শিরোনাম

মরণব্যাধি ব্লু হোয়েল গেম: সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি

১০:৪০, অক্টোবর ১২, ২০১৭

রাজধানীর হলিক্রস স্কুলের ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন ব্লু হোয়েল গেমস খেলে আত্মহত্যা করেছে, এমন খবর মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। যদিও বর্ধনের পরিবার অস্বীকার করেছে, তাদের মেয়ে এই গেমস খেলে আত্মহত্যা করেনি। কিন্তু বর্ধনের মা গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে প্রমাণিত হয় বর্ধন ব্লু হোয়েল গেমস এ আসক্ত ছিলো। ব্লু হোয়েল বা এর মতো জীবন বিনাশী কোনো গেমস বিষয়ে জানা থাকলে তা ফোন করে জানানোর আহবান জানিয়েছে বিটিআরসি। এ ধরনের গেম বাংলাদেশেও খেলা হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে বিটিআরসির পক্ষ থেকে। ইন্টারনেটে ব্লু হোয়েল গেমটি খেলতে গিয়ে অনেকে আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়ে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিটিআরসিকে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে বলেছিলেন। সম্প্রতি ভারতের ব্লু হোয়েল গেমটি খেলে কয়েকজনের আত্মহত্যার খবর আসার পর দেশটির সরকার এ জাতীয় গেমসের লিংক বন্ধের নির্দেশনা দেয়। জানা যায়, ব্লু হোয়েল একটি অন লাইন গেম যা বিভিন্ন স্টেজে খেলোয়াড়কে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়। শুরুতে হালকা কিছু কাজ দেয়া হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সব কাজ করতে হয় খেলোয়াড়কে। কখনো তার সঙ্গীকে খুন করা হয়, আহত করা এবং শেষে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বলা হয় এ গেমসে। সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৩ সালে রাশিয়ায় ‘এফ ৫৭’ নামে যাত্রা শুরু করে গেমটি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেই কিন নামের এই মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী এই গেমটি তৈরি করেন। তার দাবি, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, সমাজে যাদের কোনো মূল্য নেই বলে বিবেচনা করেন, তাদের আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে সমাজকে ‘পরিষ্কার’ করা। এই গেম খেলে ১৬ জন কিশোরীর আত্মহত্যার পর বুদেই কিনকে রাশিয়ায় আটক করা হয়। এই খেলায় কিশোর-কিশোরীরা বেশি আক্রান্ত। এ সর্বনাশা খেলা সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের সুশীল সমাজের সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আত্মহত্যার প্রবণতা কিন্তু একটা নেশা। সামাজিক নানা কারণে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার নেশা জাগে। প্রায়ই পত্রিকায় পাওয়া যায় কিশোরীরা গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরের কড়িকাঠে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ছেলেমেয়েরা কেউ কেউ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় আত্মহত্যা করে। খবর পাওয়া যায়, মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে কিশোর-কিশোরীরা আত্মহত্যা করছে। আত্মহত্যাও কিন্তু ইয়াবা বা মাদকদ্রব্যের মতো নেশাকর। এই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক পৃথিবীর প্রযুক্তি। প্রযুক্তির অপব্যহারের চূড়ান্ত নিদর্শন ব্লু হোয়েল গেম। প্রযুক্তির প্রয়োগ যেহেতু ঠেকানো যাবে না তাই শিশু-কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। এক সময় প্রচলন ছিলো ভিডিও গেম খেলা। সেটা খেলতে গিয়ে অনেক কিশোর চোখের সজীবতা এবং জ্যোতি হারিয়েছে; গভীর অধ্যনে বিমুখ হয়ে পরীক্ষায় ফল খারাপ করেছে। এখন ফেসবুক ব্যবহারের প্রচলন বেড়ে গেছে। কিশোর-কিশোরীরা এর মাধ্যমে অশালীনতা চর্চার অবকাশ পাচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে মোবাইল। মোবাইল সব চাহিদা পূরণ করতে পারে ভালো-মন্দ দুটোই। অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে, কিশোর-কিশোরীরা যেন অবাধে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে।
অপূর্বা বর্ধন কিন্তু মোবাইলে নানা খেলায় আসক্ত ছিলো। মোবাইলে ব্লু হোয়েল জাতীয় গেম খেলায় ডুবে গিয়ে স্বাভাবিকতা হারিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ধন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার আগে কিছুতেই ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেয়া ঠিক নয়। ব্লু হোয়েল গেম বাংলাদেশের ইন্টারনেটে ঢুকেছে কিনা তা তন্ন তন্ন করে দেখতে হবে। এই আত্মঘাতী প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিহত করতে হবে। না হলে আমাদের সম্ভাবনাময় প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। মাদকাসক্তের মতো ব্লু হোয়েল দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে। লক্ষ্য রাখতে হবে সুস্থ বিনোদনের দিকেও। কিশোর-কিশোরীরা যেন অনাবিল আনন্দময় পরিবেশে বিকশিত হতে পারে। সাংস্কৃতিক বিনোদন শিশুর চিত্তকে ফুলের মতো পবিত্র করে। পড়ার জন্য, ক্লাসে প্রথম হওয়ার জন্য নিষ্ঠুর আচরণ করা, চাপ সৃষ্টি করা, গালমন্দ, মারধর করা একেবারে অনুচিত। কিশোর মনের ওপর যেন মাতৃস্নেহের প্রভাব কাজ করে। তাতেই ব্লু হোয়েলের মতো গেম থেকে বিরত থাকবে কিশোর-কিশোরীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত