে আসত বিদেশিরা। এতে সেবা রপ্তানি বাড়ত। এখন হচ্ছে তার উল্টো। দেশের লোক বিদেশে যায় চিকিৎসা নিতে। শিক্ষাসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে সেবা রপ্তানিতে খুব বেশি কিছু করার নেই। ব্যবসায়িক স্বার্থে বেসরকারি খাতকেই এ বিষয়ে এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। যদি হয় তাহলে সেবা রপ্তানি অনেকদূর এগিয়ে যাবে। চলতি অর্থবছরে পরিবহণ খাতে প্রথম এই তিন মাস রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যার বিপরীতে আয় হয়েছে ১৯ কোটি এক লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয় এক দশমিক তিন শতাংশ। নির্মাণ সেবা খাতে একই সময় রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তিন কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আয় হয় নয় কোটি ২৬ লাখ ডলার। আয় বেশি হয় ১৩৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ভ্রমণ সেবা খাত থেকে অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৬২ লাখ ডলার। যার বিপরীতে আয় হয় আট কোটি ১৬ লাখ ডলার। আয় কম হয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি সেবা রপ্তানি হয়েছে টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি সেবা খাতে। এ খাতে প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। আয় হয় ১৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার। আয় বেশি হয় ১৩ দশমিক দুই শতাংশ। আকাশ পরিবহণ থেকে আয় হয়েছে সাড়ে চার কোটি ডলার। আগের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। সমুদ্র পরিবহণ সেবা রপ্তানি বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ। আয় এসেছে ৪ কোটি ডলারের কিছু বেশি। পর্যটন সেবা রপ্তানি থেকে আয় এসেছে পাঁচ কোটি ডলারের মতো। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। তবে অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সেবা কমেছে। আগের একই সময়ের তুলনায় এই তিন মাসে রপ্তানি কম হয়েছে ৬০ শতাংশ। আয় এসেছে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি। বিভিন্ন ব্যবসা খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। আয় হয় ২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয় ১৯ দশমিক ছয় শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সেবা রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি ডলার। গত অর্থ বছরে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৪৩৪ কোটি ডলার। সেবা খাতগুলোকে আরও বেশি উন্নত করা গেলে রপ্তানি আয় বাড়বে। কর্তৃপক্ষ যদি এই খাতের বিষয়ে আরও সুদৃষ্টি প্রদান করে তবে আয়ের পরিমাণ বাড়তে বাধ্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত