শিরোনাম

চালের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:৩৪, জানুয়ারি ০৭, ২০১৯

আমাদের বাজারে যেন কোনো নিয়ম-নীতি খাটে না। ব্যবসায়ীরা চাইলেই এখানে যেকোনো জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। সেভাবেই হঠাৎ করে বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত, আর সরু চালের দাম বেড়েছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। বেড়েছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে এক ডজন ডিম বিক্রি হতো ৯৫ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। শাকসবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। অথচ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন নেই, বাজারে কোনো পণ্যেরও ঘাটতি নেই। তাহলে হঠাৎ করে এভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা অবশ্য বরাবরই নানা রকম অজুহাত দেখিয়ে থাকেন। যেমন এখন বলা হচ্ছে, নির্বাচনের সময় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে পণ্য কম এসেছে। কিন্তু বাজার ঘুরে কোথাও পণ্যের কোনো অভাব দেখা যায়নি। আর নির্বাচনের পাঁচ দিন পর তো কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই। তার পরও পণ্যের দাম কমছে না কেন? এখন আমনের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় বাজারে চালের দাম প্রতিবছরই তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকে। অথচ এ সময়ই চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? মিলাররা বলছেন, সরকার ধান-চাল কেনায় বাজারে ধানের দাম বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে ধান কেনায় তারা বেশি দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু তাতে বোরো জাতের চালের দাম বাড়বে কেন? এখন তো তারা বেশি দাম দিয়ে বোরো ধান কিনছেন না। ব্যবসায়ীরা সময়ে সময়ে দাম বাড়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা বলেন। প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রতি চালের দাম কোথাও বাড়েনি, বরং তা কমতির দিকে। তাহলে আমাদের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী? কারণ একটাই ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ।সাধারণ মানুষ বা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। সরকার কি এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে? তা যে ঠিকমতো করা হচ্ছে না, বাজারের দিকে তাকালেই সেটি স্পষ্ট হয়। চালের দাম বাড়লে মানুষের ওপর, বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির ওপর তার প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। তাই চালের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। সরকারি সংগ্রহ অভিযানের কারণে প্রকৃত অর্থেই যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান-চালের সংগ্রহ কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করা যায় কি না তা বিবেচনা করে দেখতে হবে। আর তা যদি অসাধু ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজির কারণে হয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত