শিরোনাম

নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৫৩, আগস্ট ২১, ২০১৮

পবিত্র ঈদ-উল আজহা মুসলমানদের জন্যে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বড় এই উৎসবের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন লাখো লাখো মানুষ গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। সরকারি হিসাবে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস ছিলো গতকাল সোমবার। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ঈদের তিন দিন ছুটি এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিন ছুটি। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশসহ অনেকেই রাজধানী ছাড়ছেন। পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের ধারণা এবার ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় বেশি সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন এবং এই সংখ্যা প্রায় এক কোটির মতো হবে। সহজেই অনুমেয় এক কোটি মানুষের ঢাকা ত্যাগ করায়- সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশসহ সকল পথেই বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল ক্রমেই বাড়ছে বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতে। অবশ্য এবার অতিরিক্ত বাস ও লঞ্চের মতো রেলবহরে এবারও বরাবরের মতো বাড়তি গাড়ি-বগি সংযোজন করা হয়েছে। কখনো কখনো রেলের শিডিউল বিপর্যয় ভয়াবহ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঈদের সময় বাড়তি চাপে সময়সূচি কিছুটা হেরফের হওয়া স্বাভাবিক- কিন্তু তা যেন যাত্রীদের সহ্যসীমার বাইরে না যায় সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। ঘরে ফেরার আনন্দের সঙ্গে যাত্রীদের মাঝে থাকে পথ-ঘাটের বেহাল অবস্থা নিয়ে দুর্ভাবনাও। ঈদে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহণ হয় সড়ক পথে এবং বিগত সময়ে সড়ক পথেই ভোগান্তি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। যানবাহনের স্বল্পতা, শিডিউল ঠিক না থাকা, মহাসড়কের বেহাল দশা, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া ইত্যাদি অনেকেরই উৎসবের আনন্দকে বিষাদের ছায়ায় ঢেকে দেয়। অবশ্য গত দুই তিন বছর যাবৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখছি আমরা। কিন্তু আরেকটি বিড়ম্বনা হলো, যাত্রীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোচ্চার হচ্ছে টিকিট কালোবাজারি চক্র, মলম পার্টি চক্র, ছিনতাইকারী চক্র। বিভিন্ন এই চক্রের সঙ্গে রয়েছে পরিবহণ শ্রমিক-মালিকদের দৌরাত্ম্য। যে কোনো উৎসব এলেই তারা ভাড়া বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ে নিয়মিত। যে কোনো ধরনের উৎসব এলেই এই সংখ্যাটা যেন আরও বাড়ে। এসব থেকে উত্তরণে প্রশাসনের সদিচ্ছা ও সততার পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, অতিক্তি ভাড়া আদায়ের মতো সমস্যা বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মলম পার্টির হাত থেকে নিজের সচেতনতাই বাঁচাতে পারে। নৌপথে লঞ্চগুলো যেন কোনোক্রমেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে, সেদিকে রাখতে হবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। সর্বোপরি মানুষ যেন শান্তিতে ঈদ উৎসব পালন করতে গন্তব্যে যেতে পারে, তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং খুশির আবহ যেন শোকে ভেসে না যায়, তার নিশ্চয়তা বিধান করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যেসব যাত্রী বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। কোনোক্রমেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করা উচিৎ নয়। যাত্রাপথে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। পরিশেষে মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও প্রশাসন যদি নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফিরতে পারে শৃঙ্খলা। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ করার জন্য সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের। সকলের প্রতি রইলো পবিত্র ঈদ-উল আজহার শুভেচ্ছা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত