শিরোনাম

হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণা; ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জরুরি

০১:৪৯, মার্চ ১৩, ২০১৮

পবিত্র হজ নিয়ে হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। আইনের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দায়ীরা যেমন পার পেয়ে যাচ্ছেন তেমনি সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়ছেই। টাকা দিয়ে হজে যাওয়া যাবে বা হজে যাওয়ার পর যেসব পরিষেবা পাওয়ার কথা তা পাওয়া যাবে সেটি নিয়ে হজগামীদের ভিতরে হতাশা বিরাজ করছে। দেশের বেশিরভাগ হজ এজেন্সি তার দায়িত্ব হয়তো ঠিকমত পালন করে। কিন্তু হাতেগোনা কিছু হজ এজেন্সির প্রতারণা মানুষের ভিতরে এই ভীতি ছড়িয়ে যাচ্ছে। ইসলামের পাঁচটি মৌলিক বিধানের মধ্যে হজ পঞ্চম স্তম্ভ। যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো তাদের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজকে ফরজ করেছেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল কারোর ওপর হজ ফরজ না হলেও যেকোনো মুসলমান জীবনে একবার হজে যাওয়ার আকাক্সক্ষা অন্তরে পোষণ করেন। অনেকেই কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে সেই টাকায় হজে যাওয়ার নিয়ত করেন।
হজে যেতে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো মাধ্যম ছাড়া যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অতি সহজেই হজ এজেন্সিগুলো তাদের খরিদ্দার পেয়ে যায়। আর তখনই সে প্রতারণার সুযোগ পায়। এই ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এদের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। হজযাত্রীদের নিয়ে প্রতারণা বিষয়ে একটি সংবাদ গতকাল দৈনিক আমার সংবাদে ছাপা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে এজেন্সিগুলোর প্রতারণাসহ নানান কিচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদ থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে হজযাত্রীদের সাথে প্রতারণা এবং অনিয়মের কারণে শুধু ২০১৭ সালে ১৬৪টি এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় সরকার। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কিছু স্থগিত করাও হয়। জামানত বাজেয়াপ্ত ছাড়াও বেশকিছু এজেন্সিকে জরিমানা করা হয়। তবে তারা যে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আইনের ফাঁকফোকড় যেমন তাদের সুবিধা করে দেয়, তেমনি তারা নাম বদলেও এই ব্যবসা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাতিল করা বা স্থগিত হওয়া এজেন্সিগুলো নামে বা বেনামে আরো বেশ কয়েকটি লাইসেন্সের মালিক। এছাড়া নিজের নাম বাদেও পরিবারের অন্য সদস্যের নামে লাইসেন্স রয়েছে। তারা আবারো এইসব নামে যে ব্যবসা চালিয়ে যাবেন তা সহজেই অনুমেয়। এবিষয়ে সরকার কি ভাবছেন তার বিবরণও এই প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান জানান, বাতিল এজেন্সিগুলো সরকারের এ অবস্থানের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিয়েছে। তারা রিভিউ করেছে। এই সপ্তাহ, আগামী সপ্তাহ বা সুবিধামত সময়ে আদালত শওয়াল করে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। হজ একটি অতি স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা জাতি হিসাবে ধর্মভিরু।
আমাদের দেশে কিছু স্বার্থান্বেষী লোক আছেন যারা ধর্মের নামে সমাজে এবং রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকেন। একটু সুযোগ পেলেই তারা দাবার ছকের মতো ঘুটি চালান। মানুষ পরিস্থিতি বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, তাদের এই ফাঁদে পা দেয়। হজের মতো একটি বিষয় যখন অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তখন অপ্রচারকারীদের পোয়াবারো। তারা বিষয়টি নিয়ে এমন শোরগোল তোলেন দেখে মনে হয় সরকার এসব কাজের সমর্থন দিচ্ছে অথবা সরকারের ছত্রচ্ছায়া এসব ঘটছে। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। কোনোভাবেই হজ পালনকারীদের স্বার্থ বিঘিœত হোক সেটি কাম্য নয়। সরকারকে শক্ত হাতে হজ এজেন্সির অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মোকাবিলা করবে। সেই সাথে নিরুদ্বিগ্ন হজ পালনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে– এই প্রত্যাশা আমাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত