শিরোনাম
মাদকের টাকার জন্য সন্তান হত্যা

মাদক নির্মূলে কোনো ছাড় কাম্য নয়

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৩৯, জুলাই ১২, ২০১৮

সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পরেও মাদক সেবীদের সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রকাশ্যে মাদক বিকিকিনি কমলেও তার প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। প্রায় দিনই নেশাগ্রস্ত লোকের সংবাদ দেশের মিডিয়ার পাতায় জায়গা করে নিচ্ছে। নেশার টাকার জোগাড় করতে অনেক নেশাখোর এখন নিজের আত্মজনকেও হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। এমনই একটি সংবাদ গত মঙ্গলবার দেশের প্রধান প্রধান দৈনিকের শিরোনাম হয়েছে। ঘটনাটি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার। আহত নেশাখোর সাইদুল ইসলামের স্ত্রী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই নেশায় আসক্ত। নেশার টাকার প্রয়োজন হলেই প্রায়ই তিনি পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করেন। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ তার কাছে নেশার টাকা চান। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন স্বামী। এসময় ঘুমিয়ে থাকা ২ মাস বয়সী তার শিশু সন্তান ইকরা মনিকে তুলে আছাঁড় দেন। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর স্ত্রীকে ও ৯ বছরের মেয়েকে পিটিয়ে আহত করে। অবস্থা খারাপ দেখে পরিবারে ছোট অন্য দু‘সন্তান পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। পুলিশ নেশাখোর সাইদুলকে আটক করেছে। আহত মা মেয়ে এখন হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি। মাদকের ভয়াল গ্রাসের এই চিত্র বলে দেয় সারা দেশে মাদকের অবস্থা। মাদক মানুষের স্বাভাবিক কা-জ্ঞানহীণ করে তোলো। সে হয়ে ওঠে হিংস্র এবং নির্মম। যে পরিবারে একজন মাদকসেবী থাকে সে পরিবারে শান্তি এবং নিরাপত্তা দুইই বিনষ্ট হয়। নেশাখোরের কারণে তাদের সমাজিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মাদক নির্মূলে সর্বোচ্চ কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেখানে মাদকসেবী এবং মাদক পরিবহন ও বিক্রেতাকে দেখা মাত্র গুলি করার মত বিধানও চালু রয়েছে। উদাহরণ হিসাবে আমরা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুর্তাতের কথা তুলে ধরতে পারি। মাদক নির্মূলের জন্য সেখানে হাজার হাজার মানুষকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ভয়ে দেশটি এখন অনেকটাই মাদকমুক্ত হতে পেরেছে। আবার এমন অনেক দেশ আছে যেখানে আইনত মৃত্যুদ- নিষিদ্ধ। সেসব দেশ মৃত্যুদ-াদেশের বিরুদ্ধে প্রণীত আন্তর্জাতিক আইনে স্বাক্ষর করেছে। তার্ওা কিন্তু এখন মাদক নির্মূল করতে সে আইনের ধারা থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দিচ্ছে। এমনি একটি দেশ শ্রীলঙ্কা। বৌদ্ধ প্রধান দেশ শ্রীলঙ্কার আইনে হত্যা, ধর্ষণ, আর মাদক চোরাচালানের মত গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদ-ের বিধান থাকলেও ১৯৭৬ সালের পর দেশটির কোনো সরকারই মৃত্যুদ- কার্যকর করেনি। চলতি বছর জানুয়ারিতে সেখানে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের কোকেন ধরা পড়ার পর সরকার নড়েচড়ে বসে। কিন্তু যারা এই মাদকের কুশীলব তাদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। সেদেশে মাদক অপরাধীদের মৃত্যুদ- কার্যত স্থগিত থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। অবশেষে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রাখা মাদক অপরাধীদের মৃত্যুদ-ের সাজা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রীসভার বৈঠকে সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্র ডেইলি মিরর। দেশটির অভিযোগ, মাদকের কারণে গুরুতর অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদ- ফিরিয়ে আনার চাপ ছিল প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার ওপরে। মন্ত্রীসভার সদস্যরা সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। কারাগারে বসে অপরাধের বিস্তার ঘটিয়ে আসামিরা দেশের সর্বনাশ করবে- এটা আমরা হতে দিতে পারি না। শ্রীলঙ্কার বর্তমান অবস্থার সাথে আমাদের দেশের অবস্থা তুলনামূলকভাবে আলোচনা করা যেতে পারে। বর্তমানে মাদক দেশের এক নম্বর শত্রু। মাদক এবং তার ব্যবহার সম্ভাবনাময় যুব শক্তিকে ধ্বংস করছে। জাতি এবং দেশের আশা ভরসার স্থল এই যুব সমাজ মাদকাসক্ত হওয়ার ফলে দেশের উন্নয়ন দারুনভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাদকাসক্ত পরিবারের জীবনও দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। হবিগঞ্জের ঘটনায় তার প্রমাণ। কেবল হবিগঞ্জেই নয় এধরনের ঘটনা দেশের সব অঞ্চলেই কমবেশি ঘটছে। যদিও সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশের অন্যতম একটি বিরোধী দল। প্রকৃত সত্যি হচ্ছে যখন কেই বিপদে পড়ে তখন সে নিজেকে বাঁচাতে একটি পক্ষ অবলম্বন করে। লক্ষ্য অপরাধকে ভিন্নদিকে ঠেলে দেওয়া। যেহেতু সরকারের চরম বিরোধিতায় দলটি সেহেতু সরকারে যেকোনো ভালো কাজের সমালোচনা করা এবং তাকে বিতর্কিত করা তাদের সুবিধার জন্য অপরিহার্য। বর্তমান সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানকে তারা বিতর্কিত করতে এবং সরকারের জনপ্রিয়তার মুখে ঝামা ঘষে দিতে এই অপকৌশল নিয়েছে। কিন্তু দেশবাসী একথা ভালো ভাবেই জানেন এবং বিশ্বাস করেন মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যারা সমাজও রাষ্ট্রকে মাদকমুক্ত দেখতে চান তারা মাদকবিরোধী অভিযানে সন্তুষ্ট। দেশ থেকে মাদক নির্মূলে সরকারের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। মাদকবিরোধী জিহাদ অব্যহত রাখতে হবে। আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি মাদক নির্মূলে এই অভিযানের বিকল্প নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত