শিরোনাম

খুরা রোগের টিকা দ্রুত বাজারজাত করা হোক

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:০১, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

খুরা রোগ ছোঁয়াচে প্রকৃতির মারাত্মক একটি রোগ। বিভক্ত খুরের পশুদের এ রোগ হয়। এটি ভাইরাসজনিত। বাংলাদেশে গবাদি পশুর মধ্যে গরু এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়; কখনো মড়ক আকারে দেখা দেয়। যেকোনো ঋতুতেই এ রোগ দেখা দিতে পারে, সাধারণত বর্ষার শেষে এর প্রাদুর্ভাব বেশি। খুরা রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়; জিহ্বা, মাড়ি, মুখগহ্বর ও খুরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষতের কারণে মুখ থেকে লালা ঝরে এবং সাদা ফেনা বের হয়। কখনো ওলানে ফোসকা পড়ে। এ রোগে বয়স্ক গরুর মৃত্যু কম হলেও বাছুরকে রক্ষা করা খুবই কঠিন। বাংলাদেশে গবাদি পশুর খুরা রোগের কারণে প্রতিবছর ১২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। সুসংবাদ হলো, এ রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি গবেষকরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্ষেত্রে এ উদ্ভাবন মাইলফলক হয়ে থাকবে। উদ্ভাবিত টিকা বাংলাদেশে বিদ্যমান খুরা রোগের তিন ধরনের ভাইরাসের সব ধরনের সংক্রমণ থেকে গবাদি পশুকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। এটি সাশ্রয়ীও। বাজারে প্রচলিত টিকার চেয়ে এর মূল্য অনেক কম পড়বে। আমদানিকৃত প্রতিটি টিকার দাম পড়ে কমপক্ষে ১২০ টাকা। উচ্চমূল্যের কারণে খামারিরা তাদের গবাদি পশুকে টিকা দিতে চায় না। উদ্ভাবিত টিকার দাম পড়বে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অবশ্য এটিকে বাজারজাত করতে আরো বছর দেড়েক সময় লাগবে। এ টিকার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে খুরা রোগের চিকিৎসা ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমবে। পরে এর দাম আরো কমবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক গবাদি পশুর খুরা রোগ প্রতিরোধের জন্য এ টিকা উদ্ভাবন করেছেন। গবেষকদলে মোট ১৭ জন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভাবিত টিকার বিষয়ে অবহিত করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এটি উদ্ভাবন করতে ছয় বছরের বেশি সময় লেগেছে। এরইমধ্যে এর পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণায় বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। উচ্চফলনশীল ধানের জাত ও বিভিন্ন জাতের সবজি উদ্ভাবনে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী-গবেষকরা অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন এবং রাখছেন। পশু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাদের। খুরা রোগের টিকা উদ্ভাবন সে ধারায় নব সংযোজন। এটি খামারিদের হাতে পৌঁছলে প্রাণিসম্পদের সুরক্ষা আরো নিশ্চিত হবে। ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমবে। যত দ্রুত এটিকে বাজারজাত করা যাবে ততই মঙ্গল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত