শিরোনাম

ঢাবিতে শিক্ষিকাকে আক্রমণ শিষ্টাচারের লংঘন কাম্য নয়

১২:৪৯, জুন ১৬, ২০১৭

একটি সহযোগী দৈনিকের খবরের শিরোনাম ‘ঢাবিতে শিক্ষিকাকে তেড়ে মারতে গেলেন শিক্ষক।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক তানিয়া রহমানের সঙ্গে অশালীন ও মারমুখো আচরণের অভিযোগ উঠেছে একই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক তানিয়া রহমান। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপ-উপাচার্য। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘অধ্যাপক সামাদ যে অশালীন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করেছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে অনাকাক্সিক্ষত ও অগ্রহণযোগ্য। তার এ ধরনের আচরণে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। সভায় অধ্যাপক সামাদ আমাকে নানান ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। কোনো সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্পর্কে তিনি অমার্জিত, অশালীন ও অশ্রাব্য শব্দ চয়নসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপবাদ সংবলিত বাক্য উচ্চারণ করেন।’ সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, গত সোমবার ১২ জুন, ইনস্টিটিউটের পূর্ব নির্ধারিত সিঅ্যান্ড ডি কমিটির সভা ছিলো সকাল ১০ টায়। অধ্যাপক সামাদ তখনো না পৌঁছায় তার জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করে সভা শুরু হয়। সভা শেষ হওয়ার পরে এসে উপস্থিত হন তিনি। তখন সব সদস্যের সামনে তিনি অধ্যাপিকা তানিয়া রহমানের কাছে জানতে চান কেন তার জন্য আরো অপেক্ষা করা হলো না। ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অধ্যাপিকা তানিয়ার ওপর। মারমুখো ভঙ্গিতে তেড়ে আসেন। এর আগেও একাধিকবার এমন ধরনের অশালীন ও অশ্রাব্য আচরণ করেছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপিকা তানিয়া রহমানের সঙ্গে। একজন অধ্যাপকের এ আচরণে একজন অধ্যাপিকা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতেই পারেন। অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অধ্যাপক সামাদ বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একটি জামায়াত-শিবির চক্র সংঘবদ্ধ ভাবে তার বিরুদ্ধে লেগেছে। নিজের অপরাধ জামায়াত-শিবির চক্রের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে কেন? বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ। ওখানে পুঁথি মুখস্থ করানো হয় না, কালচার শিক্ষা দেয়া হয়। আর কালচার কাকে বলে তা জানতে হলে পড়ে দেখুন মনীষী মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি-কথা’ বইটি। নারীদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করা শিষ্টাচার বহির্ভূত। অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে শিষ্টাচার সম্মতভাবে অভিযোগ করতে হবে। শক্তি নয় যুক্তি অবলম্বন করতে হবে। পুরুষে পুরুষে হাতাহাতি করা যায়, একজন সম্মানিতা শিক্ষিকার সঙ্গে তা করা যায় না। তদুপরি তিনি ইনস্টিটিউটের পরিচালক। নির্ধারিত সময় শুরু হওয়াইতো উচিত অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ইনস্টিটিউটের সভা। এতবড় বিদ্যাপিঠ যদি যথাযথ নিয়ম মেনে না চলে তাহলে অন্যরা কী করবে? জবাবদিহি করার কথা অধ্যাপক সামাদের, কেন তিনি একেবারে সভা শেষ হওয়ার পর এলেন? উল্টো তিনিই ইনস্টিটিউটের পরিচালককে চাপ সৃষ্টি করে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তার জন্য অপেক্ষা করলেন না! অর্থাৎ ওইদিন তিনি যদি না আসতেন তাহলে সভাই তার জন্য বন্ধ করা দরকার ছিলো বলে তিনি মনে করেন। মগের মুল্লুক আর কাকে বলে! বই মুখস্থ করা চাকুরিজীবীরা কখনো শিক্ষক হতে পারেন না। মোহিতলাল মজুমদার মাত্র বিএ পাস ছিলেন। তিনিও এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন। অধ্যাপক সামাদের ব্যাপারটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের একটি অপচিত্র হিসেবে আমাদের সামনে উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের দলাদলি, ঠেলাঠেলি লেগেই আছে। বিভিন্ন ধরনের নির্বাচন শিক্ষকদের মধ্যে ‘সাদা-নীল’ দলে বিভক্ত করেছে। দলীয় মনোবৃত্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এ জন্যই সামাদ সাহেব জামায়াত-শিবিরের দোহাই দিয়েছেন। ভোটাভুটি এই ক্ষতিটা ডেকে এনেছে। যে অপরাধ একজন মাথাগরম ছাত্র করতে পারে, সে অপরাধ একজন অভিভাবকতুল্য শিক্ষক করতে পারেন না। 

তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য দু’জনকেই অনুরোধ করবো, অধ্যাপিকা তানিয়া এবং অধ্যাপক সামাদের ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার প্রতি কোনো উদ্ধত আচরণ করা হয়েছে কী না তার প্রমাণ বের করতে হবে, অন্যায়ের প্রতিকার করতে হবে। যে বিদ্যাপিঠে আমাদের ছেলেমেয়েরা জ্ঞান অর্জন করতে যায়, সেখানে শিক্ষকদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। যিনি দোষী তাকে শাস্তি পেতে হবে। না হলে সামনে আরো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে। আরো সম্মানিতা শিক্ষিকা পুরুষ শিক্ষকদের হাতে অপমানিতা হবেন। এমন যেন আর না হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয় তা মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। কোনো কারণে এই ঘটনা চাপা পড়লে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে। কোনোভাবেই আমরা শিষ্টাচারের লংঘন চাইতে পারি না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত