শিরোনাম

আহলান সাহলান মাহে রমজান এ মাসের পবিত্রতা রক্ষা হোক

০১:১৫, মে ১৬, ২০১৮

রাত পোহালেই শুরু হবে সিয়ামের মাস রমজান। সারাবিশ্বের মুসলমানেরা এই মাসটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ মাহে রমজান। সাবালক এবং সুস্থ সকল নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা ফরজ। ধর্মীয়ভাবে এ মাসকে বিশেষ মর্যদার কথা পবিত্র কোরআন কারিম ও হাদিছে উল্লেখ করা হয়েছে। সারাদিন সমস্ত পানাহার থেকে নিজেকে বিরত রাখার নাম হচ্ছে রোজা। কেবল পানাহার থেকে নয় সব ধরনের লোভ লালসা আর প্রতারণা থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয় রমজান। রমজানকে তাই কেবল উপবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা মানেই প্রকৃত শিক্ষা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। রোজাদারের ওপরে যা কিছু ফরজ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সমস্ত লোভ লালসা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। রমজান সম্পর্কে বলা হয়েছে, অতীতে অনেক জাতির ওপরে রোজা ফরজ করা হয়েছিলো যেমন তোমাদের ওপর করা হয়েছে। একজন সুস্থ পূর্ণাঙ্গ বয়সী নারি-পুরুষ যদি রমজানের রোজা থেকে বিরত থাকে তার ওপরে আল্লাহতালা প্রচ-ভাবে নাখোশ হন। এই রমজান মাসেই ইসলামের সর্বশ্রেষ্ট গ্রন্থ সারা মানবজাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কোরআন শরীফ নাজেল হয়। কোরআন বিষয়ে বলা হয়েছে, এটি কেবল মুসলমানের জন্য নয়, এটি সারা বিশ্বের মানবের জন্য নাজিল হয়েছে। যেখানে ধর্মীয় আইনকানুনের পাশাপাশি সমাজিক রাষ্ট্রীয় জীবনাচারের কথা বলা হয়েছে। মুত্তাকিনদের জন্য এই গ্রন্থ বলে স্বয়ং আল্লাহতালা ইরশাদ করেছেন। মানবজাতির জন্য সেই পবিত্র কোরআন শরীফ এই মাসেই নাজেল হওয়ার ফলে মাসটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবেহ সাদক থেকে মাগরিবের আজানের আগ পর্যন্ত আল্লাহর রাহে ঈমানদার মানুষেরা রোজা পালন করে থাকেন। আমাদের দেশে অবশ্য রোজার সময় এলেই বাজার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে ইফতারি আইটেমের দাম। ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজ, বেগুনসহ বিভিন্ন মাছের বাজারে আগুন জ্বলে ওঠে। এক শ্রেণির লোভী মুনাফাখোর ব্যবসায়ী মানুষের কষ্ট বাড়াতে ইচ্ছেমত মালের দাম বাড়িয়ে দেয়। শুধু যে রোজার সাথে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বাড়ে এমন নয়, সুযোগ বুঝে তারা সব মালের দাম বাড়িয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলো। এবছরেও তার ব্যতিক্রম নয়। গত সপ্তাহ খানেক থেকেই বাজারে তার লাভা ছড়াতে শুরু করেছে। অনেক পণ্য কেজিতে ১০/১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার যতই হুশিয়ারি দিচ্ছেন এরা ততই বেপরওয়া হয়ে উঠছেন। কৃত্রিম ঘাটতি দেখিয়ে তারা তাদের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করার এই প্রহসনে মেতেছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বাজারে থাকা সত্ত্বেও এদের রোখা যাচ্ছে না। সরকার এবং কর্মরত প্রতিষ্ঠানের দায়দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকা- দেখে মানুষ শংকিত। ভোক্তা অধিকার বা সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ অথবা সিটি করপোরেশনের তদারকি কোনকিছুই কাজে আসছে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে তা যে কতটা মারাত্মক হতে পারে বর্তমান বাজার তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতি বছরই রোজার আগে ব্যবসায়ীরা সরকারের সাথে আলোচনা করে বাজার দাম বাড়বে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এবারেও তারা তা দেয়। প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকাশ্যে সরে না এলেও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে বছরের বাকি এগারো মাস ব্যবসা করলেও রমজান মাসে তারা ব্যবসায়ী মুনাফা থেকে বিরত থাকেন। এই মাসটিতে তারা যতটা সম্ভব মালের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সচেষ্ট হন। বাড়তি দাম নিয়ে যাতে রোজাদারকে ভাবতে না হয়, সেজন্য তারা স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে এই নিয়ম চালু করেছেন। অথচ আমাদের দেশের চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। সারা বছর তো ব্যবসা করবেনই আবার রমজান মাসে বহুগুণ বেশি লাভ ঘরে তুলবেন। মানুষের নৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন না হলে জোর করে বা আইন করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটাই অসম্ভব। যারা বিক্রেতা একই সাথে অধিক মুনাফার জন্য বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন তাদেরকে বুঝতে হবে- তারই আরেক ভাই দাম বেশি দিতে যেয়ে বেকায়দায় পড়ছেন। দাম বাড়ার কারণে অনেকের ঘরে হয়তো নিয়মিত ইফতার এবং সেহরি হচ্ছে না। কেবলমাত্র পানি দিয়ে তিনি ইফতারি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু পণ্যের দাম যদি কমানো যেতো বা লাভের অঙ্কটা বশে রাখা যেতো তাহলে অনেকেরই রোজা রাখাটা সহজ হয়ে উঠতো। যারা রেজা রাখবেন তারা না খেয়ে হলেও বা সামান্য খেয়ে হলেও আল্লাহর ভয়ে রোজা পালন করবেন। কিন্তু যাদের কারণে তিনি অর্ধাহারে বা অনাহারে রোজা পালনে বাধ্য হলেন, তাদের জন্য আল্লার লানত তোলা থাকবে। রোজাদারকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবিকে আরো গতিশীল করতে রাজধানীর মহল্লায় মহল্লায় তাদের ট্রাক দিয়ে পণ্য পৌছে দিতে হবে। সংশ্লিস্ট বিভাগ, সরকার তাদের তৎপরতার মাধ্যমে অসাধু মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কালো হাত একটু হলেও রুখে দেবেন পবিত্র রমজানের মাসে এই প্রত্যাশা আমাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত