শিরোনাম

গঠিত হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা সৎ ও যোগ্যদের নিয়োগ দেয়া হোক

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:৫৬, জানুয়ারি ০৪, ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ৩০০ আসনের মধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। গোলযোগের কারণে একটি আসন বাদ রেখে ২৯৮ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে গতকাল সকাল ১১টায় সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। সামনের সপ্তাহেই শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। নানা বিতর্কের মধ্যেও জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলো একাদশ জাতীয় সংসদের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। সরকার ও সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করে, সব দলের অংশগ্রহণ ও ভোটারদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশের চমকপ্রদ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সরকার ও বিরোধীরা একসঙ্গে কাজ করবে। অন্যদিকে নির্বাচনি সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। অনিয়ম সম্পর্কিত যেসব অভিযোগ এরই মধ্যে উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো তদন্তেরও আহ্বান জানানো হয়েছে পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের অভাবনীয় বিজয়ে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের ২১ দফা অঙ্গীকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে জনকল্যাণমূলক একটি প্রশাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সঠিক জায়গায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সঠিক মানুষকে দায়িত্ব দিতে হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের বিজয় অর্জিত হয়েছে মূলত তরুণ ভোটারদের ভোটে। তরুণরাই বাকবদলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দেশের বিপুল জনশক্তির একটি বড় অংশ তরুণ। তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে অচিরেই পথ হারাবে বাংলাদেশ। কাজেই তরুণসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গড়ার কাজে তাদের নিয়োজিত করতে হবে। তরুণদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের মধ্যে নতুন অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হবে। নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থানের কথা বলা আছে। সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে মানুষ আরো বেশি আস্থাশীল হবে। আস্থার প্রতিফলন ঘটবে আগামি পাঁচ বছর পর। বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দূর করতে আরো কঠোর হতে হবে আগামি সরকারকে। যেকোনো মূল্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারে উদ্বুদ্ধ মানুষ। এবারের নির্বাচনে অনেক যোগ্য মানুষ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছে। সৎ ও যোগ্যদের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিলে সরকার সম্পর্কে সংশয় থাকবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত