শিরোনাম

রাজধানীতে ভয়াবহ যানজট প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৪০, মে ২৪, ২০১৮

 প্রায় দুই কোটি মানুষের এই মেগাসিটিতে যানজটের কারণে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে দেশের। রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে যে সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট ও দূর্বিষহ তা হলো যানজট এবং যাতায়াত সমস্যা। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ‘গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যানজট নিরসনের পরিকল্পনা রাজনৈতিকদলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার’ শীর্ষক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজধানীতে যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা। আর এতে বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট মনে করে, নগরের যানজট যদি ৬০ শতাংশ কমানো যায়, তাহলে ২২ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যাবে। যতদিন যাচ্ছে সমস্যা ততই প্রকট আকার ধারণ করছে। ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দাদের যানজটের কারণে এখন নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে রাস্তায় আটকে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এক ঘণ্টার পথ পেরোতে কখনও সময় লেগে যায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। এভাবে অপরিমেয় কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে দেশের যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তা অপূরণীয়। ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারী প্রায় দুই কোটি মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজনে রাস্তায় ছুটে চলছে নানা ধরনের বাসসহ অন্যান্য যানবাহন। কিন্তু এত যানবাহন ধারণের ক্ষমতা বা পর্যাপ্ত রাস্তা রাজধানীতে নেই। ঢাকা শহরে প্রতিদিন চলাচলকারী যন্ত্রচালিত যানবাহনের সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার। গেলো ৬ বছরে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার। বিআরটিএ’র তথ্য অনুসারে, রুট পারমিট নেওয়া ঢাকার বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ৫ হাজার ১০৩টি। বর্তমানে ঢাকার যানবাহনের গড় গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার। কিন্তু গাড়ির সংখ্যা যদি বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকে, ২০২৫ সাল নাগাদ গড় গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটারে নেমে আসবে, যা মানুষের হাঁটার গতির চেয়েও কম। অথচ মানুষের হাঁটার গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটারের ওপরে। ২০৩৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। রাজধানীতে যানজটের অন্যতম আরেকটি কারণ সড়কের স্বল্পতা। একটি মোটামুটি উন্নত শহরের জন্য ২৫ শতাংশ ভালো সড়ক প্রয়োজন। বাংলাদেশে রয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। আবার রাজধানীর গণপরিবহনের চালকদের অনেকেরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চলাচলে নেই শৃঙ্খলা। ফলে যানজটের পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনাও। যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনে রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো একান্ত জরুরি। বুয়েটের গোলটেবিল বৈঠকে শৃঙ্খলা ফেরানো বিষয়ক একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, রাজধানীতে ১৫০ থেকে ২০০ বাস সার্ভিস চলছে। এই সার্ভিসে প্রতিটি রুটে একটি করে কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমবে। সেবাদান সংস্থাগুলোর বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে জনভোগান্তি বাড়ছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীর অনেক রাস্তা বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও মেট্রো রেল, কোথাও ইউলুপ বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। ফলে নির্বিচারে চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। সেবাসংস্থাগুলো সমন্বয় করে এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা গেলে নগরবাসীর ভোগান্তি কমবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নগরীর অনেক ফুটপাত নতুন করে চলে গেছে হকারদের দখলে। ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং যানজট আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।যানজট নিরসনে সব কিছুর আগে প্রয়োজন সদিচ্ছা। দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট জাতির অগ্রগতির জন্য বিরাট এক বাধা। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হয়েছে। রাজধানী ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু চলাচলের বিকল্প মাধ্যম নেই। যানজট নিরসনে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। গণপরিবহণ সংস্থাগুলো কোম্পানিভিত্তিক পরিচালিত হওয়ায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এ ধরনের ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানিকে গণপরিবহণের লাইসেন্স বা দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে গণপরিবহণের মাঝে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে পরিবহণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। রাজধানীর যানজট নিরসনে বর্তমান জনবান্ধব সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত