শিরোনাম

ভিডিও এডিটিংয়ে সফলতার ইতিকথা

প্রিন্ট সংস্করণ॥মোহাম্মদ মাসুদ  |  ১১:২২, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

পরিশ্রমই সফলতার চাবিকাঠি। এ চিরন্তন প্রবাদটিকে যারা বাস্ততায় রূপ দিতে পেরেছেন তাদেরই একজন- সফল ভিডিও এডিটর এম এ রশিদ। দীর্ঘ এক যুগ ধরে পরিশ্রম করতে করতে আজ একটি সফল অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। ১৯৮৮ সালে রংপুর সদরের সাতগাড়া নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পড়াশোনা করেন রংপুর সরকারি কলেজে। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিলো নাটকে অভিনয় করার। সে ইচ্ছা ও স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ২০০৫ সালে ঢাকায় আসেন। এরই মধ্যে পরিচয় হতে থাকে বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে। এর সুবাদে প্রথমে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ডিরেকশন দেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন ও সফলতা নিয়ে তিনি চলে আসেন এফডিসিতে। এর ধারাবাহিকতায় চলতে থাকে তার একাধিক কার্যক্রম। বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে কাজ করতে করতে একসময় শিখে ফেলেন ভিডিও সম্পাদনার কাজটি। তখন তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে মিডিয়ায় কাজ করতেন। এখন তিনি ফ্রিল্যান্স কাজ ছেড়ে দিয়ে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভিডিও সম্পাদনাকে। বর্তমানে এম এ রশিদ একটি বেসরকারি শিশুতোষ টেলিভিশন চ্যানেলে (দুরন্ত) ভিডিও এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টেলিভিশনের দর্শকরা যে সমস্ত অনুষ্ঠান দেখে আনন্দ উপভোগ করেন; সে সকল অনুষ্ঠানে ক্যামেরার পেছনে থেকে অফুরন্ত ধৈর্য নিয়ে কাজ করে অনুষ্ঠানটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলাই তার দায়িত্ব। তার মতে- একজন ভিডিও এডিটরের অফুরন্ত ধৈর্য থাকতে হবে। উদ্যম থাকতে হবে হাজারো ভুল সংশোধনের। অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে এবং উপভোগ করতে হবে। দেশি-বিদেশি সিনেমা, নাটক এবং বিভিন্ন টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে লেগে থাকতে হবে। প্রচুর গবেষণা করতে হয় প্রত্যেকটি কাজ নিয়ে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা আছে; আর এটা থাকবেই। যে জিনিস সহজে পাওয়া যায়, কোনো বাধা থাকে না- ওই পাওয়ায় তৃপ্তি পাওয়া যায় না। তাই জীবনে কিছু করতে হলে বাধা আসবেই। সেই বাধা ডিঙিয়ে সামনে যেতে হবে। যারা বাধা ডিঙিয়ে সামনে এসেছে, তারাই আজ সফল হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকজন সফল ভিডিও এডিটরের মধ্যে এম এ রশিদ একজন। চলচ্চিত্র, নাটক, প্রামাণ্যচিত্রসহ বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন ও জনপ্রিয় কাজ করেছেন তিনি। টিভি নাটকের দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘হাতবদল’, ‘আসিতেছে তারাখান’ ও ‘চোখ’ অন্যতম। এছাড়াও ভিডিও সম্পাদনা বিষয় নিয়ে লেখালেখিও করেন তিনি। ‘ভিডিও সম্পাদক সেচ্ছাসেবী সংগঠন’ নামে তার একটি সংগঠন রয়েছে। তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ছোট পরিসরে এ সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করলেও খুব কম সময়ের মধ্যে নজর কাড়ে অনেকের। এছাড়া সংগঠনের সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- প্রচুর প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা, বেকারত্ব দূরীকরণ, আর্থিক সহযোগিতা, গরিব মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা, পথশিশুদের ঈদের পোশাক দেয়া এবং দুস্থ রোগিদের বিনামূল্যে রক্তদান করা। এম এ রশিদের গড়া ‘ভিডিও সম্পাদক সেচ্ছাসেবী সংগঠন’ এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে ভিডিও সম্পাদনার ওপর ফ্রি ক্লাস নেওয়া হয়। বর্তমানে সংগঠনটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি গ্রাফিক্স আর্ট ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। বর্তমানে ওই সংগঠনের ৭-৮ জন নারী ‘ভিডিও এডিটর’ হিসেবে কাজ করছেন। ভিডিও এডিটিংয়ে সফলতার বিষয়ে এম এ রশিদ বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি, আমার মতো খুব কম সময়ে এমনভাবে জায়গা তৈরি করতে পারেননি কেউ। কারণ আমি কাজের কোয়ালিটি বিবেচনায় রেখে কাজ করি। তাই আমার পেমেন্টও অন্যদের চেয়ে বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যরা একটি নাটক সম্পাদনা করলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আমি ১২ থেকে ১৫ হাজারের নিচে সম্পাদনা করি না। বর্তমানে অল্প টাকায় শিক্ষানবিশ এডিটরদের দিয়ে কাজ করানো হয়। ফলে খুব ভালো কাজ মার্কেটে নেই।’ সংগঠনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিলো ডিরেক্টররা কাজ করে টাকা দিত না। সে জন্য একটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছি। কেউ কাজ করিয়ে টাকা না দিলে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী টাকা উঠানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করি।’ তার মতে, প্রতিটি কাজের পেছনে হাজারো বাধা-বিপত্তি থাকবেই। তবে ওই কাজে লেগে থাকতে পারলে সফলতা আসবেই আসবে। জীবনে সুনাম অর্জন করতে হলে কিছু জিনিস সবার থেকে একটু আলাদাভাবে ভাবতে হয়। যাকে সাধারণত মানুষের গুণাবলি বলা হয়ে থাকে। এই গুণাবলি যাদের মধ্যে বিদ্যমান, তাদের সুনাম সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হবেই। কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকতে হবে এবং সফলতা না আসা পর্যন্ত যারা চেষ্টা চালিয়ে যায়- বাধা, বিফলতা তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না। বাস্তবজীবনে সফল হতে কে না চায়। এর জন্য সকলের সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত করে প্রতিটি বিষয়ে চেষ্টা করতে হবে, হতে হবে অধ্যবসায়ী। আর দুটি বিষয়ের ওপর কখনো আশা হারানো ঠিক নয়। এক. নিজের ওপর আস্থা, দুই. নিজের স্বপ্ন। এ দুটো বিষয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকলে চূড়ান্ত সফলতা আসবেই এটা নিশ্চিত।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত