শিরোনাম

প্রাথমিক শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ করতে হবে সরকারকেই

১০:১৬, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ ইতিবাচক। এই ইতিবাচকতার কারণে দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার শতভাগ শিক্ষার হার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম পদক্ষেপ। বাংলাদেশে শিক্ষার মান নিয়ে সরকারের পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষার মাত্র ৪০ শতাংশ স্কুল থেকে পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন শীর্ষক এই গবেষণায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। পঞ্চম শ্রেণির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীরই গণিত শিক্ষার মান নিম্ন। অন্যদিকে, তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলা ভাষা শিক্ষার মান নিম্ন। বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০০। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ। ফলে, শিক্ষা গবেষকরা বলেছেন, এসব স্কুলের শিক্ষার মানের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। স্কুলে শিক্ষা না পেয়ে শিক্ষার্থী কোচিং নির্ভর হয়ে পড়ছে। গণিতের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাথমিক স্কুল স্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চলে এই চিত্র আরও খারাপ। এমনিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, তারপর একেকজনের মেধার স্তর একেক রকম। এই বিষয়টিও সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মানের দিকে সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত। কারণ গোড়ায় গলদ রেখে শিক্ষার মান বাড়ানো যাবে না। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো এবং ঝরে না পড়ার দিকে নজর দিলেও, শিক্ষার মান নিয়ে দিন দিন আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে নানান আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে প্রাথমিক স্তরেই শিশুদের শিক্ষা বাধাপ্রাপ্ত হয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে শিশুর শিক্ষাগ্রহণ বলতে গেলে অসমাপ্তই থেকে যায়। বিশেষ করে দেশের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার শিশুরা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই ঝরে পড়ে। কারণ তাদের শ্রমজীবী বাবারা মনে করে স্কুলে লেখাপড়ার পরিবর্তে মাঠে কাজ করলেই অধিক লাভজনক। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক লাভ পাওয়া যায়। শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকে ঝরে পড়ার পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমান, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে দারিদ্র্য। এ ছাড়া দেশের দারিদ্র্যপীড়িত অনগ্রসর এলাকায় মেয়ে-শিশুদের, বিশেষ করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির মেয়েদের নানারকম নিরাপত্তার অভাবও এ ক্ষেত্রে জড়িত। শিশুদের ঝরেপড়া রোধ করা গেলে বাস্তবিক অর্থে দেশে সাক্ষরতার হার যেমন বাড়বে একইভাবে বাড়বে শিক্ষার মানও। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে, ঝরে পড়ার হার কমাতে উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোসহ নানা ইনসেনটিভ বাস্তবায়িত করছে সরকার। এ ছাড়া দেশের কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিও চালু আছে। এ ধরনের কর্মসূচি শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক। তবে সবার আগে নজর দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষার মানের দিকে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় অর্ধেক শিশু পঞ্চম শ্রেণি সমাপ্ত করতে পারে না। এটা একটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের খুব সুখকর চিত্র নয়। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে অর্থবহ এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এ চিত্রের আমূল পরিবর্তন করতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত