শিরোনাম

রেলপথের উন্নয়ন ও যাত্রীসেবা বাড়াতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ॥রায়হান আহমেদ তপাদার  |  ১১:১১, জুলাই ১৬, ২০১৮

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশে দেশে সড়ক পথের অভ‚তপূর্ব বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু রেলওয়ের মাধ্যমে একসাথে বেশি পরিমাণ মালামাল পরিবহনের সুবিধা, যানজট সমস্যা না থাকায়, ভ‚মির পরিমিত ব্যবহার, জ্বালানি খরচ সাশ্রয়, নিরাপদ যাতায়াত এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিবেশ দূষণ করার কারণে পৃথিবীজুড়ে সকল দেশেই রেলকে আবার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়া শুরু হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে এই খাতটি এখনও পর্যন্ত চরম অবহেলার মধ্যে রয়েছে। প্রাচীন এই যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ব্যাপক দরিদ্র জনগোষ্ঠী, শিল্পায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায় এবং আধুনিক ও যুগপোযোগী করা যায় সেই লক্ষ্যে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ প্রত্যেকের নিজস্ব অবস্থান থেকে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি এবং এই দাবির পক্ষে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সমর্থন তৈরি আজকের সময়ের প্রথম দাবি। যেকোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে রেল একটি জনপ্রিয় পরিবহন। আমাদের সীমিত সম্পদ, জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্ন আয় ও কৃষিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্ব ব্যাপক। যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে, বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, পণ্য পরিবহনে, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের ব্যাপক প্রসার এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে রেলকে আধুনিকায়ন ও জনপ্রিয় করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশে বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদী পথের গুরুত্ব থাকলেও কালক্রমে রেলপথের আবির্ভাব গোটা উপমহাদেশে ঘটিয়েছে অভাবিত উন্নয়ন।
রেল ব্যবস্থাকে ভারত উপমহাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয় আধুনিকতার পথে প্রথম পদক্ষেপ। শিল্পায়ন, নগরায়ন, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও এ দেশের আর্থ-সামাজিক অচলায়তনের ধারা ভেঙে পুঁজি ও শিল্পনির্ভর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণে রেলওয়ে পালন করেছে অভ‚তপূর্ব ভ‚মিকা। অর্থাৎ পুরো সমাজ জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে রেলপথের সুবাদেই। সেই ধারাবাহিকতায়ই ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার দর্শনা জগতী সেকশনে ৫৩ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনের মধ্যদিয়ে উপমহাদেশের এ অঞ্চলে রেলের গোড়াপত্তন। শুরু থেকেই রেল এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পালন করছে যুগান্তকারী ভ‚মিকা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দু’শ বছরের শাসনকাল থেকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলপথ ছিল কেন্দ্রীয় ভ‚মিকায়। এরই মাঝে ঘটেছে শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বেড়েছে জনসংখ্যা। তার সাথে সঙ্গতি রেখে বেড়েছে জনগণের চাহিদা, সড়ক পথের ঘটেছে অভ‚তপূর্ব বিস্তার। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমাদের শহর জীবন হয়েছে জনাকীর্ণ, অতি যান্ত্রিকতায় পূর্ণ এবং এখানে জনসংখ্যা বেড়েছে অতি মাত্রায়। ফলে সড়ক পথের উপর পড়ছে অতিরিক্ত চাপ, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্যও কম নয়। গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ঠিক কিন্তু দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে তালে তাল মিলিয়ে।এ দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ বাস করে দারিদ্র্যসীমার নিচে। যাদের অধিকাংশের কাছে ‘স্কাইরেল’, পাতালরেল’, ম্যাগনেটিভ ট্রেন’ দুঃস্বপ্ন। এই দরিদ্র মানুষগুলোর যোগাযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। একে লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এর সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ব্যয় হচ্ছে তা পূরণ করে এটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা যেমন জরুরি ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষের যাতায়াত ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। যা একটি রাষ্ট্রের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।পরিবহনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে কিছু সামাজিক দায়-দায়িত্বও পালন করতে হয়। যা রেলওয়ে ছাড়া আর কোন মাধ্যমে এত সহজে করা সম্ভব নয়। যেমন রেলওয়েকে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এবং যাত্রীকে অতি স্বল্প মূল্যে পরিবহনে সাহায্য করতে হয়। অনেক সময় লাভজনক নয় এমন লাইন চালু রাখতে হয় দেশের জনগণের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনসহ যে কোন দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষদের সাহায্যার্থে ত্রাণ ও পুনর্বাসনসামগ্রী নামমাত্র মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হয়। কখনো কখনো বিনামূল্যেও সরবরাহ করা প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় সামরিক বাহিনীর মালামাল সাধারণ মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে আনা নেয়া করা। যে সুবিধা অন্য কোন মাধ্যম থেকে পেতে হলে আরো অনেক বেশি অর্থ লগ্নি করা প্রয়োজন হবে। তারপরও রেলওয়ের মত সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে না।রেলওয়ে দেশের সেবা খাতগুলোতে যে সুবিধা প্রদান করছে তার যদি একটি আর্থিক মূল্যায়ণ আমরা দাঁড় করাই তাহলে দেখা যাবে যে, রেল কোনদিনই অলাভজনক কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। রেলের একটি কামরায় অনেক মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এখানে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে একটি আন্তরিক পরিবেশে যাতায়াত করা যায়। আবার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও একই কামরায় থাকে। তাদের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়, আদান-প্রদান হয় সংস্কৃতির। গড়ে ওঠে পারস্পরিক সখ্যতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতাবোধ। যা একটি মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে থাকে। সুতরাং দেশের জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই রেলওয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। রেলওয়ের সমস্যা অনেক, একদিকে সময় বেশি লাগে, সাটার লাগে না, বাথরুম অপরিষ্কার, সিটগুলো ময়লা, ছেঁড়া, ফাটা, জানালা নেই, পরিবেশ নোংরা। এসব হয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে, বড় বড় কর্তারা লুটপাট করে এর ব্যবসা নষ্ট করে দিচ্ছে। তারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করে না, টিকেট চেক করে না, কোথায় কি প্রয়োজন সেসব খেয়াল রাখে না। ফলে জনগণের এই বাহনটি ক্রমশ অ-জনপ্রিয় একটি বাহনে পরিণত হচ্ছে। তাছাড়া দুর্নীতি কমাতে হবে, ব্যবস্থাপনা ভালো করতে হবে, ট্রেনের সংখ্যা ও ইঞ্জিন বাড়াতে হবে, সময়মত ট্রেন ছাড়তে এবং স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। সর্বোপরি পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে ট্রেনকে উন্নত করতে হবে। যদি এটি করা যায় তাহলে ট্রেনই হবে যোগাযোগের সবচেয়ে উন্নত বাহন। এছাড়াও রেলওয়েতে দক্ষ জনবল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কোনো কোনো সেকশনে মাত্র একজন লোক দিয়ে পুরো স্টেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে গাড়ির সংবাদ, যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকসহ আরো অন্যান্য যাত্রী সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। রেলওয়ে সরকারি একটি সেবা খাত। জনসাধারণের যোগাযোগ সুবিধার জন্য এর চেয়ে ভালো বাহন আর কিছু হতে পারে না। অধিকাংশ সময় যাত্রী টিকেট কিনতে গিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কিনতে পারে না। তাকে কালোবাজারীদের কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। একাধিকবার যে যাত্রী কালোবাজারীদের মুখোমুখি হয় স্বাভাবিক কারণে সে রেল যাত্রায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। রেলের যে সম্পদ ও সম্পত্তি আছে তা রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোনো ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত দখল হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের জমি ও সম্পদ। এগুলো দিনের পর দিন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। রেলের ক্রাপ, রেলপাত, ভাঙা লোহা অবাধে পাচার হচ্ছে। একটি সক্সঘবদ্ধচক্র কাজগুলো করছে প্রকাশ্যে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। অথচ এই সম্পদের চুরি ঠেকিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে এবং এ সকল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে রেলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। দেশের ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যার যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে ঢাকার ওপর যে অব্যাহত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে ঢাকার আশপাশের শহরগুলোর সাথে রেল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা এবং তার সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর সীমাবদ্ধতা। সীমাবদ্ধাতা কাটিয়ে আশপাশের জেলাগুলোর সাথে ঢাকাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসলে ঢাকা থেকে ধীরে ধীরে মানুষজন আশপাশের জেলাগুলোতে বসতি স্থাপন করবে। তাতে ঢাকার ওপর চাপ কমে আসবে। এবং যানজট থেকেও ঢাকা অনেকটা মুক্তি পাবে।এছাড়া যেটি বলা দরকার তা হলো, ঢাকার আশপাশজুড়ে রেলওয়ের যে নেটওয়ার্ক রয়েছে তার সময় ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ যাত্রী সাধারণের কখন বেশি যাতায়াত করা প্রয়োজন সে অনুযায়ী ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে পৃথিবীজুড়ে রেলওয়ে এক শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় পরিবহন মাধ্যম হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের দেশেও এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে জাতীয় স্বার্থেই সত্যি করে তুলতে হবে। তার জন্যে বাজেটে রেল এর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো, দক্ষতার সাথে ট্রেনের সময় ব্যবস্থাপনা করা, সেবার মান বৃদ্ধি করা, সর্বোস্তরের দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ও টিকিট চেকের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা, দক্ষ লোকবল বৃদ্ধি করা, পর্যায়ক্রমে ঢাকার কাছাকাছি জেলাগুলোতে ট্রেনের যোগাযোগ স¤প্রসারিত করা, মিটিং, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, টিভি টকশো, মতবিনিময় সভা ইত্যাদির মাধ্যমে এর অপরিহার্যতার বিষয়টি সরকার ও নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর করা এবং গণদাবিতে পরিণত করা, গণমাধ্যমগুলোতে রেল ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতি এবং সম্ভাবনার জায়গাগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা ইত্যাদি। উপরের সব উদাহরণ টেনে এক কথায় যদি বলি, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই জরুরি। রেল ব্যবস্থাকে গুরুত্ব প্রদান করা হলে আপামর জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা আরো সর্বজনীনতা অর্জন করবে। উল্লেখ্য, রেল সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষিজাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য কম খরচে ও সহজে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সার্বিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে গণ্য হবে। ফলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। গ্রাম এবং শহরের সাথে চমৎকার সমন্বয় সাধিত হবে। আমরা রেলকে পাব যোগাযোগের একটি সুন্দর মাধ্যম হিসেবে এটাই জাতির প্রত্যাশা।আজকের যে বৈশ্বিক বাস্তবতা সেখানে বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য সেবা খাত হিসেবে রেলওয়েকে চিহ্নিত করা হয় এবং এর উন্নয়নের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছে প্রতিনিয়তই। সেখানে আমাদের দেশে রেল ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের চিন্তাভাবনা চলছে। অথচ রেলযাত্রীর ৯৮ ভাগ স্বল্প আয়ের মানুষ। শুধু তাই নয়, এই ব্যবস্থাটি দরিদ্র মানুষদের জীবিকার্জনের মাধ্যমও বটে। এরকম বাস্তবতায় রেলওয়েকে বেসরকারিকরণ ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সেবা থেকে বঞ্চিত করার জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের আর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ এখনো বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এমনকি এই যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হলে মেরামতের জন্যেও বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। রেলওয়ের প্রত্যেকটি যন্ত্রাংশই দামি। এগুলো যদি বারবার পরিবর্তন করতে হয় বা মেরামতের জন্য বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল হতে হয় কিংবা আমাদের সীমিত সংখ্যক ট্রেনের মধ্য থেকে কোনো ট্রেন বন্ধ রাখতে হয় তাহলে এর বিস্তার কোনক্রমেই সম্ভব নয়। অথচ আমাদের বিশাল জনবল থাকা সত্তে¡ও ধীরে ধীরে নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা সেখানে রয়েছে ঔদাসীন্য।সবশেষে যে বিষয়টি বলা দরকার তা হলো রেলওয়ের যে আন্তঃবিভাগ গুলো রয়েছে তার মধ্যে সমন্বয়হীনতা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। যা রেলওয়ে বিকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, আধুনিক উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।
লেখক ও কলামিস্ট
[email protected]
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত