শিরোনাম

ঈদে নিরাপদ যাত্রা সড়কগুলো যানজটমুক্ত করতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৯:১৯, জুন ১৩, ২০১৮

ঈদের আগে সড়ক-মহাসড়কগুলো যানজটের কবলে পড়ে। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের আনন্দময় যাত্রা নিরানন্দে পরিণত হয়। এবারে যানজটের আশঙ্কায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতি বছরই এ ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও এ থেকে বের হওয়ার কোনো প্রচেষ্টা নেই বললেই চলে। যদিও দেশের সড়কমন্ত্রী বলেছেন, এবারের ঈদে যানজট থাকবে না। কোন তথ্যের বলে তিনি যানজটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেন সেটি বোধগম্য নয়। কারণ সরকার শত চেষ্টা করেও যানজটের মূল, সড়কে অবাধে চলাচল করছে স্থানীয়ভাবে নির্মিত বিভিন্ন ধরণের যান। যাদেরকে নসিমন, করিমন, আলমসাধু নামে সারা দেশের মানুষ জানে এবং চেনে। তার ওপরে মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসাবে রয়েছে পুরাতন লক্কড়ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন গাড়ি। ঈদের মওকা ধরতে এরা সড়ক মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়ায়। এদিকে ঈদ শুরুর আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে যানজটের কথা উঠে এসেছে। প্রতিদিনই আমরা যানজটের মোকাবেলা করি। কিন্তু ঈদের সময়ে যানজটের বিষয়টি অত্যান্ত অমানবিক। ঘরমুখো মানুষগুলো এসময় তাদের পরিজন নিয়ে রাস্তায় বের হন। সাথে ছোট-ছোট বাচ্চা থাকায় রাস্তার বিড়ম্বনা তাদেরকে অনেকটাই কাহিল করে তোলে। তাই বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় এই সময়টি একেবারেই ভিন্ন। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘœ যাতায়াতের জন্য সড়ক-মহাসড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তা মোটেও সন্তোষজনক নয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও প্রতি বছর যাত্রাপথের দুর্ভোগ আর ক্লান্তি নিয়েই লোকজনকে বাড়ি ফিরতে হয়। এবার যেন কোনো অবস্থায়ই যানজট সৃষ্টি না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র প্রবেশপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবারো ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলা হলেও পারাপার নিয়ে শঙ্কা কাটছে না যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের রাজধানীর প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আর যান পারাপার হয়। ঈদের সময় এই ঘাটের ব্যস্ততা বেড়ে যায় আরো কয়েক গুণ। অতিরিক্ত এ চাপ সামাল দেয়া এবং যাত্রীদের নির্বিঘœ পারাপার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। এ রুটে যানজট লেগেই আছে। ৬০ কিলোমিটার রাস্তার কখনো ৩০ কিলোমিটার কখনো ২৫ কিলোমিটার আবার কখনো ২০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কে চারলেনের উন্নয়ন কাজ চলার কারণেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। একটু বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে যানজট দেখা দেয়। প্রয়োজনে সামরিক-আধাসামরিক বাহিনীকেও রাস্তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কাজে লাগানো যেতে পারে জনস্বার্থে। ঈদে প্রতি বছরই লাখ লাখ মানুষ তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে উৎসব করতে। সেই যাত্রাকে যতোটা সম্ভব বিড়ম্বনামুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকাই কাম্য। যাত্রাপথের বিড়ম্বনায় ঈদের আনন্দের সামান্য ঘাটতিও যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তের কর্তব্য। আমরা সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর আশ্বাসে আস্থাশীল। মন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সড়কে যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিস্ট বিভাগ তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। সবচেয়ে বড় কথা ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরপদ এবং শঙ্কামুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত