শিরোনাম

গুজবে জনমনে আতঙ্ক আগে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০০:২৭, আগস্ট ১৬, ২০১৮

সেই শৈশব থেকেই আমরা গুজব সম্পর্কে সাবধান বাণী শুনে থাকি। তবু বড় হওয়ার পরও আমাদের বারবার শুনতে হয়- ‘গুজবে কান দেবেন না’। গুজবে শুধু কানটাই দিলে হয়ত বড় ক্ষতি হতো না, কিন্তু বাঙালি যে গুজবে মন দিয়ে বসে! গুজব সম্পর্কে তার আগ্রহ ও কৌতূহল কখনও সীমাও ছাড়িয়ে যায়। তারপর গুজবকে সে বিশ্বাস করতে শুরু করে। দৃঢ় বিশ্বাস। প্রায় অন্ধ বিশ্বাসই বলা চলে। একইসঙ্গে সেই গুজবের দেহে পাখা জুড়ে দিয়ে তাকে বেপরোয়া উড়ে বেড়ানোর সুযোগও তৈরি করে দেয়। আর এভাবেই গুজবের ডালপালা মেলতে শুরু করে। ছড়িয়ে পড়ে গুজব। মানুষ আস্তে আস্তে তাতে জড়িয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। গুজবকে তার সত্যি বলে মনে হতে থাকে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হয়। এক শ্রেণির মানুষ এই গুজব ছড়ানোকে মিশন হিসেবে গ্রহণ করে। বিশেষ করে দেশের বাইরে অবস্থানকারী কোন কোন ব্যক্তি, যাদের এহেন দণ্ডযোগ্য অপরাধ আইনের আওতায় আনার সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত, তারা ফেসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়ায়, উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং একইসঙ্গে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য লোকদের আহ্বান জানায়। একটি বড় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে লোকজনকে আটকে নির্যাতন করা হচ্ছে, সেখানে মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে- এ জাতীয় কথা আবেগময় নাটকীয়ভাবে উচ্চারণ করা হয়। সেইসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য রাত ১০টায় একযোগে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদর দফতরের প্রধান ফটকে সমবেত হওয়ার জন্য ‘উদাত্ত আহ্বান’ জানানো হয়। শতভাগ গুজবের ওপর ভর করে ‘জ¦ালাময়ী’ বক্তব্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার অপচেষ্টা এত তীব্র ও ব্যাপকভাবে দেশে আর ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজসংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে সড়কের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ে গুজবের চাষ ও প্রসার সম্বন্ধে কিছু কথা বলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির সুশিক্ষার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা, গুজব ও অপপ্রচারের জন্য নয়। আর যাই হোক, প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো কখনও সহ্য করা যায় না। কাজেই সবাইকে বলব কেউ গুজবে কান দেবেন না।’ গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এখন গুজব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া যায় মুহূর্তের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ সুকৌশলে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছে। বলাবাহুল্য, এই গুজবের মধ্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়ার উস্কানি দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হলে, মানুষের মধ্যে বিভেদ তুলে দিয়ে তাদের সহিংস হতে প্ররোচনা দিয়ে রক্তক্ষয়ের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে দেশেরই ক্ষতিসাধন করা হয়। দেশ ও দেশের মানুষের যারা কল্যাণ চান, তারা কখনোই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কাজে গুজবকে প্রভাবক বা হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর অপতৎপরতাকে মেনে নিতে পারেন না। বরং তারা প্রতিরোধ করবেন। তাই তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের যুগে গুজবকে উপেক্ষা করার মতো বিচক্ষণতাই কাম্য। তাছাড়া এটাও বলা দরকার, গুজব ছড়ালেই তা বিশ্বাস করতে হবে কেন? এমন প্রশ্ন দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকল মানুষের। শোনা কথায় বিশ্বাস করা হলে শোনানোর মতো মন্দ লোকের অভাব কোনদিনও ঘটবে না। তাই কিছু শুনলে আগে বুদ্ধি প্রয়োগ করে তা বিচার-বিবেচনা করাই হবে সমীচীন ও মঙ্গলজনক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত