শিরোনাম

পাহাড়ে মৃত্যুর বিভীষিকা বন্ধ করা হোক এই ধস

১২:০৪, জুন ১৫, ২০১৭

দুইদিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় মহাবিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তিন জেলায় দুই সেনা কর্মকর্তা, নারী, শিশুসহ অন্তত ১৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। এক সেনা সদস্যসহ অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি জেলায়। গণমাধ্যমে এসেছে, এত লাশ কখনো দেখেনি রাঙামাটির মানুষ। চট্টগ্রামে দুই পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। মানিকছড়িতে নিহত হয়েছেন ৪ সেনা সদস্য। পাহাড় ধসের পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চট্টগ্রাম রাঙামাটি সড়কে যায় সেনাবাহিনীর মানিকছড়ি ক্যাম্পের একটি দল। তারা গত মঙ্গলবার সকালে সড়কের মানিকছড়ি অংশেই শুরু করেন উদ্ধার কাজ। কী মর্মান্তিক! সেই উদ্ধার তৎপরতা চলাকালেই বেলা ১১ টার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপরই হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফিট নিচে সটকে পড়েন। এ ঘটনায় দুই কর্মকর্তা সহ ৪ সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। এক সেনাসদস্য এখনো নিখোঁজ। দুর্ঘটনায় আহত ৫ সেনা সদস্যকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলায় মোট ৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশে ৪ পরিবারের ১৬ জনসহ ২৫ জন, বান্দরবানে ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহতরা আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় উদ্ধার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা আছে। গণমাধ্যমসূত্রে জানা যাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে দেশের দক্ষিণপূর্বের জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ভারিবর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ার তা-বে পাহাড় ধস, ঢল, দেয়াল চাপা ও বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের ঘটনায় তিন পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়িতে হতাহতের এই চরম বিপর্যয় ঘটেছে। ভারিবর্ষণে সহস্রাধিক বাড়িঘর বিধ¦স্ত হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে ভেসে গেছে মানুষের বিভিন্ন সম্পদ। চলমান প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, সংসদের স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলায় প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ও দলীয়ভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুইডেনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার আগে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে এটা প্রথম নজির যে, উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে ৪ বীর সৈনিক শহীদ হয়েছেন। দেশপ্রেমিক সৈনিকবৃন্দ উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের বিধিলিপি হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় প্রতিবছর ভারিবর্ষণে, পাহাড়ী ঢলে, পাহাড় ধসে হতাহত হওয়া। এর টেকসই কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। মানুষের কালোহাতই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। বনদস্যু, লোভী ক্ষমতাশালী লোকজন পাহাড় কেটে কেটে পাহাড়কে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। একটি সহযোগী দৈনিক জানাচ্ছে, চট্টগ্রামের ১৩ টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে সহায়তা করছে পুলিশ প্রশাসনসহ ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষের অসাধু ব্যক্তিরা। পাহাড়ে ফাটল দেখা দেয়া সত্ত্বেও ভূমিদস্যুরা ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ ও হতদরিদ্র মানুষকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের দুর্নীতিবাজরা পাহাড়ের পাদদেশ টলিয়ে দিচ্ছে। গাছপালা নিধন করছে। এর ফলে প্রতিবছর পাহাড় ধসে, পাহাড়ী ঢলে মানুষের মৃত্যু ঘটছে। একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের সাতটি স্থানে মাটিচাপায় ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। এ ভাবে পর পর ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাহাড় ধসে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এর স্থায়ী প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা হলো না, ব্যাপারটা দুঃখজনক। সরকারকে অনুরোধ জানাবো, অসাধুদের কালোহাত ভেঙে ফেলতে। পাহাড় ধসের স্থায়ী প্রতিকারের পদক্ষেপ নেয়া না হলে প্রতিবছরই মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত