শিরোনাম

রপ্তানি আয়ে স্বস্তি এই ধারা অব্যাহত থাকুক

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:২৮, জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তা এখন আর কোনো গালগল্প নয়, বরং সেটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪.৪২ শতাংশ। এ সময়ে বৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এটি তার চেয়েও ৯.১৩ শতাংশ বেশি। এই সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ২০.৫০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৭.৯১ বিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, বছরের বাকি ছয় মাস এই ধারা শুধু অব্যাহত থাকবে না, বরং আরো বৃদ্ধি পাবে। শুধু পণ্য রপ্তানিই নয়, সেবা খাতেও রপ্তানি বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হারে। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় বর্তমান অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি ৫৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার। ধারণা করা যায়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই হার অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাত মিলিয়ে মোট রপ্তানি ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। অথচ এক দশক আগেও অর্থাৎ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ছিল মাত্র ১৪ বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন, বিশেষ করে বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সহজলভ্য হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে। অবকাঠামো উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা গেলে অদূর ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির গতি আরো ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাক হলেও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানিও দ্রুত বাড়ছে। কৃষিপণ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। বাড়ছে মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক পণ্য, সফটওয়্যারসহ আরো অনেক পণ্যের রপ্তানি। পাশাপাশি বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বাজারও ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা নেই। ইউরোপের বাজারেও রয়েছে নানা রকম হুমকি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেনি, বরং বেড়েছে। নতুন নতুন বাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জাপান, ভারত ও রাশিয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে না হলেও, আশা করা যায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। আর এর প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানসহ অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও। রেমিট্যান্সের প্রবাহও বেড়েছে। ২০১৮ সালে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫.৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। আরো অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রগতির এই ধারা বিদ্যমান। উন্নয়নের এই গতি আমাদের ধরে রাখতেই হবে। এজন্য নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর আরো জোর দিতে হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত