শিরোনাম

জাতীয় শোক দিবস বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৩:০৩, আগস্ট ১৫, ২০১৮

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী। আজ বাংলাদেশ ও বাঙালির হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এইদিনে সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি রইলো আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা এবং সবার আত্মার শান্তি কামনা করি। স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হারানোর ক্ষতি ছিলো অপূরণীয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন- বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ আরও অনেকে। সেদিন ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। তখন স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। তখন শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিটি মানুষ যেমন আস্থা রেখেছিলেন, তিনিও তেমনি মানুষের সে আস্থার মর্যাদা সমুন্নত রেখেছিলেন। দেশ মাতৃকার জন্য তাঁর আত্মত্যাগ ছিলো অতুলনীয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনে যখন তিনি পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেছিলেন ঠিক তখনই এক দল বিপথগামী সেনা সদস্য ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে থামিয়ে দেয় বাঙালি জাতির সার্বিক অগ্রযাত্রাকে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয় খুনীচক্র। ইতিহাসের পরিক্রমায় দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং ইনডেমনিটি আইন নামের সেই কলঙ্কিত কালো আইনটি বাতিল করে। এরপর সংবিধানের প্রচলিত আইনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হয়। সে বিচারের রায়ের পর ইতোমধ্যে কয়েকজন খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর কয়েকজন এখনো বিদেশে পালিয়ে আছে। বাকী খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে সম্পূর্ণরূপে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি আদর্শ সংবিধান প্রণয়ন এবং অর্থনীতি, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু কুচক্রীরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দিলো না। তাকে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তেমনি পরিত্যক্ত হয় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতি। তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা জাতির মধ্যে অনেক বিভেদ সৃষ্টি করতে শুরু করে যা আজও চলমান। তাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ও রাষ্ট্রীয় আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের সেই জাতীয় ঐক্য যতদূর সম্ভব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রকৃত গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। জাতীয় শোক দিবস পালন তখনই তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যখন আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনসংগ্রামকে উপলব্ধি করবো, তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করবো। এর মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব হবে। শোকাবহ এদিনে জাতির পিতার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত